খান আবু বকর সিদ্দীক এর এক গুচ্ছ কবিতা

pictur.abu 02

স্বপ্ন দেখি নিশুতিতে

নদী আমায় ডাকে
কাশফুলের নরম ছোঁয়ায় ঘুমিয়ে রই একা
বসন্ত ঘাসে।
স্বপ্ন দেখি নিশুতিতে
ডুবে রই কবিতায়,
দখিনের ফিনফিনে বাতাস বাতায়ন খোলে
জল রঙের পিরান উড়ায় মন।

ভেসে যাওযা পদ্মপাতায় ভাসিয়েছি পিঁপিলিকা
ঢেউয়ে ঢেউয়ে খেলে মরা দীঘির জল।
লিখি ছেঁড়া শুকনো পাতায় কবিতার পঙ্ত্তি
আবৃত্তি করে সুখ পাই রোজ রোজ।
নিঃশ্বাসের বাড়ান্দায় দাঁড়িয়ে যায় নুপুর পড়া
কবিতার ছন্দে,
আলোর মিছিলে ব্যানারে লিখি তাঁর কথা
বেঁচে থাকার অধিকার।
ভূমধ্যসাগরের তলদেশ থেকে যাঁকে কুঁড়িয়ে
এনেছি, তাঁকে নিয়ে টানাটানি কবিতার
ঠোঁট রচনার।
সেখানেও আমি পরাজিত সৈনিক রুগ্ন
উড়াল পাখি।
এখন আর স্বপ্ন দেখিনা অট্টালিকায় ঘুমের
দেখিনা স্বপ্ন পৃথিবী আমার।
শুধু কবিতার মাঝে নিজেকে জড়াই
কুঁড়াই নির্মল বাতাস, জোছনা
ঝরে পড়া ফুল।
ডুবেই রই কবিতায়।

জোয়ালে বাঁধা

আমার বপন করা বীজ
তোমার জমিনে ফসল ফলেছে,
আমি কাটবো মৌসুমে
তুমি বিলিয়ে দিতে চাও কাঙালেরে,
আমি যে পাহাড়ের পাদদেশে
বাস করা তোমার কাঙাল।
তোমার জমিনে আবাদ করতে যেয়ে
ভোঁতা হয়েছে আমার লাঙলের ফলা,
ভোরের শিশিরে পা ফেলে ফেলে
জোয়ালে বেঁধেছি নীল কালো ষাঁড়,
শিং উচিয়ে তেঁড়েছে আমায়, খেয়েছি তাঁড়া
প্রখর রোদ্রে।
সেই জমিনের ফসল চায় লুটেরা,
তুমি বিলিয়ে দিয়ে সুখ চাও
আমার অজান্তে।
যদি তাই করো দেওয়ানী মোকদ্দমায়
তোমার কারণ দশাতে হবে
আমি বাদী হলে।
তুমি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আমার চোখে চোখ
রেখে
ফসলের দাম মিটিয়ে দেবে,
তাতেই আমার সুখ।
আমি তোমার জোয়ালে বাঁধা থেকে
তোমার জমি করবো চাষ,
এটাই আমার সুখ।

চন্দ্রমুখী

শঙ্খনীল মহুয়া নুপুর বাজায়
খেমটা তালে,
ঘুঙুর বাজায় নির্ঝুম দ্বীপে
হয়তো পরী চন্দ্রমুখী
স্বপ্ন দেখে মায়ার জালে।
কোমড় দোলায় কাশফাগুনে
ষোড়শীরা নিত্য গানে,
আবির ছোঁয়ায় রংধনুরা
ডানায় উড়ায় মেঘের হাওয়ায়
শালিক ঝারে পালক ধানে।
ঐ তো দূরে সন্ধ্যা নামে
চন্দ্রমুখী নিত্যপরী,
ডানা মেলে বাতায়নে
ঝুমুর ঝুমুর নিত্যতালে
বাজায় হাতের কাচের চুড়ি।
রাত দুপুরে মাতাল হাঁটে হেলে দুলে
নিঘুম দ্বীপে,
নীল ভোমরার গুনগুনানি
কৃষ্ণচূড়ার ফুলে
আবার ওড়ে ছিপে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here