ফলো আপ: লৌহজংয়ে ছাত্রলীগের সভাপতিকে পুলিশ ধরতে পারেনি

map-of-munshiganj-মুন্সিগঞ্জের-মানচিত্র

১৩ জুলাই ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম) : লৌহজংয়ের সহকারী পুলিশ সুপারের গাড়িতে হামলার ঘটনায় লৌহজং উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ৭ জনকে আসামি করে যে মামলা হয়েছে তাদের কাউকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। তাদের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে হানা দিলেও তাদেরকে এখনো পাওয়া যায়নি। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে আসামিরা কেউ এলাকা নেই। তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আতœ গোপনে রয়েছে। তাদের ধরতে পুলিশ মরিয়া হয়ে একাধিকবার তাদের ডেরায় হানা দিয়েছে। স্থানীয় আ’লীগ নেতারা বিষয়টি মিমাংসার চেষ্ঠা করলোও আসামিরা বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি ভেস্তে যায়। অনেকের ধারণা ভয়ে তারা সেই দিনের বৈঠকে আসেনি।

এদিকে মুন্সিগঞ্জ ২ আসনের এমপি সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি দেশে নেই। তিনি দেশে ফিরলে হয়তো বা এই বিষয়ে কোন সুরাহা হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। আজ কালকের মধ্যে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।এ মামলার আসামিরা হলো- লৌহজং উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর ফারুক রাজীব, রাজু, হাবিব, আসিক, আশরাফুল ইসলাম শাওন।
রোববার রাতে লৌহজং থানায় এ মামলা করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর)-এর দেহ রক্ষী ও গাড়িচালক কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন। এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় লৌহজংয়ের হলদিয়া এলাকায় স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীরা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানসহ তার স্ত্রী সন্তানদের লাঞ্ছিত ও দেহরক্ষী কনস্টেবল রফিকুল ইসলামকে মারধর করে আহত করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার হলদিয়া বাজার সংলগ্ন নির্মাণাধীন ব্রিজের কারণে ওই রাস্তায় যানজট লেগে ছিল। সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান লৌহজংয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে পিতা-মাতা ও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে লৌহজংয়ের মাওয়া অভিমুখে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার গাড়িটি হলদিয়া এলাকার রাস্তায় যানজটে আটকা পড়ে। যানজট এড়িয়ে অন্যান্য গাড়ি ওভারটেক করে তার প্রাইভেটকারটি আগে যেতে চাইলে বাধা দেয় যানজট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবক কিছু এলাকাবাসী। এ সময় এএসপি’র দেহরক্ষী কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম গাড়ি থেকে নেমে স্বেচ্ছাসেবক রাজু বেপারী (২৮)কে মারধর করে।

পরে রাজু ছাত্রলীগের লৌহজং উপজেলা সভাপতি ওমর ফারুক রাজীবকে বিষয়টি ফোনে জানালে রাজীব ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এ সময় তারা সহকারী পুলিশ সুপারসহ তার স্ত্রী-সন্তানদের লাঞ্ছিত করে ও দেহরক্ষীকে মারধর করে আহত করে। পরিচয় জানতে পেরেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সহকারী পুলিশ সুপারসহ তার পরিবারের লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম খান ছাত্রী লীগের নেতা কর্মীদের নিবৃত করতে গেলে তাঁর উপরেও কিলঘুষি পড়ে। এ ঘটনার ক্ষুব্ধ পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকতাসহ র‌্যাব’র একাধিক টিম ঘটানস্থলে ছুটে আসেন। পরে হলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ সিকদার, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরদৌস আলম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মো. সামসুজ্জামান বাবু, লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ আনিসুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা। তবে কোনো রকম মীমাংসা ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here