ল্যাপটপের যত্ন-আত্ত

image-24991

১৭ জুলাই  ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক)  প্রযুক্তির এই যুগে বর্তমানে কর্মময় জীবনে ল্যাপটপ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তবে আমরা যদি কিছু নিয়ম মেনে যত্ন করে আমাদের ল্যাপটপ ব্যবহার করি,

তাহলে এর স্থায়িত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে। ভালো থাকতে পারে ব্যাটারি লাইফও। চলুন, জেনে নিই প্রিয় এবং প্রয়োজনীয় ল্যাপটপটির যত্ন কীভাবে করতে হবে। এ বিষয়ে খুঁটিনাটি জানানোর জন্য এই আয়োজন। এসবের মধ্যে কিছু ইন্টারনাল সিস্টেমের টিপসও আছে। তা শুধু ল্যাপটপই নয়, আপনার ডেস্কটপের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

এক. ল্যাপটপের ওপর ভারী কিছু রাখবেন না। যেহেতু ল্যাপটপের পুরুত্ব খুব বেশি নয় এবং এর ওপর প্রান্তে ডিসপ্লে (মনিটর) অংশ থাকে, সেহেতু ভারী কোনো কিছু রাখা বা কোনো চাপ পড়ার কারণে ল্যাপটপটির ডিসপ্লেতে সমস্যা হতে পারে। এখানে জানিয়ে দেওয়া ভালো, প্রযুক্তির বাজারে ডিসপ্লে পরিবর্তন করাটা কিছুটা ব্যয়বহুল।

দুই. প্রয়োজন শেষে আপনার ল্যাপটপটির লিড নামিয়ে রাখুন। এতে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা পাবে আপনার ল্যাপটপ। এ ছাড়া স্ক্রিনে ময়লা বা দাগ পড়বে না।

তিন. অনেক সময় আমরা হাতের ওপর ল্যাপটপ রেখে কাজ করি। এ ক্ষেত্রে ল্যাপটপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানোর সময় কখনোই শুধু ডিসপ্লের (মনিটর) অংশে হাত রেখে সরাবেন না। হাতে রেখে কাজ করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন, যেন আপনার হাত থেকে ল্যাপটপটি নিচে পড়ে না যায়;

যদিও এখন অনেক ল্যাপটপেই ‘ফল প্রটেকশন’ দেওয়া থাকে তবুও সেই প্রটেকশনটি খুব কম দূরত্বে থেকে পড়ার ক্ষেত্রেই কাজ করে। মনে রাখবেন, ইলেকট্রনিকস দ্রব্যাদির গ্যারান্টি অথবা ওয়ারেন্টির ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম-কানুন উল্লেখ থাকে এবং সেই নিয়মের বাইরে কোনোভাবে যদি আপনি আপনার ডিভাইসটি নষ্ট করে ফেলেন সে ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি অথবা গ্যারান্টি কাজ করবে না।

চার. স্ক্রিন প্রটেক্টরের সঙ্গে সঙ্গে কিবোর্ড প্রটেক্টরও ব্যবহার করুন। এতে কিবোর্ডের কিগুলোর ফাঁক দিয়ে ধুলো জমবে না। এ ছাড়া আপনি মাঝে মাঝে মিনি ভ্যাকুয়াম কিনার দিয়েও কিবোর্ড পরিষ্কার করতে পারেন।

পাঁচ. আমরা অনেকেই বাসার কাজের জন্যও ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকি। এ ক্ষেত্রে সাধারণত চার্জার লাগিয়েই ল্যাপটপ ব্যবহার করি। এখানে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত, তা হচ্ছে প্রতিটি ল্যাপটপ ম্যানুফ্যাকচারারই তাদের ল্যাপটপের ব্যাটারি সুরক্ষায় কিছু অ্যাপ্লিকেশন সরবরাহ করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ ডেল তাদের ল্যাপটপের সঙ্গে ‘কুইকসেট’ নামের একটি অ্যাপ্লিকেশন সরবরাহ করে থাকে। সেখানে কিছু অপশন থাকে। যেমনÑ কত শতাংশ চার্জ হওয়ার পর ব্যাটারি আর চার্জ গ্রহণ করবে না ইত্যাদি। কুইকসেটের সব ফিচারগুলোই ব্যাটারি রিলেটেড।

আপনিও আপনার ল্যাপটপটির জন্য এরকম অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ব্যাটারিকে কিছুটা হলেও সুরক্ষিত রাখতে পারেন। আর সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার ব্যাটারিতে ল্যাপটপটি চালাবেন। এতে করে আপনার ল্যাপটপের ব্যাটারি ভালো থাকবে।

ছয়. সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে অথবা স্বাভাবিকের চেয়ে গরমÑ এমন কোনো স্থানে ল্যাপটপ রাখবেন না বা ব্যবহার করবেন না। তবে মাঝে মধ্যে ব্যাটারির চার্জ অর্ধেক রেখে সূর্যের আলোয় ব্যাটারি খুলে কিছুক্ষণ রেখে দিলে তা ব্যাটারির জন্য ভালো।

সাত. ল্যাপটপে আপনার প্রয়োজন নেই এমন সফটঅয়্যার ইন্সটল করবেন না। দরকার হলে আপনার হার্ডডিস্কে পরবর্তী সময়ে সফটঅয়্যারটির ব্যাকআপ ফাইল রেখে দিতে পারেন।

আট. মাঝে মধ্যেই সিস্টেম কিনার সফটঅয়্যার দিয়ে ল্যাপটপ কম্পিউটারটির হার্ডডিস্ক স্ক্যান করাবেন। কোনো রকম সিস্টেমের ত্রুটি পেলে সিস্টেম কেয়ার অ্যাপ্লিকেশনগুলোই তা ফিক্স করে দেবে। এ ক্ষেত্রে টিউন-আপ ইউটিলিটিস, অ্যাডভান্স সিস্টেম কেয়ার ইত্যাদি সফটঅয়্যারগুলো বেশ কাজের। এগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটি মূলত ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপÑ দুটোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

নয়. সরাসরি পোর্টেবল হার্ডডিস্ক থেকে মিডিয়া ফাইল প্লে না করাই ভালো। কেননা এক্সটারনাল ডিভাইসগুলোর ডাটা আদান-প্রদান করতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে ল্যাপটপের হার্ডডিস্কে কপি করে ব্যবহার করুন। একই নিয়ম পোর্টেবল সিডি-ডিভিডি রমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

দশ. প্রয়োজন না হলে ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই চালু করে রাখবেন না এবং ‘শাটডাউন’ ও ‘স্লিপের’ পরিবর্তে ‘হাইবারনেট’ অপশন ব্যবহার করুন। হাইবারনেট হচ্ছে এমন একটি অবস্থায় চলে যাওয়া যা আপনার সেই মুহূর্তের কাজগুলো একটি ফাইলে জমা রেখে আপনাকে এমন একটি স্টেটে (অবস্থায়) নিয়ে যাবে যা প্রায় বিদ্যুৎ ব্যবহার না করারই সমান। পরবর্তী সময়ে সিস্টেম রিজিউম করলে আপনাকে আপনার সব কাজের প্রগ্রেস ঠিক সেখানেই ফিরিয়ে দেবে যেখানে আপনি হাইবারনেট করেছিলেন।

আপনি স্লিপ মোডও ব্যবহার করতে পারেন। এটি হাইবারনেটের চেয়ে দ্রুতগতিতে সিস্টেম রিজিউম করতে সক্ষম। কিন্তু এটি হাইবারনেটের চেয়ে কিছুটা বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে থাকে। তাই ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখতে ‘হাইবারনেট’ অপশনটিই অধিক কাজে দেয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here