অয়ন সাঈদ-এর এক গুচ্ছ কবিতা

PHOTO_Ayan Sayed-17-7-2016

১৮ জুলাই  ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক) :

হামিদ বক্স
হামিদ বক্সের বাড়ির দালান ঘরে টালি চালের বাংলোয়-
তেলাপোকা বার্নিশের বিলাসী আসবাব,
ফজলি আমের তেঁতুল গাছ- চিনি শরুফা

পেয়ারা তলার সাদা খরগোশ- সবুজ মাশরুম,

মধ্যাহ্নের রোয়াকে তাজমহল বিবির স্নেহে-
সারিবদ্ধ আচারের বোয়োমের ভেতর বিচূর্ণ জাফরানি রোদ,
একদিন এইসব ছিল, সবছিল মসলিন শাড়ির ঐতিহ্যের মতো।

এখন শূন্য রোয়াকে সারিবদ্ধ খাটিয়ায় প্রয়াত স্মৃতি,
বিস্মৃতির বেন্টিলেটার দিয়ে পরগাছা- ঘুণ- ড্রেনের ইঁদুর
ঢুকে পড়ে তাজমহল বিবির ঘরে;
বারান্দায় ছিটানো অবহেলার ভাতে
লেগে আছে হাসু বেগমের লাথি,
শুকোতে দেয়া কালো মাশরুমের ব্লাউজ চুয়ে-
টিপটিপ পড়ে তাহার এনায়েত’-  নগরের প্রেম লিকুইড
বানে ভেজা তোসকে ছত্রাক বমি
দালান ঘরে-বাংলোয় বন্য মশার উপদ্রোপ বেড়েই গেছে।

এই বন্যায়- উঠোনে স্বজনের কোমড় পানি
অন্তুর শ্বাসনালী রুদ্ধ করে গেছে সেই জল,
তাহাদের তাই চেহারা মোবারকে দেখি
আমানুল্লাহর পেয়ারা চিবানো থুথু!

**
আকাশে জন্মদাগ

শেলির অতিন্দ্রিয়বাদ পাঠের আসর শেষে
রোমাঞ্চকর সমুদ্র যাত্রা, সোনালী সৈকতে-
পাতালের শয়তান ও আমি নিভৃতে মুখোমুখি বসি;
সূর্যাস্তের পরিশ্রমি ঢেউয়ে তখনো
ইস্কাপনের রাণীর পায়ের ছাপ মুছেনি।

বিষন্ন নদীর যাযাবর কচুরীপানায়
ডাহুকের পায়ে ভর করে সন্ধ্যা এলে,
আমাদের ঘিরে ধরে-
রাণীর অশুভ বলিরেখার বয়সী দাপট,
তাবুতে করে নিয়ে যায় সার্বভৌমত্ত্ব।

রাণীর গোপন তিলকের মতোই
কালো চাঁদ মনে হয় আকাশের জন্মদাগ,
প্রহসনে পৃথিবীর টেবিলে আমাদের পড়ে যাওয়া ভুল তাসে
ক্রমশ রাণীর হাতের চুঁড়ি সার্কাসের রিং হয়ে যায়, নাচায়!

**

বেদনার স্তুতি

কুয়াশা ঘন বুক দিয়ে উঠে আসে লোহিত কাশি
বিষাক্ত লালা কুরে কুরে খায় বয়সের সবুজ প্রাণ;
শরীর শুয়ে পড়ি নিজ ছায়ার উপরে
দুটি হাত নির্জীব-  পা দুটি ক্লেদপুষ্ট
বরযাত্রা এই অমাবস্যাতেই বুঝি!
মৃত্যু- বিবস্ত্রা প্রণয়িনী আমার, তোমার ঠোঁটে
এ প্রাণঘাতি লালায় জন্মাবে অনন্ত বসন্ত।

স্তন থেকে খসে পড়া নক্ষত্র পথে- নেমে গেছে
মাতাল নদী রেখা,
এসো কমলা ও আঙ্গুরের বন ঠেলে নিড়িবিলি বসি
কৌতূহলে খেয়ে নিব নিষিদ্ধ ফল;
হয়তো পদ্মার গহীন ছায়ায় ইলিশের চারির শব্দে
ঘুম ভেঙে, জোনাকীর দলে বাঁশ ঝারের পাতার বেহালা-
তরঙ্গে উড়ে উড়ে, একই অমাবস্যায় জেগে উঠবো।

**

ঢ্যোঁড়া সাপ

কাগজীপাড়া গ্রাম,
হামিদ বক্সের বাড়ির পূবের পুকুর ঘাটে
তালপাতার বৈকালিক ছায়ায়
প্রতিদিন ঢ্যোঁড়া সাপের ক্ষুদে পোনামাছ শিকার;
আমিও ক্ষুদ্র প্রাণ, সংসার চোখ রাঙিয়ো-না
তা না’হলে…
রোজ রাতে জন্মাবদি বেদনার-
পরদেশি মদ খেয়ে বাড়ি ফিরবো।

**

পবিত্র চুমুর কসম

মধ্যরাতে কালাচাঁন ডাক্তারের বাড়ির দোতালার
সিঁড়ি দিয়ে উঠে যেতে যেতে প্রবেশ করি-
অজানা মমি গৃহে। দেখি অসংখ্য প্রাগৈতিহাসিক বাদূর,
নিশি বকের পাখার শব্দের ভেতর ধূপ আলোয়
ধ্রুপদী মানবী তার নাম সুদূরীকা;

তরুলতার মতো সরু কোমড়, আপেল কুড়িয়ে চলে গেছে
মৃয়মাণ পাথরের কফিনের ভেতর।
অনেক বছর গেল দেখিনি তাহারে,
এই কার্তিকে কুয়াশার দলে উড়ে এসেছে-
মসলিন সুতোর কারুকাযের হরফে লেখা প্রেম পাঠ,
“পবিত্র চুমুর কসম, আমাদের তৃষ্ণার শতাব্দী কালের মাঝে
কেবলই পুলসিরাত দূরত্ব, চলে এসো- এক্ষুনি; ভালবাসি।”

**
হরিণীরা বুনো মোম জ্বেলে চলে যায়

নিকশ ছোড়া হাতে পৃথিবী, আজ তার
সব বাতি নিভে গেলে? আধারে কেঁপে ওঠি যদি?
পৌরুষের সবটুকু সাহস হাতে করে
এই তোমার নোনা পিঠে ধরলাম। আমি’তো জানি
রাতের কমলা আকাশের নিচে
আমাদের কতটুকু সাধ ছিল…
কতটুকু সাধ ছিল বাঁচবার।

তোমার বুলিরা জোনাকীর মতো কেঁপে কেঁপে জ্বলে,
জ্বলে আর চোখের কিনারে ঘরময় আধার
জমে সহনশীল হয়;
স্তব্ধতার গাড়ো শব্দ-
ঘ্রাণ ইন্দ্রিয়ে স্পর্শকাতর হয়ে উঠলে,
ক্রমে কার্বন রজনীতে হরিণীরা
বুনো-মোম জ্বেলে চলে যায়|

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here