মুন্সিগঞ্জের প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থা ইতিকথা

SAM_1114 copy

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল : ২০ জুলাই ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম) : মুন্সিগঞ্জের প্রাচীন পরিচিত নাম ইদ্রাকপুর। এ নামটি মুঘল আমলে পরিচিত পায়। এর আগে মুন্সিগঞ্জ জেলার নাম ছিল বিক্রমপুর। বিক্রমপুর নামটি গর্ব ও অহংকারের। কিন্তু বিক্রমপুর আমলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বরূপ জানতে পারা যায় না। প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন ছিল তাও জানা যায় না।

তবে অনুমান করা যায়-বৌদ্ধ যুগে মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুরে ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। রাজা, জমিদার, তালুকদারদের সন্তানেরাই লেখাপড়া করতো। বৌদ্ধযুগ বলতে আমরা বাংলার চন্দ্র, বর্ম ও পাল শাসনামলকে বুঝাতে চেয়েছি। এ সময় টোলবাড়ি, দেউলবাড়ি, বিহার ও মহাবিহার কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ছিল বলে ধারনা করা যেতে পারে। টোলবাড়িগুলো ছিল বেজগাঁও, কনকসার, মামাসার, রামপাল, বজ্রযোগিনী, সুয়াপাড়া, ধামধর, নাহাপাড়ায়। দেউলবাড়িগুলো দেখা যায় কেওয়ার, মহাকালী, সরস্বতী, রঘুরামপুর, বজ্রযোগিনী, নাটেশ্বর, সোনারং পুরাপাড়া, চুড়াইন, জোড়ারদেউল, শ্রীনগর দেউলভোগ, সুবাসপুর, দেওসার, পঞ্চসার এলাকায়।

আমাদের মনে হয়েছে, নাটেশ্বর মহাবিহার। এটাকে বিক্রমপুরী মহাবিহার বলা যেতে পারে। বজ্রসন ও মহাবিহার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বজ্রযোগিনীর দক্ষিণে চুরাইন গ্রামের কোন স্থানে চন্দ্র ও বর্ম যুগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষালয় চড়া-মনি থেকে চুড়াইন নামটি আসতে পারে। এখানে একটি বিহার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ধর্মারণ্য থেকে ধামারণ নামটি এসেছে। খুব সম্ভবত বাংলার পাল স¤্রাট ধর্মপালের সময় এখানে একটি বিহার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল হয়তো। এসকল বিদ্যালয় গুলোতো ধর্ম, তর্ক, যুক্তি, শিল্পকলা শিখানো হতো। বজ্রযোগিনীতে বিশ্বমানের দুজন ধর্মগুরুর নাম ইতিহাস থেকে জানা যায়। এরা হলেন শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর ও ধীমপা।

সেনযুগের শিক্ষা ব্যবস্থা সর্ম্পকে তেমন কিছুই জানা যায় না। মনে হয় মন্দির কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। এখানে সংস্কৃতি, যুক্তি, তর্ক ও ধর্ম শিক্ষা হতো। বিখ্যাত মন্দিরগুলো ছিল রামপাল, সরস্বতী, মহাকালী, দেওভোগ, পাচগাঁও, পঞ্চসার, কমলাঘাট, চাম্পাতলা, গারুরগাঁও, রাতগাঁও, ইছাপুরা, মধ্যপাড়া ও সিংপাড়ায়।

সুলতানী শাসনামলে মসজিদ ভিত্তিক মক্তবে ধর্ম, নৌবিদ্যা ও চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়ানো হতো। প্রাচীন বিক্রমপুরে কোন মাদ্রাসা শিক্ষার প্রমাণ পাওয়া যায় না। কেওয়ার, কাজী কসবা, টেংগর, ধীপুর, ইছাপুরা, তাজপুর, পাথরঘাটা, কাজীশাল, কুসুমপুর, ইদ্রাকপুর, দরগাহবাড়ি, সুয়াপাড়া, আউসশাহী, আব্দুল্লাহপুর, ষোলঘর ও মাওয়া এলাকায় মসজিদ কেন্দ্রীক মক্তব ছিল।
তবে সোনারগাঁয়ের মতো মাদ্রাসার সন্ধান পাওয়া যায়নি। যেমন আছে দিনাজপুরের দাড়াসবাড়ি মাদরাসা। মুঘল আমলে মুন্সিগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থা সুলতানী ধাচেরই ছিল।

বিক্রমপুর হতে ১৮৪৫ সালের মে মাসে মুন্সিগঞ্জ মহকুমায় উন্নীত হয়। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে থাকে মুন্সিগঞ্জের মানুষ। সে লক্ষে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাহায্য মুন্সিগঞ্জের ৬টি উপজেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। মুন্সিগঞ্জের কোর্টগাঁও মুনসেফপাড়ায় জেলার প্রাচীন প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল (১৮৪৭-১৮৯২)। যার প্রধান শিক্ষক ছিলেন পাইকপাড়া গ্রামের নিশীকান্ত ভট্টশালী। এ.ভি.জে.এম. উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে মুনসেফপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো বিলুপ্ত হয়। মুন্সিগঞ্জ জেলার প্রাচীন বিদ্যালয় গুলো হলো শ্রীনগর বেলতলী প্রাথমিক ও লৌহজং বৌলতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮৭০ খ্রি:। মুন্সিগঞ্জের সুয়াপাড়া প্রাথমিক ও লৌহজং কলমা প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮৮৫ খ্রি:। ১৮৮৬ সালে সিরাজদিখান বয়রাগাদী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৯০০ সালে কেওয়ার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলায় ৫৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত আছে।

১৮৭৯ সালে শ্রীনগর হাসারা উচ্চ বিদ্যালয় ১৮৮৩ সালে বজ্রযোগিনী উচ্চ বিদ্যালয়, ১৮৮৫ সালে মুন্সিগঞ্জ ও লৌহজং হাইস্কুল ১৮৮৯ সালে মালখা নগর ১৮৯২ সালে এ.ভি.জে.এম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও ইছাপুরা হাইস্কুল, বেলতলী হাইস্কুল ও বানারী হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। আমাদের জেলায় ১৩০টি হাইস্কুল রয়েছে। জেলায় ২০টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে সরকারী হরগঙ্গা কলেজ ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলায় প্রায় ৩০টি সরকারী তথ্য তালিকায় মাদ্রাসা দেখা যায়। তবে আমার মতে জেলায় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান ১০০ এর মতো হবে। হরগঙ্গা কলেজ, লৌহজং, কলেজ ও শ্রীনগর কলেজে অর্নাস ও মাস্টার্স এর শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here