নাব্য সংকটে শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি, পারাপার নিয়ে শঙ্কা

photo-1472144728

মঈনউদ্দিন সুমন, ২৬ আগস্ট ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম) : পদ্মায় নাব্য সংকটের কারণে শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি নৌপথে যেকোনো মুহূর্তে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নাব্য সংকট কাটাতে নৌ চ্যানেলের লৌহজং টার্নিংয়ে চলছে ড্রেজিং।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, সাতটি ড্রেজারের মাধ্যমে চলছে পদ্মার পলি অপসারণের কাজ।

উজান থেকে ধেয়ে আসা স্রোতের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পলি এসে জমে পদ্মায় এ নাব্য সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে এ নৌপথে নাব্য সংকট দেখা দেয়। তবে চলতি বছর এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত, ছয় দিন ধরে রো-রো ফেরিগুলো বন্ধ রয়েছে। তবে নৌপথে সচল থাকা ১১টি ফেরির সব যাত্রীসহ যানবাহন কম বোঝাই করছে। কেননা, লৌহজং টার্নিংয়ে নাব্য সংকটের ফলে ফেরিগুলো ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর এ পথে মাত্র চারটি ফেরি চলাচল করছিল।

এদিকে, পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। কাজেই নাব্য সংকট অচিরেই দূর না হলে যেকোনো সময়ে নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, নৌ চ্যানেলের লৌহজং টার্নিংয়ে এখন পানি বইছে মাত্র ছয় ফুটের ওপর দিয়ে। স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচল করতে হলে কমপক্ষে সাত ফুট উচ্চতায় পানিপ্রবাহের দরকার।

রো-রো ফেরি শাহ আলীর মাস্টার এ বি এম ফারুক বলেন, ‘নাব্য সংকটের মুখে আমরা ফেরি চালাতে পারছি না। ফেরির তলা আটকে যাচ্ছে নদীর তলদেশে। সঠিকভাবে ড্রেজিং না করলে ফেরি চলাচল করা সম্ভব নয়।’

1472141680-munshi-2বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিউল্লাহ বলেন, ‘সঠিক সময়ে ড্রেজিং করতে পারলে এরই মধ্যে নাব্য সংকট নিরসন হতো। কিন্তু উজানের পানি, বন্যা ও তীব্র স্রোতে আমাদের ড্রেজারগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না।’

এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার ড্রেজারগুলোর দড়ি ছিঁড়ে নিয়ে গেছে। আর দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে হঠাৎ করেই চ্যানেলের মুখে ডুবোচর দেখা দেয়। সঠিকভাবে ড্রেজিং কাজ শেষ করতে পারলে আর কয়েক দিনের মধ্যেই নাব্য সংকট দূর করা যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন প্রকৌশলী।

এদিকে, ফেরি চলাচলে অচলাবস্থার মুখে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় প্রতিদিনই কয়েকশ যানবাহন পারাপারের অপেক্ষমাণ থাকে। এর মধ্যে পণ্যবোঝাই ট্রাকের সংখ্যাই বেশি।

ট্রাকচালকদের অভিযোগ, পারাপার হতে উৎকোচ দিতে হচ্ছে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। এনটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here