নাজমা খানমের হত্যায় সংবাদ সম্মেলনে ল্যাটিশিয়া জেমস মুসলিম কম্যুনিটি নিরাপত্তা ও খুনির বিচার দাবি

NAZMA_RAHMAN_PIC

নিউইয়র্ক থেকে এনা: ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম) : মাত্র ১৭ দিন আগে দিনে- দুপুরে বাংলাদেশী অধ্যুষিত ওজনপার্কে খুন হয়েছিলেন আল ফোরকান মসজিদের ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আকুঞ্জি ও তার সহকারি তারাউদ্দিন মিয়া।

সেই হত্যাকান্ডের বিচার শেষ হতে না হাতেই গত ৩১ আগস্ট রাত ৯টা ৩০ মিনিটের সময় নিজ বাসার মাত্র এক ব্লক দূরে দুর্বৃত্তের চুরিকাঘাতে নিহত হন বাংলাদেশী নাজমা খানম (৬০)। রাজধানী ঢাকার নবাবপুর হাই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা নাজমা খানম তার স্বামী তিতুমির কলেজের সাবেক প্রফেসর শামসুল আলম ঘটনার দিন রাত ৯টা ৩০ মিনিটের সময় জ্যামাইকার পার্সন ব্লুবার্ড থেকে বাজার করে হেঁটে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন।

শারীরিক অসুস্থতার জন্য শামসুল আলম স্ত্রীকে বললেন, তুমি হাঁট, আমি আসছি। এ কথা বলেই তিনি পাশে বসে পড়েন। কিছুক্ষণ পর মহিলার আত্মচিৎকারে তিনি ছুটে যান সামনে। গিয়ে দেখতে পান যে তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে আছেন, তার ঠোট কাঁপছে। স্বামী শামসুল আলম বলতে থাকেন কি হয়েছে তোমার, আমাকে বল। স্বামীকে দেখেই নাজমা খানম বলতে থাকেন ওরা আমাকে বাঁচতে দিলো না, ওরা আমাকে মেরে ফেললো। স্ত্রীর হত্যাকান্ডের বর্ণনা এভাবেই দিলেন স্বামী শামসুল আলম জানাজার পূর্বে। ঘটনার পর পুলিশ কল করার ২ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ এসে নাজমা খানমকে জ্যামাইকা হাসপাতালে নিলে পুলিশ মৃত ঘোষণা করে।

নাজমা খানমের নামাজে জানাজা গত ২ সেপ্টেম্বর বাদ জুমা জ্যামাইকা বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ২ সেপ্টেম্বর রাতে লাশ দেশে পাঠানো হয়। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্বপ্নের নিউইয়র্ক থেকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে দুর্বৃত্তের হাতে বর্বর হত্যাকান্ডের শিকার নাজমা খানমকে।

মরহুমার জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে। জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা শাসসে আলী। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ও নারীদের অংশগ্রহণ ছিল বেশ লক্ষ্যণীয়। জুমার আগেই নিহত নাজমা খানমের মরদেহ নিয়ে আসা হয় জ্যামাইকার মুসলিম সেন্টারে। অন্যান্য দিনের তুলনায় নিয়মিত জুমার মুসল্লিদের সাথে দলে দলে হাজির হন নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসা প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বাংলাদেশীসহ সিটির বিভিন্ন মুসলিম কমিউনিটির নারী-পুরুষদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা জুড়ে নামে মানুষের ঢল।

নাজমা খানমের নামাজের জানাজাকে ঘিরে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার ঘিরে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা। জানাজাপূর্ব জুমার নামাজের সারি সারি মুসল্লির ঢল মসজিদ ছাড়িয়ে রাস্তায় নেমে আসে।

এরপর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া তসনিমা খান ও দৃর্বৃত্তের হত্যাকান্ডের শিকার নাজমা খানমের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহত নাজমা খানমের হত্যাকান্ড বাংলাদেশী-আমেরিকান নারীদের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দল বেঁধে প্রিয় নাজমার মরদেহকে শেষ বিদায় জানাতে এসে ঘটনার নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।

জ্যামাইকাতে এ ধরনের বর্বর হত্যাকান্ড কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছে না কম্যুনিটি। জানাজার পর সংবাদ সম্মেলন তারা এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ বিচার দাবি করে এবং খুনিকে গ্রেফতারের দাবি জানান। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেনের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মুসলিম সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ডা. ওয়াহিদুর রহমান, নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক এডভোকেট ল্যাটিশিয়া জেমস,

নাজমা খানমের ছেলে মঈনুল আলম খান, নাজমা খানমের আত্মীয় নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের প্রতিনিধি মার্কো, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান, কাউন্সিলম্যান রনিল্যান্সম্যান, এ্যাসেম্বলী ওম্যান এলিসিয়া হাইন্সম্যান, নিউইয়র্কের গভর্নর এন্ড্রু কুমোর প্রতিনিধি জুলিয়াস, আফাফ নাসের,

মূলধারার রাজনীতিবিদ মাফ মিসবাহ, সারা সৈয়দ, খালিদ লতিফ, আলী নাজনীন, গাজী রহমান, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট মিলিন্ডা ক্যাটজের প্রতিনিধি মোহাম্মদ হক প্রমুখ।

ল্যাটিশিয়া জেমস ক্ষোভের সাথে বলেন, এই ধরনের খুন মেনে নেয়া যায় না। আমরা একের পর এক মুসলিম কম্যুনিটিকে টার্গেট হতে দেখছি। একজন মুসলমানকে হত্যা করা মানেই আমার মত একজন নিউইয়র্কারকে হত্যা করা। আমি এই খুনের বিচার চাই, খুনির গ্রেফতার চাই। আমরা মুসলিম কম্যুনিটির নিরাপত্তা চাই, শান্তি চাই, হেজাব ব্যবহারের নিশ্চয়তা চাই। আমি আপনাদের সাথে আছি। ঐক্যবদ্ধভাবে খুনির গ্রেফতার কামনা করছি, সেই মুসলিম কম্যুনিটির নিরাপত্তার দাবি জানচ্ছি। তিনি সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

তিনি আরো বলেন, রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের আবারো অন্ধকার যুগে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে। তার বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণেই এ সব হামলা বাড়ছে। নিউইয়র্কে হেইট ক্রাইম বাড়ছে। তা না হলে একজন শিক্ষিকাকে এভাবে হত্যা করা হতো না।

কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, একের পর বাংলাদেশীদের হত্যা করা হচ্ছে। এই জন্য আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা নিউইয়র্ক সিটির প্রশাসনের কাছে জোর জানচ্ছি বাংলাদেশীদের উপর যেন আর আঘাত করা না হয়। প্রয়োজনে আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবো।
নাজমা খনমের ছেলে নাঈমুল আলম তার মায়ের খুনিকে অলিম্বের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here