জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাথে কারাগারে মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের প্রথম দেখার সেই দিন

capture-20160825-220910

মোহাম্মদ সেলিম:  ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম) : মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হচ্ছেন জননেতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। অনেকে আবার তাকে এই জেলার লৌহমানব বলে ক্ষেতাব দিয়েছেন। নানাজনে নানানভাবে তাকে বিভিন্নভাবে পরিচয় ঘটিয়ে থাকেন।

তবে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিচয় হচ্ছে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। এই পরিচয়ে তিনি বিশ্ববাসির কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তার সেই পরিচয়ের অনেক অজানা কথা আমরা এই প্রজন্মের অনেকেই জানি না।

তার সেই অজানা রহস্যেময় জীবনের কথা আমরা পাঠকের কাছে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার প্রয়াসে আমাদের এই ক্ষুদ্ধ আয়োজন।
মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক এডভোকেট সোহানা তাহমিনা আমাদের এই জনপ্রিয় নেতাকে নিয়ে “মুন্সিগঞ্জের লৌহমানব-বঙ্গবন্ধুর মহিউদ্দিন” শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছেন। এটি লেখিকা একটি সাহসী কাজ করেছেন।

নেতার আশ পাশে অনেকেই রয়েছেন। কিন্তু তাকে নিয়ে বইয়ের ভাবনা আসলেই কেউ করে না। সেই দিক থেকে লেখিকাকে সকলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

তবে লেখিকার এই বইয়ের বেশিরভাগ বই বিতরণ করা হয়েছে আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে। সাধারণ পাঠকের কাছে তার বই একেবারেই নেই।

সাধারণ পাঠকের চাহিদা পুরণে মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর উল্লেখ যোগ্য রাজনীতি জীবনের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ অংশের সাথে জড়িয়ে রয়েছেন মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

বইয়ের বাইরেও তথ্য বহুল প্রতিবেদন আমরা পাঠকের কাছে নিয়মিত উপস্থাপন করার চেষ্ঠা করবো। এই প্রতিবেদনটি মুলত এডভোকেট সোহানা তাহমিনের। আজ এর ষষ্ঠ কিস্তি প্রকাশ করা হল:

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাথে কারাগারে মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের প্রথম দেখার সেই দিন
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু বাঙলা জাতির মুক্তি সনদ স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ৬ দফা প্রণয়ন করেন।

এই জন্য বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান সরকার তখন জেলে দেয়। সেই সময় পর্যায়ক্রমে জাতীয় নেতাদেরও জেলে পাঠানোর সব রকম ব্যবস্থা করেন। কারাগারে থেকে বঙ্গবন্ধু ছাত্র নেতাদের মাধ্যমে আমাদের নেতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এর শক্তি ও সাহসী নেতৃত্বের কথা শুনতে পান। বঙ্গবন্ধু আমাদের নেতাকে দেখতে চাইলে তখন শেখ ফজলুল হক মনি, রাজ্জাক ভাই, তোফায়েল ভাই ও সিরাজুল আলম খান ভাইয়ের সাথে আমাদের নেতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বঙ্গবন্ধুর সাথে জেলাখানায় দেখা করেন। তখন এই সুঠাম দেহের অধিকারী সুদর্শন যুবক আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টি কাড়লেন।

পরবর্তী পর্যায়ে ১৯৬৯ সালে ১১ দফা প্রণয়নের মাধ্যমে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় এবং আন্দোলন শুরু হয়।

বঙ্গবন্ধু জেলে থাকা অবস্থায় আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে থাকে। ১১ দফা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

বঙ্গবন্ধু জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আমাদের নেতাকে বঙ্গবন্ধু তাঁর কাছে রেখে দেন। বঙ্গবন্ধু যেখানেই যেতেন আমাদের নেতাকে বঙ্গবন্ধুর সাথে করে নিয়ে যেতেন।
(স্বাধীনতার অগ্নিসাক্ষি সাতই মার্চ ১৯৭১-পরবর্তীতে সপ্তম কিস্তিতে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here