স্বাধীনতার অগ্নিসাক্ষি সাতই মার্চ ১৯৭১

capture-20160825-220910

মোহাম্মদ সেলিম: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম) : মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হচ্ছেন জননেতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। অনেকে আবার তাকে এই জেলার লৌহমানব বলে ক্ষেতাব দিয়েছেন। নানাজনে নানানভাবে তাকে বিভিন্নভাবে পরিচয় ঘটিয়ে থাকেন।

তবে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিচয় হচ্ছে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। এই পরিচয়ে তিনি বিশ্ববাসির কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তার সেই পরিচয়ের অনেক অজানা কথা আমরা এই প্রজন্মের অনেকেই জানি না।

তার সেই অজানা রহস্যেময় জীবনের কথা আমরা পাঠকের কাছে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার প্রয়াসে আমাদের এই ক্ষুদ্র আয়োজন।
মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক এডভোকেট সোহানা তাহমিনা আমাদের এই জনপ্রিয় নেতাকে নিয়ে “মুন্সিগঞ্জের লৌহমানব-বঙ্গবন্ধুর মহিউদ্দিন” শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছেন। এটি লেখিকা একটি সাহসী কাজ করেছেন।

নেতার আশ পাশে অনেকেই রয়েছেন। কিন্তু তাকে নিয়ে বইয়ের ভাবনা আসলেই কেউ করে নাই। সেই দিক থেকে লেখিকাকে সকলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

তবে লেখিকার এই বইয়ের বেশিরভাগ বই বিতরণ করা হয়েছে আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে। সাধারণ পাঠকের কাছে তার বই একেবারেই নেই বলেই চলে।

সাধারণ পাঠকের চাহিদা পুরণে মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর উল্লেখযোগ্য রাজনীতি জীবনের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ অংশের সাথে জড়িয়ে রয়েছেন আমাদের জনপ্রিয় নেতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

বইয়ের বাইরেও তথ্য বহুল প্রতিবেদন আমরা পাঠকের কাছে নিয়মিত উপস্থাপন করার চেষ্ঠা করবো। এই প্রতিবেদনটি মুলত এডভোকেট সোহানা তাহমিনের। ধারাবাহিক অংশ হিসেবে আজ প্রকাশ করা হল:

স্বাধীনতার অগ্নিসাক্ষি সাতই মার্চ ১৯৭১ ইতিহাসের সাক্ষি রেসকোর্স ময়দানকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা। চারিদিকে উত্তোপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। আগত সকলের দৃষ্টি বঙ্গবন্ধুর দিকে। মহান নেতা কখন আসবেন, কখন শুনাবেন তার অভয় বাণী। সাতই মার্চকে ঘিরে বিশাল আকৃতির মঞ্চ তৈরী করা হয়ে ছিল রেসকোর্স ময়দানে।

সাতই মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে তার আস পাশে পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। অসংখ্য মানুষের হাতে লাঠি সোঠা দেখা গিয়ে ছিল। অধীর আগ্রহে সবাই তখন অপেক্ষা করছিল বঙ্গবন্ধুর আগমনের জন্য।

১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ যেদিন বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিতে যাবেন তার আগের মুহূর্তে প্রথম সারির কয়েকজন ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধু ভাষণে কি বলবে তাঁরা পরামর্শ দিতে এসেছিলেন।

নেতারা সেদিন বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেন “লিভ ইট টু মি” বঙ্গবন্ধু স্টেজে ওঠলেন আমাদের নেতা ঠিক তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। “যে ছবি এখন ইতিহাসের কথা বলে”।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যখন শুরু হল তখন সেই ভাষণের সাথে সাথে আমাদের নেতাও উজ্জীবিত হতে দেখা গেছে। সেই দিনের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নেতার কাছে দেবদূতের বার্তার মত মনে হল। জাতীর উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ার সময় আমাদের নেতা নিজেকে হারিয়ে ফেললেন। এক পর্যায়ে দুই হাত তুলে তালি দেওয়া শুরু করেন।

রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে সবাই উত্তেজিত হয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেন। সেদিন ১০ লাখ মানুষ রেসকোর্স ময়দানে সমবেত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষণের পর বাঙলী জাতি পাকিস্তানের যে কোন আঘাতের প্রতিরোধে সচেতন হয়ে উঠেছিল।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ যখন প্রচার করা হয় তখন আমাদের নেতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে দেখা যায়। এটা কম বড় কথা না। এই ছবি ইতিহাসের আরেকটি অংশ। এই ছবির কারণে মুন্সিগঞ্জ তথা বিক্রমপুরবাসী গর্ব করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here