ইতিহাসের কালোরাত্রি ২৫শে মার্চ ১৯৭১

capture-20160825-220910

মোহাম্মদ সেলিম: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম) : মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হচ্ছেন জননেতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। অনেকে আবার তাকে এই জেলার লৌহমানব বলে ক্ষেতাব দিয়েছেন। নানাজনে নানানভাবে তাকে বিভিন্নভাবে পরিচয় ঘটিয়ে থাকেন।

তবে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিচয় হচ্ছে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। এই পরিচয়ে তিনি বিশ্ববাসির কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তার সেই পরিচয়ের অনেক অজানা কথা আমরা এই প্রজন্মের অনেকেই জানি না।

তার সেই অজানা রহস্যেময় জীবনের কথা আমরা পাঠকের কাছে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার প্রয়াসে আমাদের এই ক্ষুদ্র আয়োজন।
মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক এডভোকেট সোহানা তাহমিনা আমাদের এই জনপ্রিয় নেতাকে নিয়ে “মুন্সিগঞ্জের লৌহমানব-বঙ্গবন্ধুর মহিউদ্দিন” শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছেন। এটি লেখিকা একটি সাহসী কাজ করেছেন।

নেতার আশ পাশে অনেকেই রয়েছেন। কিন্তু তাকে নিয়ে বইয়ের ভাবনা আসলেই কেউ করে নাই। সেই দিক থেকে লেখিকাকে সকলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

তবে লেখিকার এই বইয়ের বেশিরভাগ বই বিতরণ করা হয়েছে আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে। সাধারণ পাঠকের কাছে তার বই একেবারেই নেই বলেই চলে।

সাধারণ পাঠকের চাহিদা পুরণে মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর উল্লেখযোগ্য রাজনীতি জীবনের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ অংশের সাথে জড়িয়ে রয়েছেন আমাদের জনপ্রিয় নেতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

বইয়ের বাইরেও তথ্য বহুল প্রতিবেদন আমরা পাঠকের কাছে নিয়মিত উপস্থাপন করার চেষ্ঠা করবো। এই প্রতিবেদনটি মুলত এডভোকেট সোহানা তাহমিনের। ধারাবাহিক অংশ হিসেবে আজ প্রকাশ করা হল:

ইতিহাসের কালোরাত্রি ২৫শে মার্চ ১৯৭১
২৫ শে মার্চ কালোরাত্রিতে আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নং নিজস্ব বাসভবনে ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে বাসায় উপস্থিত লোকদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু বললেন, “বাসায় যে কোন সময় পাক বাহিনী আক্রমন করতে পারে। তোমরা এখানে থেকোনা”। বঙ্গবন্ধুর নিদের্শ মোতাবেক তার সব কর্মীরা নিজ নিজ বাসায় চলে গেল। আমাদের নেতা ও হাজী মোর্শেদ সাহেব বাড়িতে থেকে গেলেন। বঙ্গবন্ধু পুনরায় তাদের বললেন “আমার সাথে মরে লাভ কি? বাহিরে থাকলে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে রক্ষা করতে পারবে”। কিন্তু আমাদের নেতা ও হাজী মোর্শেদ সাহেব বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে কোথাও গেলেন না।

বাসার নিচতলা অফিস রুমে আমাদের নেতা হাজী মোর্শেদ সাহেব বসে ছিলেন। বিভিন্ন স্থান থেকে ফোন আসছে। লোকজন জানতে চাচ্ছে বঙ্গবন্ধু কোথায়? কি অবস্থা? রাত ১২টার দিকে শেষ ফোন আসলো। আমাদের নেতা ফোন রিসিভ করলেন। প্রফেসর বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাবা মো: কফিল উদ্দিন চৌধুরী সাহেব ফোনে জানতে চাইলেন, “বঙ্গবন্ধুর কি অবস্থা”। “নেতা বললেন বঙ্গবন্ধু বাসায় আছেন”। মো: কফিল উদ্দিন চৌধুরী সাহেব বললেন, “জানতে পারলাম বঙ্গবন্ধুর বাসায় হামলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হয়েছেন, তাহলে কি এসব মিথ্যা কথা”? মো: কফিল উদ্দিন সাহেবের সাথে কথা চলাকালীন সময়েই নেতা হঠাৎ করে বাহিরে পাক বাহিনীর গাড়ি, গুলির শব্দ ও চিৎকার শোনতে পান। “নেতা ফোনে বললেন বাড়িতে হামলা শুরু হয়ে গেছে”। ফোন ছেড়ে নেতা দু’তলায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা এসেছে খবর দিয়ে নিচে নামার সাথে সাথে পাকসেনারা নেতার উপর হামলা শুরু করে দিল। নির্যাতনের এক পর্যায়ে নেতা জ্ঞান হারিয়ে ফেলার ভান করল। ওরা বলল, “শালা মর গেয়া”। ওরা নেতার চুল, পা টেনে হিঁচড়ে ঘরের কোনায় ফেলে রাখল। পাক বাহিনী হাজী মোর্শেদ সাহেব কে রিসিপশন রুমে পেয়ে তাকে পিটাতে থাকে। আর কাজের ছেলে আব্দুল রান্নার ঘরের স্টোর রুমে লুকিয়ে ছিল।

গুলাগুলির শব্দ করে পাকসেনারা দু’তলায় বঙ্গবন্ধুর বেডরুমে গিয়ে দরজা ভাঙ্গার জন্য আঘাত করতে লাগল এবং নিচ থেকে বেডরুমের জানালা লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে লাগল। বঙ্গবন্ধু তখন মাঝখানের রুমে পায়চারী করছিলেন। চতুরদিকে গোলাগুলির শব্দ। দোতালায় দরজা থেকে বঙ্গবন্ধু বললেন, “ডোন্ট ফ্রি, ডোন্ট ফ্রি, আই এম কামিং আউট” এর পরে পাকসেনারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলে গেলো। পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষন পর বঙ্গমাতা মোমবাতি জ্বেলে নীচে আসলেন। বঙ্গমাতাকে দেখে আমাদের নেতা দাঁড়ালেন। বঙ্গমাতা বললেন, “আপনার ভাইকে নিয়ে গেছে”। নেতা বলল, “আমি সব দেখেছি”। বঙ্গমাতা, রাসেল, বাড়ির কাজের ছেলে আব্দুল, আমাদের নেতা সবাই এক সাথে দোতালায় হারিকেন জ্বালিয়ে রাত পার করে দিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here