জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে শেখ হাসিনাকে

ana-pic-p-m

নিউইয়র্ক থেকে এনা : ১৯ সেপ্টেম্বর  ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক) : যুক্তরাজ্য ও কানাডা সফর শেষে জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক পৌঁচ্ছেন।
তিনি কানাডা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ১৮ সেপ্টেম্বর রোববার (নিউইয়র্ক সময়) অপরাহ্ন ৩ টায় নিউইয়র্ক সিটির লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্টে অবতরণ করেন। এই সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।
প্রধানমন্ত্রী এয়ারপোর্ট ত্যাগের সময় রাস্তার পাশে শত শত নেতা-কর্মী তুমুল শ্লোগানে তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। আগের দিন নিউইয়র্ক সিটিতে বোমা সদৃশ কিছু বিস্ফোরিত হবার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যে কারণে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন শ্লোগানে তার নেত্রীকে বরণ করে নেন।

ana-pic-2

অন্যদিকে এবার এয়ারপোর্টে বিএনপি এবং তার বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোন নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোন কমিটি নেই। তার উপরে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন নিউইয়র্ক স্টেট কমিটি করার দায়িত্ব নিয়ে এসে বিএনপিকে আরো বিভক্ত করেছেন। যে বিভক্তির কারণে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির কমিটি এখন ৬টি। সব মিলিয়ে হতাশায় বিএনপির নেতাকর্মীরা এবার এয়ারপোর্টে বিক্ষোভ অথবা কালো পতাকা দেখতে যায়নি। তারা আওয়ামী লীগকে ওয়াকওভার দিয়েছে।
বিএনপি ঘোষণা দিয়েছেন ‘যেখানে শেখ হাসিনা-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি পালনের। বিএনপির এমন কর্মসূচির বিরুদ্ধে আওয়ামী পরিবারের পাল্টা ঘোষণা রয়েছে ‘যেখানে বিএনপি-জামাত-সেখানেই প্রতিরোধ’।
এয়ারপোর্টে আওয়ামী লীগ আসলেও বিএনপির আসেনি। তবে বিএনপি ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যখন প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন তখন এবং সংবর্ধনার সময় হোটেলের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে বলে বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ স¤্রাট জানান।
গত ২০ বছরের ইতিহাসে এবারই ব্যতিক্রম ঘটলো এয়ারপোর্টে প্রধানমন্ত্রীকে কাল পতাকা প্রদর্শসনহ বিক্ষোভের। এ জন্যে পুরো ক্রেডিট নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ আর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা।

ana-pic-1এয়ারপোর্টে গগনবিদারি শ্লোগানে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর বক্তব্যের পাশাপাশি শ্লোগানে নেতৃত্ব দেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. শাহজাহান মাহমুদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগর সহ সভাপতি এম ফজলুর রহমান,
মাহবুবুর রহমান, লুৎফুল করিম, জয়নুল আবেদীন, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রস্থ বাংলাদেশ ল’ সোসাইটির সভানেত্রী মোর্শেদা জামান, যুক্তরাষ্ট্রস্থ পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির মিয়া, ওয়াশিংটন মেট্র আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মাহমুদুন্নবী বাকী, লেখক-সাংবাদিক হারুন চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান ও আব্দুর রহিম বাদশা, আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ বখতিয়ার, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হক খান,
যুবলীগের সাবেক সভাপতি মিসবাহ আহমেদ, সাবেক সেক্রেটারি ফরিদ আলম, যুবলীগের নবগঠিত কমিটির আহবায়ক তারিকুল হায়দার চৌধুরী, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মমতাজ শাহানা, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী বিউটি, রাশেদা কোরেশী, সবিতা দাস, শ্রমিক লীগ সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, সহ-সভাপতি দরুদ মিয়া রনেল,
মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মাসুদ হোসেন সিরাজি, প্রবাসী কল্যাণ সমিতির সেক্রেটারি দেওয়ান বজলু, আমেরিকা-বাংলাদেশ এলায়েন্সের চেয়ারপার্সন এম এ সালাম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মিয়া এবং সেক্রেটারি শাহীন আজমল,

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহ সভাপতি শাখাওয়াত বিশ্বাস, আব্দুল মুসাব্বির, নুরে আলম জিকো প্রমুখ।
এয়ারপোর্ট থেকে শেখ হাসিনা সোজা জাতিসংঘ সংলগ্ন ওয়াল্ডর্ফ এস্টোরিয়া হোটেলে চলে যান। সেখানেই অবস্থান করবেন জাতিসংঘের কর্মসূচিতে যোগদানকালিন সময়ে।
২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ভার্জিনিয়ায় তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার কথা শেখ হাসিনার। সেখান থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন বলে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ও স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন জানান। জয়ের বাসায় অবস্থানকালিন সময়ে তিনি কোন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না বলেও উল্লেখ করেছে দূতাবাসের সূত্র।
এদিকে, জাতিসংঘ সফরের প্রথম দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের বাসায় তার সফরসঙ্গিসহ ডিনারে যোগদান করেন শেখ হাসিনা। প্রবাসের বিশিষ্টজনেরাও ছিলেন এ ডিনারে।
এ ছাড়াও আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের বিভিন্ন অধিবেশনে যোগ দিবেন। এ দিন তিন রিফিউজি ও মাইগ্রেন্ট বিষয়ক অধিবেশনে দুপুর ১২টা যোগ দিয়ে কর্মসূচির শুরু করবেন। কমনওয়েথ সেক্রেটারি জেনারেলের সাথে তার বৈঠক রয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আয়োজিত লিডার্স সামিট অর রিফিউতেও প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করবেন। ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সন্ধ্যায় ৭টা ৩০ মিনিটে এবং রাতে গ্যান্ড হায়াতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্তৃক সার্বজনীন সংবর্ধনা সভায় যোগ দেবেন।
২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মিশনে সকাল ১০টা সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন এবং ঐ দিনই ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here