মুন্সিগঞ্জে অবাধে বিক্রি হচ্ছে চোলাই মদ- ব্যবস্থা নেই প্রশাসনের

img_2962

২২ সেপ্টেম্বর  ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক) : মুন্সিগঞ্জে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ক্ষতিকারক চোলাই (বাংলা) মদ। মদ পানের বৈধ কার্ডদারীদের মধ্যে মদ বিক্রির নিয়ম থাকলেও যে যেভাবে ক্রয় বা সেবন করতে পরছেন এই চোলাই মদ। যার ফলে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষতিকারক এই পানীয়।
শুধু তাইনয় ভেজাল করেও বিক্রি হয় মাদক এমন কথাও স্বীকার করলেন ভাড়টির কর্তৃপক্ষ। শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অনুমোদন কৃত চোলাই মদের ভাড়ে চলছে এসব অনিয়ম । তবে এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেই প্রশাসনের। জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,মদের ভাড়টিতে মাসিক হিসাবে ৩ হাজার লিটার মদ পানের জন্য ননমুসলিম ও সিমিত কয়েকজন মুসলিম সহ ৩শ টি কার্ড ইসু করা হয়েছে । সেখানে শুধু কার্ড প্রাপ্তরাই কেবল মদ পান করতে পারবেন। যদি এর বাহিরে কেউ চোলাই (বাংলা) মদ বিক্রি করে থাকেন তাহলে সেটা সম্পন্ন অবৈধ ও আইনত দন্ডনীয় ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভাড়ের সরকারি লাইসেন্সধারী নাফিজ আহম্মেদের ৪ সহযোগী রবিন, মালেক, শাহিন ও আশিক কার্ডধারীদের কাছে বিক্রি বিপরীতে ১৮ বছরে নিচের শিশুদের মাঝেও বিক্রি করা হচ্ছে চোলাই মদ। পানির বোতলে করে যার যেমন খুশি নিয়ে যাচ্ছেন মদ। আর এই মদ পান করে উসৃংখলা করতে ও দেখা যায় অনেক যুবককে। যা দেখে রীতিমত হতবাক হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
মদসেবনকারী সেলিম বলেন, মদ কিনতে আবার কার্ড লাগে এটা তো জানিনা । আমরা টাকা দেই মদ দেয় এতে আবার কার্ড কিসের? নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর আরেক মদ সেবনকারী বলেন, এখানে মদ পান করতে কার্ড লাগে না যে টাকা দিবে তার কাছেই মদ বিক্রি করা হয়। রাত ৮ টার পর থেকে পরদিন বেলা ১২ টা পর্যন্ত ভাড়ে মদ পাওয়া যায়।
আর ভাড় বন্ধ হয়ে গেলে পাশের টিন সেটের ঘরগুলো থেকে মদ কিনা যায় জখন তখন। আর সেখানে দিতে হয় প্রতি লিটার মদের জন্য ২৫০-৩০০ টাকা।
কার্ডধারী নয় যার কাছে খুশি বিক্রি করতে পারবেন চোলাই মদ এমন দাবী করে ভাড়টির নিয়ন্ত্রক রবিন প্রতিবেদককে জোরালো কন্ঠে হুমকি দিয়ে বলেন, ভেজাল না করলে আমরা চলবো কি ভাবে তাই কিছুটা পানি মিশানো হয়। আপনারা নিউজ করে কি করতে পারেন আমিও দেখবো। আর সাধারনদের মাঝে কেন বিক্রি করছি তা প্রশাসনের লোকদের কাছে গিয়ে জানেন।
চার-পাচঁ মাসধরে এখানে নতুন আসছেন তাই বিষয়টি জানা ছিলোনা দাবী করে জেলা মাকদ দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ হোসেন মিয়া বলেন, ভারটিতে ৩ শ কার্ডধারীর জন প্রতি মাসিক ১০ লিটার হারে প্রতিদিন ৩০০ লিটার যার মাসিক পরিমান ৩ হাজার লিটারে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যা পান করতে পারবেন কার্ডদারী চোলাই মদ সেবনকারীরা। কার্ডধারীদের বাহিরে অন্য কারো কাছে মদ বিক্রির অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় হবে।
তবে চোলাই মদ বিক্রির ভাড়টির খোঁজ খবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থার কথা জানালেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শওকত আলম মজুমদার। চোলাই মদের ক্ষতিকারক বিষয়টি সামনে এনে ও কার্ডধারীদের বাহিরে অন্য কারো নিকট বিক্রি কারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন প্রশাসন এমন দাবী এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here