নিহত স্কুল ছাত্র আরাফাতের স্বজনরা মুন্সিগঞ্জে মামলার আসামী

img_3270

৪ অক্টোবর ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক) : মুন্সিগঞ্জ শহরের উপকন্ঠ মুক্তারপুর বাগবাড়ি এলাকার স্কুল ছাত্র আরাফাত হোসেনের অপমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ২৩ মাদক সেবীর বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশে বেত্রাঘাতের রায় দেওয়ায় থানায় উল্টো মামলা করা হয়েছে।

আবার দায়ের করা ওই মামলায় নিহত স্কুল ছাত্র আরাফাতেরই ৫ জন স্বজনকে আসামী করা হয়েছে। একদিকে স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অন্যদিকে সেই স্বজনদের মাথার উপর চেপেছে উল্টো মামলার খড়গ। নিহত আরাফাত বাগবাড়ি এলাকার মো. নাসিরের ছেলে।

সদর থানার ওসি ইউনুচ আলী জানান, গ্রাম্য সালিশে বেত্রাঘাত করার অভিযোগে বেত্রাঘাত প্রাপ্ত মো. সুমনের বাবা আলাউদ্দিন বাদী হয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর দিনগত মধ্যরাতে পঞ্চসার ইউপির চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে প্রধান আসামী করে ২৫ জনের বিরুদ্ধে ওই মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় মুন্সীগঞ্জ মডেল স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র আরাফাতের দাদা আব্দুল মজিদ, চাচা রাকিব হাসান মুন্না, নাকিব হাসান টিটু, মো. বাবুল ও মো. হাসানকে আসামী করা হয়েছে।

এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর সকালে বাগবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে এক গ্রাম্য সালিশে ২৩ জনের বিরুদ্ধে বেত্রাঘাতের রায় প্রদান করে সালিশগন।

এ ব্যাপারে নিহত আরাফাতের দাদা আব্দুল মজিদ বলেন- আরাফাতের মৃত্যু নিয়ে সালিশ বৈঠক করা হয়নি। আরাফাতের বন্ধুরা মাদক সেবন করে নৌ-ভ্রমনে গিয়ে। মাদক সেবন অবস্থায় বন্ধুরা আরাফাতকে মেরে ফেলেছে বলে দাবী করে তিনি।

নিহত আরাফাতের চাচা রাকীব হাসান মুন্না বলেন- গ্রাম্য সালিশগন মাদক সেবনের বিরুদ্ধে বিচার কাজ সারেন। মাদক সেবন করায় ২৩ জনকে বেত্রাঘাত করা হয়।

মামলার প্রধান আসামী পঞ্চসার ইউপির চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেছেন- আমি বাগবাড়ি তথা গোটা পঞ্চসার ইউনিয়ন থেকে মাদক নিমূল করার জন্য যুদ্ধ ঘোষনা করেছি।

আমার প্রধান লক্ষ্য মাদক নিমূল করা। নৌ-ভ্রমনে গিয়ে বন্ধুরা মিলে মাদক সেবন করার কারনেই পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্র আরাফাতের মৃত্যু হয়েছে। তাই মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে বিচার করে গ্রাম্য সালিশগন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টম্বর ২৩ জন বন্ধুর সঙ্গে নৌ-ভ্রমনে যায় আরাফাত হোসেন। সেখানে গিয়ে নিখোঁজ হয় আরাফাত। এর ৩ দিন পর জেলার সিরাজদীখান উপজেলার দোসরপাড়া এলাকার ইছামতি নদীতে ছাত্র আরাফাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here