বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, মুন্সিগঞ্জ

SAM_1114 copyগোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল: ৪ অক্টোবর ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম) : ঢাকার খুব নিকটে হওয়ায় জাতীয় প্রায় সকল আন্দোলনেই মুন্সিগঞ্জবাসী সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়ও (১৯০৫-১৯১১) মুন্সিগঞ্জের লোকজন বঙ্গভঙ্গের পক্ষে অবস্থান নেয়। ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি আলাদা প্রদেশ গঠন ছিল বঙ্গভঙ্গের মূল উদ্দেশ্য। যার ফলে এ অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুফল ভোগ করবে। বঙ্গভঙ্গ হলে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের মুসলমান জনগোষ্ঠী শিক্ষাখাতে লাভবান হতো। বঙ্গভঙ্গের সময় এ আন্দোলনের প্রধান নেতা ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ্ মুন্সিগঞ্জে জনমত গড়ার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার অভিযান পরিচালনা করেন।
১৬ অক্টোবর ১৯০৫ সাল। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুন্সিগঞ্জে একটি জনসভা করেন। এ সভায় মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষক ও আইনজীবিসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন বেশী। ওই সভায় নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বলেন ‘‘বঙ্গভঙ্গ আমাদের নিগৃহিতার হাত থেকে মুক্তি দিয়েছে। এটা আমাদের উদ্দীপ্ত করবে, কর্ম সাধনায় ও সংগ্রামে।’’ এ কথা সত্য যে পূর্ববঙ্গ ও আসামের মুসলমানরা মনেপ্রাণে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিল। মুন্সিগঞ্জের অনেক হিন্দুরাও বঙ্গভঙ্গের পক্ষে সমর্থন দিয়েছিল। ১৬ অক্টোবর ১৯০৫ সালে নবাব সলিমুল্লাহ্র সভাটি কোন স্থানে হয়েছিল তা ইতিহাস আমাদের জানাতে ব্যর্থ। তবে আমার মনে হয় মুন্সিগঞ্জ আইনজীবি সমিতির সভাকক্ষ, না হয় মুন্সিগঞ্জ হাই স্কুল মাঠে এ সভা হতে পারে। কারণ নৌ পথে নবাব সলিমুল্লাহ্ মুন্সীগঞ্জ এসে ছিলেন। সে সময়ের মহকুমা শহর মুন্সিগঞ্জ নবাব স্যার সমিলুল্লাহকে পেয়ে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। যদিও ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে কলকাতার হিন্দুদের প্রবল বিরোধীতার মুখে ইংরেজরা বঙ্গভঙ্গ রহিত করে। পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের মতো আশা ভঙ্গ হয় মুন্সিগঞ্জ বাসীর।
লেখক : [সাংবাদিক ও ইতিহাস গবেষক]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here