বহুমাত্রিক লেখক রতনতনু ঘোষকে নিয়ে তসলিমা নাসরিন যা বললেন

%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8

৭ অক্টোবর ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক) : ভালো যে সাহিত্যিক রতনতনু ঘোষ জেনে যাননি যে তাঁর মৃতদেহটিকে বাংলা একাডেমির ভেতর ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভালো যে তিনি তখন কিছু বোঝেননি, কিছু শুনতে পাননি, দেখতে পাননি। ভালো যে তিনি তখন মৃত ছিলেন। তাঁকে দেখতে হয়নি তাঁর অপমান। তাও আবার বাংলা একাডেমির কাছ থেকে, যে বাংলা একাডেমির দায়িত্ব সাহিত্যিকদের অপমান থেকে বাঁচানো। রতনতনু ঘোষ নাকি পত্রিকা অফিসে গিয়ে গিয়ে নিজের লেখা পৌঁছে দিতেন। নিজের লেখা নিজের হাতে যদি পৌঁছে দিতে হয় পত্রিকা অফিসে, তবে বেঁচে থাকাকালীনও তিনি যে খুব সম্মান পেয়েছেন তা মনে হয় না। মানুষটা বোকা ছিলেন, তাই নিজের নামের আগে কায়দা করে কালজয়ী ঔপন্যাসিক, জগৎশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক, বিপ্লবী কবি, সব্যসাচী লেখক ইত্যাদি বিশেষণ জুড়ে দেননি। ওরকম বিশেষণ সর্বস্ব কেউ না হলে একাডেমি তার দ্বার সম্ভবত খোলে না। সাহিত্যিকদের মৃতদেহ বাংলা একাডেমিতে নিয়ে যাওয়ার চলটা বন্ধ হওয়া উচিত। সাহিত্যিকদের সম্মান জানাতে চাইলে পাঠকরাই জানাবে, জীবিত থাকাকালীন জানাবে। মৃত মুখ দেখার ইচ্ছে কেন হয় মানুষের জানি না। কাউকে ভালো লাগলে তার মুখখানা যখন সে বেঁচে আছে তখন দেখে নেওয়াই ভালো। পুরস্কার দিতে চাও, প্রশংসা করতে চাও, শ্রদ্ধা জানাতে চাও বেঁচে থাকতেই জানাও। মরে গেলে একটা মানুষ যেমন তাকে অপমান করা হচ্ছে বোঝে না, তাকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে এটাও বোঝে না। বি.দ্র. তথূসূত্র- ফেসবুক বন্ধু- ইমন মজুমদার এর ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহিত করে দেয়া হলো। ৫ ঘন্টা আগে দেয়া ছিলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here