পূজার মিষ্টি তৈরীতে ব্যস্ত কারিগররা

durga-puja-pic-2১১ অক্টোবর ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক) : পূজার আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে মিষ্টির বিকল্প নেই। আর তাই ফুসরত নেই মিষ্টি কারিগরদের। দেবীর বোধন থেকে বিসর্জন – সর্বত্রই যে মিষ্টির ছড়াছড়ি। দূর্গাপূজা উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের মিষ্টি দোকানিরা তৈরি করেছেন হরেক রকমের মিষ্টি।

শাস্ত্রমতে  পাঁচ প্রকার মিষ্টি দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করতে হয়। এছাড়াও রয়েছে ভক্তদের মিষ্টি দিয়ে প্রসাদ বিতরণ ও  অতিথিদের মিষ্টিমুখ। পূজায় আত্মীয় স্বজনের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার সময় মিষ্টির বিকল্প নেই। তাইতো ব্যস্ত সময় পার করছেন মুন্সীগঞ্জের মিষ্টির কারিগররা। রাতদিন মিলে তাদের কাজ করতে হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জের মিষ্টির দোকান গুলোতে বানানো হচ্ছে  বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি।  এর মধ্যে রয়েছে  লাড্ডু, রসগোল্লা, লালমোহন, পেয়ারা, সন্দেশ, আমিত্তিসহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। দুর্গার আগমন থেকে শুরু করে ফিরে যাওয়ার পুরো সময়টাই মিষ্টির এই ভরপুর আয়োজন চলবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের মিষ্টির দোকানগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। এখানকার লাড্ডু, বালুশা, চিনির পুতুল আর কদমা সবার কাছে খুবই জনপ্রিয়।

নারায়ণগঞ্জে এবার ১৯৬টি পূজামণ্ডপে বর্ণিল আয়োজনে হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এই উৎসবকে সামনে রেখে মিষ্টির দোকানগুলোতে তৈরি হচ্ছে নানা প্রকারের মিষ্টি। এসব মিষ্টি সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কাছে যেমন জনপ্রিয় তেমনি দেশ-বিদেশের মানুষের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয় এ এলাকার মিষ্টি। আর পূজায় উপহার হিসেবে একে অপরের বাড়িতে লাড্ডু পাঠানো এই এলাকার সামাজিক রীতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পালিত হয়ে আসছে।

পূজা উপলক্ষে বেড়েছে মিষ্টির রাজা বলে খ্যাত টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচমের চাহিদা।

এখানকার মিষ্টি তৈরীর কারিগর ও বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। চমচম, রসমালাই, আমিত্তি, সন্দেশ, মালাইকারী ও জিলাপিসহ নানা প্রকার মিষ্টি কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বাজারে। পূজায় প্রতিদিনই নানা প্রকারের মিষ্টির প্রয়োজন।

পূজা উপলক্ষে আসা আত্মীয়-স্বজনকেও মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করানো হয়। এ কারণেই পূজায় বেড়ে যায় টাঙ্গাইলের মিষ্টির চাহিদা। এখানকার সুস্বাদু ও লোভনীয় চমচম মিষ্টি টাঙ্গাইলের অন্যতম ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য প্রায় ২শ বছরের প্রাচীন।

দূর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে দম ফেলার ফুরসত নেই চট্টগ্রামের মিষ্টির কারিগরদের। সেই সাথে নাড়ু– মোয়া বিক্রেতারাও পার করছেন ব্যস্ত সময়। পূজা ঘিরে অর্ডার বেশি হওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের।

সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত পূজামন্ডপগুলোতে থাকে মা দুর্গার স্তুতি। আর সনাতন ধর্মালম্বীদের বাসায়ও থাকে নানা আয়োজন। আর তা পূজামন্ডপ আর বাসায় যেখানেই হোক এ আয়োজনের অন্যতম অনুষঙ্গ মিষ্টি। পূজার থালা থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়নে এই মিষ্টি না থাকলে কিছুই পরিপূর্ণতা লাভ পায়না। আর তাই এই পূজাকে ঘিরে মিষ্টির কারিগররা এখন অতিবাহিত করছে ব্যস্ত সময়।

হিমসাগর, রসকদম, লাড্ডু, সন্দেশসহ নানা রকমের প্যাড়ার চাহিদা চট্টগ্রামের মানুষেরকাছে এমনিতেই একটু বেশি। শারদীয় উৎসবে এর চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুন। আর তাই নগরীর অভিজাত মিষ্টির দোকানগুলো এখন ব্যস্ত চাহিদা অনুযায়ী মিষ্টি বানাতে।

পূজাতে বিভিন্ন রকম নাড়ুসহ মুড়ি-মুড়কি, খইয়ের চাহিদাও একটু বেশী। সারা বছরই বেচাকেনা হয় তবে দূর্গা পূজার সাথে লক্ষী পূজা ও শ্যামা পূজা কাছাকাছি সময়ের মধ্যে থাকায় বিক্রি অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

তবে সবকিছুকে মিলিয়ে পূজা ঘিরে ব্যবসায়ীরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসার পাশাপাশি নিজেরাও সামিল হবেন উৎসবে, এমনই প্রত্যাশার সবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here