ঐতিহ্যবাহী বিক্রমপুরের মাইজপাড়া মঠ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে

photogrid_1481315449475
১০ ডিসেম্বর ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক) : অযত্ন ,অবহেলা ও সংরক্ষণ অভাবে ঐতিহ্যবাহী বিক্রমপুরের মাইজপাড়া মঠটি ধ্বংস প্রায়। মঠটি মুন্সিগঞ্জের (বিক্রমপুর) শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে অবস্থিত। বাংলা ১২১৯ সনে দেওয়ান মুর্শিদকুলী খান জমিদার প্রথা চালু করেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী বিক্রমপুরকে মাইজপাড়া,ভাগ্যকুল,

শ্রীনগর,সিরাজদি- খান, সিংপাড়া, লৌহজং,তালতলা ও বাঁলিগাওকে আটটি পরগনায় (তালুক ) বিভক্ত করে আট জনকে জমিদ্বারিত্ব প্রদান করেন। মাইজপাড়া পরগণার দ্বায়িত্ব গ্রহন করেন গোবিন্দ্র প্রসাদ রায়। তার মৃত্যুর পর তার দুইছেলে বৈদ্রনাথ রায় ও তারা প্রসাদ রায় জমিদারির হাল ধরেন।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা-যায়, প্রায় ১৫০ বছর পূর্বে জমিদার তারাপ্রসাদ রায়ের মৃত্যুর পর সি.এস ৮৫০ নং দাগের জায়গার উপর তার চিতা (সমাধি স্থল) ১২০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট মাইজপাড়া মঠটি তৈরী করা হয়। মঠটির দু’পাশে তার দুই সহ ধর্মীনি সুধামণি দেবী ও নবদূর্গা দেবীর মৃত্যু হলে ছোট আকারের আরোও দুটি মঠ তৈরী করা হয়। প্রায় ১৩০ বছর পূর্বে বাংলা ১২৯২ সনের ৩১ আষাঢ় ভূমিকম্পে তারাপ্রসাদ রায় ও তার দুই সহধর্মিনীর মঠ দুটি ভেঙ্গে যায়। এক বছর পর বাংলা ১২৯৩ সনের বৈশাখ মাসে তারাপ্রসাদ রায়ের মঠটি পূনরায় নির্মান করা হয়। মঠটির গায়ে লিখিত হরফ থেকে বোঝা যায়, রাজনারায়ণ নামে একজন নির্মান শৈলী অত্যন্ত কারুকার্য ময় মঠটি তৈরী করেছিলেন। মঠটির চুড়ায় লোহার রডের সাথে পিতলের কলস আটকানো ছিল।

কতিপয় দুস্কৃতি  কারি কলসের মধ্যে রত্ন সামগ্রী থাকতে পারে বিধায় ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে কলস ভাঙ্গার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পূনরায় ইংরেজি ২০০৮ সালের মার্চ মাসে রাতের অন্ধকারে বাঁশ ফেলে মঠের উপরে উঠে। কলসের সাথে দড়ি বেধে নিচ থেকে টেনে নামানোর চেষ্টা করলে দড়ি ছিরে যাওয়ার কারনে দুস্কৃতি কারিদের সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। খোজনিয়ে আরোও জানা-যায়, তারাপ্রসাদ রায়ের তিন ছেলে পূর্নচন্দ্র রায়, বিলাশ চন্দ্র রায় ও অজিত চন্দ্র রায়। অজিত চন্দ্র রায়ের ছেলে সুজিত চন্দ্র রায় জানায়,এটি তাদের পারিবারিক শ্নশাণখোলা হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। ইংরেজি ২০১১ সালের ২৮ অক্টোবর মঠটির উত্তর পাশে সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবহার করার জন্য একটি শ্নশাণ খোলা তৈরী করা হয়েছে। মঠের দক্ষিন পাশে ইংরেজি ১৯৮৫ সালের ৬ জুন অজিত চন্দ্র রায়, ইংরেজি ২০০৬ সালের ১৭ এপ্রিল তারক চন্দ্র রায় এবং ইংরেজি ২০০৮ সালের ২০ ডিসেম্বর আরতী রাণী রায়ের সমাধি সৌধ নির্মান করা হয়। গত ইংরেজি ২০১২ সালের ১৮ জুলাই বুধবার আনুমানিক দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিট কয়েক দিনের ভারি বর্ষনে সু-উচ্চ মঠটির উপরিভাগ লোহার রডের সাথে আটকানো ১টি পিতলের কলস ও ১টি তামার ছোট ঘট সহ ধ্বসে পরে। মঠটি উপরিভাগ ধ্বসে পরার সংবাদ পেয়ে এক নজর দেখার জন্য আশ পাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসেন। পরবর্তিতে মঠটির মালামাল থানায় জব্দ করে নিয়ে যায়। সুজিত চন্দ্র রায় আরোও জানায়, উত্তরাধীকার
সূত্রে মঠটির জব্দ কৃত মালামাল কয়েক বার লিখিত আবেদন এর মাধ্যমে তিনি ফেরত চাইলেও ফেরত পাননি।

গত ইংরেজি ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর স্বারক নং-৬১৭। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানায় , মঠের জব্দ কৃত মালামাল গুলো রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠান হয়েছে। মাইজপাড়া জমিদার বাড়ির মঠটির যেটুকু ধ্বংসাবেশ ও প্রত্ন তান্তিক নির্দেশন রয়েছে তা সংরক্ষণে নেই কোন সরকারি পৃষ্ঠ পোষকতা , নেই কোন সরকারি উদ্যোগ। মঠটি সংরক্ষণ হলে অন্তত আগামী প্রজন্ম ঐতিহাসিক নির্দশন ও এক সময়ের জমিদারী ইতিহাস জানতে পারতেন। ঐতিহ্যবাহী বিক্রমপুরের মাইজপাড়ার সু-উচ্চ মঠটি যত্ন ও সংরক্ষণের জন্য পুরাকৃর্তি বিভাগের সু-দৃষ্টি আকর্ষন করছেন সুধী মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here