কাছের মানুষ হাসান ফকরী

hasan-fakri

২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক) : হাসান ফকরী ডাক নাম বাবুল,বন্ধুরা বাবলু বলেও ডাকতো, একই ইউনিয়নের বাসিন্ধা ছিলাম আমরা-প্রাইমারী স্কুল পেড়িয়ে আমি যখন বিনোদপুর রাম কুমার বিদ্যালয়ে চতুর্থ  শ্রেনীতে ভর্তি হই তখনই হাসান ফকরীর সাথে বন্ধুত্ব হয়। একই ক্লাসের ছাত্র ছিলাম আমরা, আমি ছিলাম যেমন স্কুল পালানো খেলা পাগল দূরন্ত বালক,

হাসান ফকরী ছিল ঠিক তার বিপরীত, ভাবগম্ভির স্বভাবের ও ভাবুক প্রকৃতির। লেখাপড়ায় মনোযোগী, ক্লাসে প্রথম নয় দ্বিতীয় হতো, সময় পেলেই কবিতা,ছোট গল্প লিখতো। তাই বিদ্যালয়ে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্টান হলে আয়োজনের দায়িত্ব পড়তো হাসান ফকরীদের উপর, ক্লাসের ক্যাপটেনও হতো হাসান ফকরী, শিক্ষকদের সাথেও ছিল সৎভাব, ১৯৭০সালে আমরা মেট্রিক পাশ করে হরগঙ্গা কলেজে ভর্তি হই, হাসান ফরকী মানবিক আর আমি বানিজ্য বিভাগে, হাসান ফকরী যখন কলেজে সাহিত্য চর্চা করতো

তখন আমি কলেজ অডিটরিয়মে টেবিল টেনিস,ডাবা খেলায় মেতে থাকতাম,তবে আমাদের গ্রুপের সকলেই   আমরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম,বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তখন স্বাধীকার আন্দোলন চুড়ান্ত রুপ নেয় কলেজ সংসদের ও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আমরা হরতাল, জঙ্গি মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করতাম- তখন কলেজ প্রাঙ্গন জামতলায় অগ্নিজড়া বক্তব্য দিয়ে সাঈদ ভাই আর ইকবাল ভাই ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করতো, সেখানে হাসান ফকরীও বক্তব্য দিত, কলেজ সংসদ নির্বাচনে হাসান ফকরীকে সকলের সাথে পরামর্শক্রমে আমরা ছাত্রলীগের ব্যানারে সাহিত্য সম্পাদক পদে দ্বাড় করাই এবং পাশও করে, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে

পাক বাহিনীর হত্যাকান্ড ও জুলুম হত্যাচার সহ্য করতে না পেরে জীবনের ভয়ে বহু পরিবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহুকষ্টে নদী পার হয়ে আমাদের এলাকায় চলে আসে, এই সব শরনার্থীদের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল করিম বেপারীর নেতৃত্বে আমরা থাকা খাওয়ার ব্যাবস্থা করি এবং গন্তব্য স্থানে যাওয়ার ব্যাবস্থা করে দেই, এক সময় আমরা একে অপরের কাছ থেকে বিছিন্ন হয়ে পরি, আমি কমান্ডার ওমর আলীর গ্রুপে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেই। স্বাধীনতার পর বদু, আলিম,হাসান ফকরী

,মোহাম্মদ আলীরা সকলে মিলে কাদা মাটি নামে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্টা করে, পরবর্তীতে হাসান ফকরীর নেতৃত্বে কাদামাটির সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি লঙ্গরখানার কার্যক্রম চালিয়ে যায়।১৯৭২ সালে আই কম পাশ করার পর ঢাকা চলে যাই, জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হই,ওয়ারীতে থাকি, হাসান ফকরীর সাথে দূরত্ব তৈরী হয়,পরে জানতে পারি হাসান ফকরী সুরকার আজাদ রহমানের সাথে আছে,  আজাদ রহমানের ধানমন্ডির মিউজিক রেকডিং সেন্টারের দায়িত্বে আছে, সেখান থেকেই সাহিত্য চর্চা চায়িয়ে যাচ্ছে, এইভাবেই টেশিভিশনে দেখলাম শ্রেষ্ট গীতিকার হিসাবে স্বপ্নের নায়ক দিলীপ কুমারের হাত থেকে জাতীয় পুরুস্কার গ্রহন করছে, গর্বে আমার বুকটা ভরে উঠে, বাম বাজনীতির ঘরনার লোক চিরকুমার হাসান ফকরী মাওবাদী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, তার লেখা কাব্যগ্রন্থ ও বিভিন্ন কবিতায় লাঞ্চিত-বঞ্চিত-দুঃখী-অভাবী মানুষের প্রতিবাদী মুখ ভেসে উঠতো বা খুঁজে পাওয়া যেত। স্বাধীনচেতা

এই মানুষটা নিরব নিবৃতে তার ছোট ভাই মাসুদ ফকরীর একমাত্র মেয়ে মেঘলাকে বুকে আঁকড়ে জীবনের শেষ সময় অতিক্রম করছে, মানুষ আশা ও ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকে, বন্ধু তোমার জীবনের শেষবেলায়ও যেন ভালোবাসায় পরিপূন্ন থাকে এই মোর প্রার্থনা— কবিকে কবির চরনে  বলছি– সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya). ১৬ কোন অভিশাপ নিয়ে এল এই বিরহ বিধুর-আষাঢ়। এখানে বুঝি বা শেষ হয়ে গেছে উচ্ছল ভালবাসার। পাঠাল বারতা জলদের স্রোতে প্রিয়ার কাছেতে জানাতে চাহিল সব শেষ সব আশার।। আমার হৃদয়ে এল বুঝি সেই মেঘ, সেই বিহবল পর্বত-উদ্বেগ। তাই এই ভরা বাদল অাঁধারে মন উন্মন …

kamal ahmed  কামাল আহাম্মেদ, ভাস্কর গোষ্ঠী

Attachments area

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here