বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বাজেট পেশ আজ

১ জুন ২০১৭ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক) : বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আজ বেলা দেড়টায় এই বাজেট পেশ করবেন। সামগ্রিকভাবে আগামী অর্থবছরে জাতীয রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেয়া হচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্য থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি।

এটি হবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের চতুর্থ বাজেট। তবে আওয়ামী লীগের টানা দুই মেয়াদে অর্থমন্ত্রী মুহিতের এটি নবম বাজেট। এর আগে আশির দশকে এরশাদের শাসনামলে দুবার সংসদে বাজেট পেশ করেন মুহিত। সব মিলিয়ে ১১তম বারের মতো জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন তিনি।

বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবার নতুন ভ্যাট আইনের ওপর ভরসা করতে হবে এনবি আরকে। আগামী অর্থবছরে এই খান থেকে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে চায় এনবিআর। এটি চললতি বছরের চেয়ে বছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে ভ্যাট খাতে সংশোধিত লক্ষ্য ঠিক করা আছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এরপর আয়কর খাতে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে। আর শুল্ক খাতে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে জানা গেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের পরিধি আরও বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে। আর এ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দেরও প্রস্তাব থাকছে।

ইতোমধ্যে আগামী অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। এডিপিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য একনেক মোট এক লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে মূল এডিপি এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মূল এডিপির সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ থাকবে ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার হচ্ছে এক লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের অনুমোদিত এডিপির মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ও বৈদেশিক উৎস থেকে ৫৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত ১ মে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় এডিপির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

আগামী অর্থবছরের এডিপিতে পরিবহন খাতে ৪১ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বিদ্যুৎ খাতে ১৮ হাজার ৮৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ১৬ হাজার ৬৭৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা, ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে ১৪ হাজার ৯৪৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১৪ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হবে।

নতুন ভ্যাট আইনে ১৪০০ পণ্য ও সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক রাখা হচ্ছে। মৌলিক খাদ্যপণ্য, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, গণপরিবহন, চিকিৎসা ও শিক্ষা, কৃষি, মৎস্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতের এক হাজার ৮৭৪টি পণ্য ও সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি থাকছে।

নতুন করে যেসব পণ্য ও সেবা ভ্যাট অব্যাহতির তালিকায় আসছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হালকা প্রকৌশল খাতে মোটরসাইকেল, রেফ্রিজারেটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) সংযোজন শিল্প, ভোজ্যতেল, সফটওয়্যার শিল্প, বাস-ট্রেন-লঞ্চের টিকিট প্রভৃতি।

৭৫০ বর্গফুটের কম আয়তনের ফ্ল্যাট কেনায় দেড় শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে। আবার জমি কেনার নিবন্ধনের সময় আড়াই শতাংশ ভ্যাটও থাকছে না।

অন্যদিকে ভ্যাটমুক্ত সীমা এবং টার্নওভার করের পরিধিও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ৩০ লাখ টাকার পরিবর্তে ৩৬ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হলে ওই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট দিতে হবে না। টার্নওভার করের পরিধি ৩৬ লাখ থেকে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত করা হতে পারে।

আজ যে বাজেট উপস্থাপন করা হবে সেটি দেশের ৪৬তম বাজেট এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ১৮তম। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে ঘোষিত বাজেটের আকার, এডিপির পরিমাণ এবং বাজেটের ঘোষকের বিবরণ তুলে ধরে হলো। টাকার পরিমাণ কোটির হিসেবে। এখানে অর্থবছর-বাজেট প্রস্তাবক-মোট বাজেটের আকার এডিপি উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৭২-৭৩ -তাজউদ্দীন আহমেদ -৭৮৬ কোটি টাকা ৫০১ কোটি টাকা

১৯৭৩-৭৪ -তাজউদ্দীন আহমেদ -৯৯৫ কোটি টাকা ৫২৫ কোটি টাকা

১৯৭৪-৭৫ -তাজউদ্দীন আহমেদ -১,০৮৪ কোটি টাকা ৫২৫ কোটি টাকা

১৯৭৫-৭৬ -ড. আজিজুর রহমান -১,৫৪৯ কোটি টাকা ৯৫০ কোটি টাকা

১৯৭৬-৭৭ -মেজর জেনারেল জিয়া -১৯৮৯ কোটি টাকা ১,২২২ কোটি টাকা

১৯৭৭-৭৮ -লে. জেনারেল জিয়া -২,১৮৪ কোটি টাকা ১,২৭৮ কোটি টাকা

১৯৭৮-৭৯ -প্রেসিডেন্ট জিয়া -২,৪৯৯ কোটি টাকা ১,৪৪৬ কোটি টাকা

১৯৭৯-৮০ -ড. এম এন হুদা -৩,৩১৭ কোটি টাকা ২,১২৩ কোটি টাকা

১৯৮০-৮১ -এম সাইফুর রহমান -৪,১০৮ কোটি টাকা ২,৭০০ কোটি টাকা

১৯৮১-৮২ -এম সাইফুর রহমান -৪,৬৭৭ কোটি টাকা ৩,০১৫ কোটি টাকা

১৯৮২-৮৩ -এ এম এ মুহিত -৪,৭৩৮ কোটি টাকা ২,৭০০ কোটি টাকা

১৯৮৩-৮৪ -এ এম এ মুহিত -৫,৮৯৬ কোটি টাকা ৩,৪৮৩ কোটি টাকা

১৯৮৪-৮৫ -এম সাইদুজ্জামান -৬,৬৯৯ কোটি টাকা ৩,৮৯৬ কোটি টাকা

১৯৮৫-৮৬ -এম সাইদুজ্জামান -৭,১৩৮ কোটি টাকা ৩,৮২৫ কোটি টাকা

১৯৮৬-৮৭ -এম সাইদুজ্জামান -৮,৫০৪ কোটি টাকা ৪,৭৬৪ কোটি টাকা

১৯৮৭-৮৮ -এম সাইদুজ্জামান -৮,৫২৭ কোটি টাকা ৫,০৪৬ কোটি টাকা

১৯৮৮-৮৯ -মেজর জেনারেল মুনিম -১০,৫৬৫ কোটি টাকা ৫,৩১৫ কোটি টাকা

১৯৮৯-৯০ -ড. ওয়াহিদুল হক -১২,৭০৩ কোটি টাকা ৫,৮০৩ কোটি টাকা

১৯৯০-৯১ -মেজর জেনারেল মুনিম -১২,৯৬০ কোটি টাকা ৫,৬৬৮ কোটি টাকা

১৯৯১-৯২ -এম সাইফুর রহমান -১৫,৫৮৪ কোটি টাকা ৭,৫০০ কোটি টাকা

১৯৯২-৯৩ -এম সাইফুর রহমান -১৭,৬০৭ কোটি টাকা ৯,০৫৭ কোটি টাকা

১৯৯৩-৯৪ -এম সাইফুর রহমান -১৯,০৫০ কোটি টাকা ৯,৭৫০ কোটি টাকা

১৯৯৪-৯৫ -এম সাইফুর রহমান -২০,৯৪৮ কোটি টাকা ১১,০০০ কোটি টাকা

১৯৯৫-৯৬ -এম সাইফুর রহমান -২৩,১৭০ কোটি টাকা ১২,১০০ কোটি টাকা

১৯৯৬-৯৭ -এস এ এম এস কিবরিয়া -২৪,৬০৩ কোটি টাকা ১২,৫০০ কোটি টাকা

১৯৯৭-৯৮ -এস এ এম এস কিবরিয়া -২৭,৭৮৬ কোটি টাকা ১২,৮০০ কোটি টাকা

১৯৯৮-৯৯ -এস এ এম এস কিবরিয়া -২৯,৫৩৭ কোটি টাকা ১৩,৬০০ কোটি টাকা

১৯৯৯-০০ -এস এ এম এস কিবরিয়া -৩৪,২৫২ কোটি টাকা ১২,৪৭৭ কোটি টাকা

২০০০-০১ -এস এ এম এস কিবরিয়া -৩৮,৫২৪ কোটি টাকা ১৭,৫০০ কোটি টাকা

২০০১-০২ -এস এ এম এস কিবরিয়া -৪২,৩০৬ কোটি টাকা ১৯,০০০ কোটি টাকা

২০০২-০৩ -এম সাইফুর রহমান -৪৪,৮৫৪ কোটি টাকা ১৯,২০০ কোটি টাকা

২০০৩-০৪ -এম সাইফুর রহমান -৫১,৯৮০ কোটি টাকা ২০,৩০০ কোটি টাকা

২০০৪-০৫ -এম সাইফুর রহমান -৫৭,২৪৮ কোটি টাকা ২২,০০০ কোটি টাকা

২০০৫-০৬ -এম সাইফুর রহমান -৬১,০৫৮ কোটি টাকা ২৩,৬২৬ কোটি টাকা

২০০৬-০৭ -এম সাইফুর রহমান -৬৯,৭৪০ কোটি টাকা ২৬,০০০ কোটি টাকা

২০০৭-০৮ -মির্জা আজিজুল ইসলাম -৯৯,৯৬২ কোটি টাকা ২৫,৬০০ কোটি টাকা

২০০৮-০৯ -মির্জা আজিজুল ইসলাম -৯৯,৯৬২ কোটি টাকা ২৫,৪০০ কোটি টাকা

২০০৯-১০ -এ এম এ মুহিত -১,১৩,৮১৫ কোটি টাকা ২৮,৫০০ কোটি টাকা

২০১০-১১ -এ এম এ মুহিত -১,৩২,১৭০ কোটি টাকা ৩৫,১৩০ কোটি টাকা

২০১১-১২ -এ এম এ মুহিত -১,৬১,২১৪ কোটি টাকা ৪১,০৮০ কোটি টাকা

২০১২-১৩ -এ এম এ মুহিত -১,৯১,৭৩৮ কোটি টাকা ৫২,৩৬৬ কোটি টাকা

২০১৩-১৪ -এ এম এ মুহিত -২,২২,৪৯১ কোটি টাকা ৬০,০০০ কোটি টাকা

২০১৪-১৫ -এ এম এ মুহিত -২,৫০,৫৬০ কোটি টাকা ৭৫,০০০ কোটি টাকা

২০১৫-১৬ -এ এম এ মুহিত -২,৯৫,১০০ কোটি টাকা ৯৩,৮৯৪ কোটি টাকা

২০১৬-১৭ -এ এম এ মুহিত -৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকা ১,১০,৭০০ কোটি টাকা।

ঢাকাটাইমস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here