মুন্সিগঞ্জে ছাত্রলীগের পাঁচ চরের নেতাদের পদ প্রাপ্তীতে বিবাহিত-অছাত্রদের নিয়ে তোলপাড়

১৮ জুলাই ২০১৭ (মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডেস্ক) :

মুন্সিগঞ্জে ছাত্রলীগের পাঁচ চরের নেতাদের মধ্যে কয়েকজন অছাত্র, বিবাহিত ও সন্ত্রাসীদের পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠছে। আধারা ইউনিয়নের সভাপতি মো: নাঈমুর মাহমুদ বিবাহিত।

চরকেওয়ার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাহাত আহম্মেদ শাকিল বিবাহিত, শিলই ইউনিয়নের সভাপতি পারভেজ মৃধা বিবাহিত। পাঁচ চরের মধ্যে তিন চরেই বিবাহিতরা স্থান পাওয়ায় হতাশ ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আদেশ অমান্য করে কিভাবে এদেরকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হলো তা তাদের বোধগম্য নয়। এমনকি মোটা অংকের টাকাও লেন দেন হয়েছে বলে গুনঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এই টাকার কারণেই নাকি অছাত্র, বিবাহিত ও সন্তাসীদের জায়গা হচ্ছে মুন্সিগঞ্জের ছাত্রলীগে এমন অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগের অনেকে।

কিন্তু তাদেরকে বড় পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী অ-ছাত্র, বিবাহিত ও সন্ত্রাসীদের কোন পদ না দেওয়ার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। যদি কেউ থেকে থাকে তাদেরকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে সরে যেতে বলা হয়েছে। এত কিছুর পরেও মুন্সিগঞ্জের পাঁচ চরে ছাত্রলীগের কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত ও সন্ত্রাসীদের নাম চলে আসছে কিভাবে হতাশ সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মীরা।

এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে মুন্সিগঞ্জে। কিন্তু নীতি নির্ধারকরা দেখেও না দেখার ভান করছে বলে মনে করছেন সাধারণ ছাত্রনেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রনেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অছাত্র, সন্ত্রাসী ও বিবাহতরা যদি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পায় তবে সেটা আর ছাত্ররাজনীতি থাকলো না। কেন্দ্রীয় আদেশ অমান্য করে তথ্য গোপন করে এই কমিটি করা হয়েছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ’কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উল্টো পথে হাটলো মুন্সিগঞ্জের পাঁচ চরের ছাত্রলীগ।

গত ১২ই জুলাই বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে সাধারণ সভায় ছাত্রলীগের পদধারী বিবাহিত নেতা-কর্মীদের ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন এই নির্দেশ দেন।

তাদের আল্টিমেটামে দেশব্যাপী ছাত্রলীগের বিবাহিত নেতারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেও মুন্সিগঞ্জে তার ব্যতিক্রম ঘটছে। যেখানে ৭২ ঘন্টা অতিবাহিত না হতেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিলই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হলেন মোঃ পারভেজ মৃধা।

শিলই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি মোঃ পারভেজ মৃধার বিরুদ্ধে বিবাহিত সহ অছাত্র হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। শিলই হাজী মনিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পরীক্ষায় উর্ত্তীন হয়ে প্রবাসে পাড়ী জমান এবং দেশে ফিরে ২০১৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

অপরদিকে আধারা ইউনিয়নের নব নির্বাচিত ছাত্রলীগের সভাপতি মো: নাঈমুর মাহমুদ একজন বিবাহিত ছাত্র নেতা।

চরকেওয়ার ইউনিয়নের সভাপতি চরকেওয়ার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাহাত আহম্মেদ শাকিল বিবাহিত হলেও তিনি চরকেওয়ার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বিহন আহমেদ মুঠোফোনে জানান, গঠনতন্ত্র না মেনে ছাত্রলীগের মতো একটি শক্তিশালী সংগঠনে অছাত্র – বিবাহিত মোঃ পারভেজ মৃধা’কে সভাপতি করায় শিলই ইউনিয়নের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।তিনি আরও বলেন নতুন কমিটি বাতিল করে প্রকৃত অবিবাহিত – ছাত্রদের হাতে ছাত্রলীগের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার জন্য মুন্সিগঞ্জের জননেতা আলহ্বাজ মহিউদ্দিন সাহেব ও মুন্সীগঞ্জ পৌর মেয়র হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব এর হস্তক্ষেপ কামনা করে শিলই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ।

ক্রাইম ভিশন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here