জমির উর্বর মাটি ইটভাটায় সিরাজদিখানে ফসল উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:  মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ইটভাটায় ইট তৈরির জন্য বিক্রি হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃষকদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে স্বল্পমূল্যে জমির উর্বর মাটি কিনে ইটভাটায় বেশি মূল্যে বিক্রি করছেন। এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলার বালুচর, লতব্দী, বাসাইল, কেয়াইন, চিত্রকোট ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, শীত মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়েছে। আবাদি জমির ওপরের অংশ এক থেকে ১৫-২০ ফুট গর্ত করে কেটে নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায়ের ভাষ্যমতে, ‘জমির উপরি ভাগের দেড় থেকে দুই ফুট  অংশের মধ্যেই মাটির মূল  উর্বরশক্তি বিদ্যমান। কিন্তু ওই অংশটিই কেটে নেওয়ার ফলে জমির উর্বরশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। এভাবে  মাটি বিক্রি অব্যাহত থাকলে  একসময় ফসল উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, বালুচর ইউনিয়নে কালাচান মাতবর, আলীম উদ্দিন চান্দ্রের চর মৌজায়, লতব্দী ইউনিয়নে সাবেক ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সেন্টু মিয়া, জহিরউদ্দিন, আসাদ মাতবর খিদিরপুর মৌজায়, বাসাইল ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর ঘোড়ামারা মৌজায়, কেয়াইন ইউনিয়নে কামরুজামান কামু বড় বর্তা মৌজায় এবং চিত্রকোট ইউনিয়নে ফুলহার গ্রামের শাহআলম, বাবুল, লেহাজ উদ্দিন, জয়নাল আবেদিন গোয়ালখালী মৌজার  ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে।

উজেলার মাটি বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত চান্দ্রের চর গ্রামের কালাচান মাতবর বলেন, আমরা কোনো সরকারি জায়গা কাটি না, রেকর্ডকৃত মালিকানা জায়গা ফুট হিসেবে কিনে নিয়ে যাদের মাটির প্রয়োজন তাদের কাছে বিক্রি করি।’

সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটার সংবাদ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

সমকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here