মহাকালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস কক্ষসহ একাধিক কক্ষে তালা: শিক্ষার্থীদের আনন্দ মিছিল

মহাকালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস কক্ষসহ একাধিক কক্ষে তালা

মোহাম্মদ সেলিম, বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের মহাকালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস কক্ষসহ একাধিক কক্ষে তালা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহসীন আলী চাবি নিয়ে চলে যাওয়ায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কাজে অসুবিধা দেখা দিয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকই বুধবার দিন তাদের দিনের হাজিরা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার দিনই এই ঘটনাটি ঘটেছে।

মহাকালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস কক্ষসহ একাধিক কক্ষে তালা 1মুন্সিগঞ্জ সদর আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ মো: একরামুল কবিরের আদেশ নিয়ে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রাজিবুল হাসান বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য আসলে এমন ঘটনাটি ঘটে। যাতে প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রাকিবুল হাসান এই দিনে বিদ্যালয়ে যোগদান না করতে পারে। তাই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে এখানকার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা মনে করছে। প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রাকিবুল হাসান বিদ্যালয়ে ফিরে আসায় বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল বের করে প্রধান শিক্ষকের পক্ষে। প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রাকিবুল হাসান এখানকার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। তার সময়ে বিদ্যালয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে বলে এখানকার অভিভাবকরা দাবি করেন। তাছাড়া তার সময়ে এই বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান ফিরে এসেছে বলে অভিভাবকরা অভিমত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তার বিপক্ষে একটি বিশেষ গ্রুপ গড়ে উঠায় এখানকার শিক্ষার পরিবেশে কালো ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ হচ্ছে, এই বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক প্রতিনিধি অন্যের হয়ে এই কলনাটি চালাচ্ছে।

অফিস কক্ষে তালা কেন? এই বিষয়ে অফিস কক্ষের দায়িত্বে মো: সালাউদ্দিন বলেন, আমি এই বিষযে কোন বক্তব্য দিতে পারবো না।

মহাকালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস কক্ষসহ একাধিক কক্ষে তালা 2ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহসীন আলী বুধবার বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায়, তার পরিবর্তে দায়িত্বে ছিলেন সহকারী শিক্ষক কষ্ণ প্রসাদ। হাজিরা খাতায় উপস্থিত প্রসঙ্গে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহসীন আলী’র কাছে হাজিরা খাতা রয়েছে। তিনি বুধবার দিন বিদ্যালয়ে আসেননি। আমাকে ফোন করে বুধবারের দিনের কাজ চালিয়ে নিতে বলেছে। তিনি বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে আসেলে আমরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করবো।
এই বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহসীন আলী’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি একটু দূরে আছি। এই বিষয়ে পরে কথা বলতে পারবো। তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেই, পরে একটি নারী কন্ঠের মোবাইল আসে। সেই মোবাইলের নারী ব্যক্তিটি আমি কে? আমার পরিচয় কি? তা জানতে চায়? তাতে আমার ধারণা হচ্ছে যে বিশেষ নারী ব্যক্তিটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহসীন আলী’র কেউ হন। সেই নারী ব্যক্তির মোবাইল নামারটি আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রাকিবুল হাসান বলেন, আদালতের রায় নিয়ে আমি ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে আসি। সেই সময় দেখি আমার কক্ষ তালা দেয়া। বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে বুধবার আমি বিদ্যালয়ে যোগদানের সভা করেছি। যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা হচ্ছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো: আব্দুল মান্নান, বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী মো: নাসির উদ্দিন হাওলাদার, বিদ্যালয়ের এলাকাবাসী মো: খাদেম হোসেন, মহাকালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আ’লীগের সভাপতি মো: নূর হোসেন বেপারী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক শামীম উল হক সরকার।
তিনি আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ যড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাই বিদ্যালয়ে এই পরিস্থিতি চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here