আওয়ামী লীগে কাউয়্যা, অযাচিত অতিথি অনেকের কাছে যাদুর চেরাগ

বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ, রবিবার, ১ জুলাই ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

ok post

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরিন রাজনীতিতে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে ব্যাপক আলোচনা,সমালোচনা হচ্ছে, এই আলোচনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের থেকে শুরু করে তৃনমূল নেতা-কর্মি-সমর্থকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বার বার এই অনুপ্রবেশকারীদের কর্মকান্ডে বিরক্ত হয়ে ক্ষোভের সাথে বলেছেন যারা ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে তাদের সদস্যপদ দেওয়া যাবে না, এই সুবিধাবাদীদের আওয়ামী লীগ থেকে বিতাড়িত করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের এই অনুপ্রবেশকারীদের কর্মকান্ডে এতোই ত্যাক্ত-বিরক্ত কখনো কখনো তিনি ক্ষোভের সাথে অনুপ্রবেশকারীদের,অতিথি পাখী, কাউয়্যা,ফার্মেও মূরগী আখ্যা দিয়েছেন।

কাজের কাজ কিছুই হয়নি যে লাউ সেই কদু, অনুপ্রবেশকারীকারী আওয়ামী লীগে বহাল তবিলতে আছে, এখন ভেবে দেখুন এই কাউয়্যাদের খুটির জোর কতো? এই অুপ্রবেশকারীরা হলো আওয়ামী লীগে গেড়ে বসা ইজরাইল, তারা বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আওয়ামী লীগের জন্য হুমকীর কারন,

যদি এখনই এই কাউয়্যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে যেতে পারে,জয় বাংলা শ্লোগান হারিয়ে যেতে পারে, বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ব বিলীন হতে পারে। ফিলিস্তিনী জায়গায় ইজরাইলদের জায়গা দিয়ে ফিলিস্তিনীদের যে অবস্থা হয়ে ছিল। প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মি-সমর্থকদের সেই অবস্থাই হতে পারে, কারন এই কাউয়্যাদের আছে অর্থশক্তি,বাহুবল আর অস্রের ঝন-ঝনানী।

অনুগ্রবেশকারীরা এমনিভাবে কচুরীপানার মতো ভেসে ভেসে আসে নাই, তার কোন প্রভাবশারী নেতা-এম.পি-মন্ত্রীর কল্যানে আওয়ামী লীগে ডুকেছে, আর এই অনুগ্রবেশকারীদের অধিকাংশই হলো জামাতি,বি.এন.পি আর সুবিধাবাদী। তাদের কেহ ঠিকাদারী,চাঁদাবাজী আর অবৈধব্যবসায়ী,সন্ত্রাসী বা ক্ষমতা লিপ্সু। তাদের এই অনুপ্রবেশের জন্য দিতে হয়েছে অর্থ-সমর্থন বা সভাসমাবেশের জন্য লোকবল,অর্থবল,পোষ্টার, ব্যানার,এমনকি আগ্নেয়াস্র ।

বিগত ৮/১০ বৎসরেরই অনুপ্রবেশকারীরা আওয়ামী লীগে নিজেদের একটা শক্ত অবস্থান তৈরী করে নিয়েছে, অর্থের জোড়ে তৈরী করেছে নিজেদের পরিমন্ডল, বাগিয়ে নিয়েছে অনেক জনপ্রতিনিধির পদ, হয়েছে এম.পি,চেয়ারম্যান,মেম্বার, কাউন্সিলার এমনকি অনেক এলাকায় আওয়ামী লীগের বড় পদ বাগিয়ে নিয়েছে।

এই ফার্মের মুরগীরা পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাগিয়ে নিচ্ছে ঠিকাদারী ব্যবসা, বাসষ্টেন থেকে শুরু করে প্রতিটি লাভজনক জায়গায় কাউয়্যারা ঠোকর মারছে,এম.পির বিভিন্ন কোঠা, বি.জি এফের বরাদ্ধ সব কিছুতেই এই অনুপ্রবেশকারীদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরী করে নিয়েছে,স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কমিটির পদ বাগিয়ে নিয়ে, নিজেকে সরকারী কর্মকর্তাদের সু-নজর রেখেছে।

তাদের নীতি আদর্শ হলো ক্ষমতা আর মালপানি কামানো, তারা জয় বাংলা শ্লোগান দেয় আর আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত লোকদের পেটায়, তারা জয় বাংলা শ্লোগান দেয় আর চাঁদাবাজী করে, তারা জয় বাংলা শ্লোগান দেয় আর জায়গা জবর দখল করে, তারা জয় বাংলা শ্লোগান দেয় আর সন্ত্রাস চালায়।

আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদকের মতো আরো অনেক নেতারা এই কাউয়্যাদের তাড়ানোর কথা বলেছেন, একটি কাউয়্যাও যায় নাই বরং এই কাউয়্যারা আরো কাউয়্যা এনে আওয়ামী লীগে দল ভারী করছে। বলা চলে এই কাউয়্যা শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, আমরা যাব না পারলে তাড়াও, দেখ, কে কারে তাড়ায়।

আওয়ামী লীগে এক শ্রেনীর গিদর আছে,যারা কুত্তার শ্রেনীভুক্ত, তারা অর্থ ও ক্ষমতার জন্য এই হেন কাজ নাই করতে পারে না, তাই এই গিদরদের জন্যই আওয়ামী লীগে আজ কাউয়্যা আর ফার্মের মুরগীর শক্ত অবস্থান, বলা যায় এই গিদররা আবার কেহ কেহ মাকড়সার জাত, যে মাকড়সা নিজের ডিম বুকে বহে চলে,বাচ্ছা জম্ম দেওয়ার জন্য, সেই মাকড়সা বাচ্চা কি না মায়ের বুক খেয়ে বড় হয়,পরিমানে মাকড়সার মৃত্যু, এটাই নিয়তি, এই নিয়তির মধ্যে আওয়ামী লীগকে টেনে নিচ্ছে গিদররা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে এই নিয়তী থেকে মুক্ত হতে হবে, এই ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরকে নিজ সিদ্ধান্তে অটুক থাকতে হবে, ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত সকল কমিটি গঠনের সময়,নতুন সদস্য পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে গভীর পর্যবেক্ষন করতে হবে, এতো দিন ভেড়ায় ক্ষেত খাইছে গরু-ছাগলের উপর নজর দিতে হয় নাই,

এখন আওয়ামী লীগের গরু-ছাগলদের সাথে ভেড়াকেও খোয়াড়ে দিতে হবে,ভেড়ারা প্রতি নজরদারী করতে হবে। আর এই নজরদারীর বিষয় একটি কথা বলতে হয়,ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না। এই ধরনের পন্ডিতদের উপর কোন দায়িত্ব প্রদান হীতে বিপরীত হতে পারে। যতদিন বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতে আওয়ামী লীগ ততদিন আমরা আশাবাদি থাকবো, আওয়ামী লীগ গিদরমুক্ত হবে, পরিক্ষিত তৃনমূল নেতা-কর্মি-সমর্থকদের যথাযথ মুল্যায়ন হবে।

সম্পাদক,চেতনায় একাত্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here