বাজারে বিভিন্ন জাতের প্রচুর আম সাধ্যমত সকলে আম কিনছে

বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ,রবিবার, ১ জুলাই ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

catshhh

“পাকা আমের মধুর রসে রঙ্গিন করি মুখ” ফলের রাজা আম, যদিও আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল,তথাপি আমাদের রসনা তৃপ্তির জন্য যে ফলটি প্রিয়,সেই ফল আম,তাই আমরা আমাদের দেশীয় ফলের নাম নিতেই আমরা বলে থাকি আম,জাম,কাঁঠাল,লিচু,আনারস ইত্যাদি, আমের নামটিই প্রথম এসে যায়।

এই বৎসর আমের প্রচুর ফলন হয়েছে, বাজারেও প্রচুর আম উঠেছে, দামও গত বৎসরের চেয়ে কম, তাই সাধ্যমত সকল শ্রেণীর মানুষই আম কিনে খাচ্ছে। বাংলাদেশের সকল এলাকায়ই আমের ফলন আছে, কোন কোন এলাকার আম খেতে সুস্বাদু, কোন কোন এলাকার আম টক,আবার কোন কোন এলাকার আম জুন্ন্যা।

তবে রাজশাহী,চাপাইনবাগঞ্জের আম সুস্বাদু-মিষ্টি।ঢাকা-কুমিল্লা-ময়মনসিংহ,বরিশাঁলের বেশী ভাগ আম টক হয় আর পাহাড়ি এলাকার বেশির ভাগ আম জুন্না হয়, টক আম দিয়ে আঁচার তৈরি করা হয়, ভর্তা করে খাওয়া হয়। জুন্না আম দিয়ে আমসত্ব তৈরি করা হয়, মৌসুমি ফল হিসাবে বাংলাদেশের সর্বত্র আম একটি আকাঙ্ক্ষিত ফল।

বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমের ফল মধ্যে আমের মতো এত সুস্বাদু ফল আর নেই। আমের যেমন ঘ্রাণ, তেমনি মজাদারও বটে। তাই তো বলা হয়, ফলের রাজা আম। আম আঁটিযুক্ত ফল। আম দিয়ে বানানো হয় চাটনি, আচার, আমসত্ত্ব, জুস। গ্রীষ্মকালে আমের সঙ্গে দুধ-কাঁঠাল মিশিয়ে মজাদার খাবার তৈরি হয়। কাঁচা আমের রং সবুজ। পাকলে অনেকটা হলদেটে এবং কমলা মিশ্রিত লাল আভাযুক্ত। কোনো কোনো জাতের আম আছে, যা পাকলেও সবুজ দেখা যায়। আকারভেদে একেকটি আমের ওজন ১৫০ গ্রাম থেকে প্রায় এক কেজি হয়ে থাকে। এসব আমের বিভিন্ন রকম নাম আছে। ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাত, কাঁচা মিষ্টি, হিমসাগর, আম্রপালি, খিরসাগর, ফজলি, কিষাণভোগ, মোহনভোগ, মিছরিভোগ, গুঁটি, লখনা, আশ্বিনাসহ আমাদের দেশে কয়েক’শ প্রজাতির আম রয়েছে।

বাংলাদেশের সুস্বাদু আম গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাতি, ল্যাংড়া, রুপালি আমের চাহিদা বাড়ছে। ব্যাবসায়িক কারনে আমের বাগানের পরিধি বেড়ে উৎপাদনে রীতিমত বিপ্লব ঘটছে। আম উৎপাদনকারী দেশ হিসাবে বাংলাদেশ এখন তিন ধাপ এগিয়ে সপ্তম অবস্থানে আছে। পাঁচ বছর আগে ১০ নম্বরে ছিল। বছরের চাকা ঘুরলেই আম চাষের জমির পরিমান বাড়ছে। উৎপাদনে যোগ হচ্ছে বাড়তি পঞ্চাশ হাজার মেট্রিক টন।বর্তমানে প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। আর উৎপাদন প্রায় ১৪ লাখ টন। আমের বাজারের ব্যাপ্তি প্রায়৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাব জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিসংস্থা(এফএও)দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়।

সুমিষ্ট ফলের মধ্যে আমের তুলনা নেই। মৌসুমি ফল হলেও, এর স্থায়িত্ব বছরের প্রায় তিন থেকে চারমাস। এছাড়া ফ্রিজিং করে রাখাও যায়। স্বাদ নষ্ট হয় না। আমের ফলন ভালো হয় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রভৃতি অঞ্চলের আম সবচে’ উন্নতমানের হয়।

সারাদেশে রাজশাহী জেলা থেকেই বেশি আম সরবরাহ হয়ে থাকে। আমের অন্যান্য জাত ছাড়াও বিশেষ করে রাজশাহীর ফজলি বিখ্যাত। ফজলি আম বাজারে আসে সবার শেষে। আকারেও যেমন বড়, স্বাদেও অদ্বিতীয়। তাই আমের রাজা বলা চলে ফজলিকে।

আমের বাহারি নাম, রকমারি স্বাদ লেংড়া, ক্ষিরসাপাতি, সিন্দুরা, চোসা, রাজভোগ, গোপালভোগ,

ফজলি, আম্রপালি, হাড়িভাঙ্গা, কাচামিঠা, হিমসাগর, লক্ষণভোগ, দুধসাগর, গোবিন্দভোগ, গুলাবখাস, গুটি, সুন্দরী, বোম্বাই, মল্লিকা, লখনা, আশ্বিনা,

বিভিন্ন আমের নামকরণ

হাড়িভাঙ্গা

এক লোক আম খেয়ে হাড়িতে রেখে দেয়। কিছুদিন পরে ওই হাড়ি ফুঁড়ে আত্মপ্রকাশ করে একটা চারাগাছ। আর চারাগাছ রূপান্তর হয় পরিপূর্ণ গাছে। তারপর সেই গাছে আসে রূপবতী আম। তার স্বাদ কী যেইসেই? অমৃতের স্বাদ নিয়ে যে আমের আত্মপ্রকাশ ভাঙ্গা হাড়ি থেকে, তার নাম হয়ে গেল হাড়িভাঙ্গা।

ফজলি আম

ব্রিটিশ ভারতে মালদহ জেলার কালেক্টর রাজভেনশ ‘ফজলি’ নামকরণ করেন। এর আগে ফজলি আম ‘ফকিরভোগ’ বলে পরিচিত ছিল। বলা হয়, ফজলি বিবি নামে এক বুড়ির বাড়ি থেকে প্রথম এই জাতটি সংগৃহীত হয়েছিল। তিনি বাস করতেন বাংলার স্বাধীন সুলতানদের ধ্বংসপ্রাপ্ত গৌড়ের একটি প্রাচীন কুঠিতে। তার বাড়ির আঙিনায় ছিল একটি পুরনো আমগাছ। তবে এটি কোন জাতের, সে বিষয়ে কোনো ধারণা ছিল না তার। ফজলি বিবি গাছটির খুব যতœ নিতেন। গাছটিতে প্রচুর আম ধরত। আমগুলো যেমন আকারে বড়, তেমনি সুস্বাদু। সেখানকার নির্জনবাসী ফকির-সন্ন্যাসীদের তিনি এই আম দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। সে জন্য ফজলি বিবি এই আমের নাম দিয়েছিলেন ফকিরভোগ।

কালেক্টর রাজভেনশ একবার অবকাশ যাপনের জন্য ফজলি বিবির কুঠির কাছে শিবির স্থাপন করেন। তার আগমনের খবর পেয়ে ফজলি বিবি ফকিরভোগ আম নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। ইংরেজ সাহেব সেই আম খেয়ে খুবই তৃপ্ত হন। ফজলি বিবির আতিথেয়তায় তিনি এতই খুশি হয়েছিলেন যে, ওই আমের তিনি নাম দেন ‘ফজলি’। তখন থেকে এই নাম মানুষের মুখে মুখে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

ডায়াবেটিক আম

আমের এই জাতটি ইদানিংকালের আবিষ্কার। আমটি সুস্বাদু, সুমিষ্ট, রং, রস, আঁশহীন ও সুগদ্ধ মেশানো দৃষ্টি নন্দন। আকর্ষণীয় এই অভিনব জাতটি উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারের পরিচালক ও উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে গবেষণা করে তিনি উদ্ভাবন করেছেন ডায়াবেটিক বা বাউ আম-৩। এই আমে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম বিধায় তা ডায়াবেটিকস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। এই আমের আঞ্চলিক নাম হচ্ছে আম্রপালি।

আসলে আমাদের দেশে আমের বাহারি জাত হলেও, এসব আমের নামকরণ কোনটাই ঐতিহাসিক না। কেবল কিছু আমের নামকরণ বাণিজ্যিকভাবে হয়ে এসেছে। তাও সেই নামকরণগুলি অ্যাকাডেমিকভাবে হয়নি।লোকমুখে ছড়ানো নামগুলোই সবাই নিয়েছে।

কিছু সংক্ষিপ্ত নামকরণের নমুনা

ক্ষিরের মত মিষ্টি যে আমের স্বাদ তার নাম ক্ষিরসাপাতি। রানী যে আম খেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন, সেই আমের নাম রানীভোগ।

বিহারের এক ল্যাংড়া ফকিরের বাড়ি থেকে সংগৃহিত চারা গাছ থেকে যে আমের সন্ধান মিলে, তার নাম হয়ে যায় ল্যাংড়া।

যে আমটা কাচা থাকতে মিষ্টি হয়, পাকলে টক হয়ে যায় তার নাম কাচামিঠা।

দুধ ভাতের সাথে আম মিশিয়ে খেতে কে না পছন্দ করে? আমের ত্বক নরম ও মিষ্টি হলে সেই আম মাখানো দুধ ভাতের মজাই আলাদা। দুধভাতের আমের নাম হয়ে গেলো দুধসাগর।

চোষা আম বাংলাদেশের না। ইন্ডিয়াতেই এর উৎপত্তি। কিন্তু বাংলাদেশে পাওয়া যাবে সৃজনের শুরু থেকেই। যেমন মিষ্টি তেমনি এতে আঁশের পরিমাণ শূন্যের কোঠায়। তাই হাতের তালুতে নিয়ে মর্দন করে, ভেতরের ত্বক জুস বানিয়ে খাওয়ার অভ্যাস ছোট বড় সবারই আছে। এভাবে চুষে খাওয়া আমের নাম হচ্ছে চোষা আম।

আবার আঞ্চলিকতাভেদে কিছু আমের একাধিক নামও এসেছে মানুষের ব্যবহারে। যেমন ময়মনসিংহের উত্তরাঞ্চলে রশুনে আম বলা হয় এক জাতের আমকে। তার স্বাদ যেমনি হোক, রশুনের মত গন্ধ বলে তার নাম রশুনে আম। এভাবে প্রায় আমেরই অদ্ভুত নামকরণ হয়ে গেছে। মানুষ আম ভালোবাসছে, খাচ্ছে। ইদানীং আম ব্যবসায়ীরা আমে ফরমালিন দিচ্ছে, পত্রিকায় নিউজ হচ্ছে, আম খেয়ে মৃত্যুভয়। তবু আমের বাজারে বেচাকেনা বন্ধ নেই। আমের প্রতি আমাদের এতই আকর্ষণ যে, মরবো তো আম খেয়েই মরি।

রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফল বাজারজাত ও বিক্রি করায় বাংলাদেশে বেশ কয়েকজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব ফল খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এমন কারণ দেখিয়ে নষ্ট করা হয় কয়েক হাজার মণ আম। আসলেই কি রাসায়নিক প্রয়োগ করে পাকানো আম, মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর, এই বিষয় রাসায়নিকবিদদের মতামত হলঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের পরিচালক নাজমা শাহীন বিবিসি বাংলাকে বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসারে নির্দিষ্ট রাসায়নিক ব্যবহার করে ফল পাকিয়ে বাজারজাত করা হয়।

মিজ. শাহীন বলেন, “ইথোফেন ব্যবহার করে ফল পাকালে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে না। এটি একধরণের গ্যাস যা ফলের ভেতরের এনজাইমকে প্রভাবিত করে যার ফলে দ্রুতবেগে ফল পাকে।”

মিজ.শাহীন বলেন, উন্নত বিশ্বে বর্তমানে ইথোফেন চেম্বারে ফল রাখা হয়। সেই ফল বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে নেয়ার পথে সাধারনত পেকে যায় ও খাওয়ার উপযোগী হয়।

মিজ. শাহীন জানান সাধারণত ইথোফেন ব্যবহার করার নির্দিষ্ট মাত্রা ও সময়সীমা নির্ধারন করা থাকে। তবে আম ও কলার ক্ষেত্রে ইথোফেন ব্যবহারে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে না।

“ক্রেতার হাতে যখন ফল যায় ততক্ষণে এই রাসায়নিক গ্যাস উড়ে যায়, আর যদি এর প্রভাব থাকে, তাতেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। কারণ ফলের খোসা ছাড়িয়ে ভেতরে রাসায়নিকের প্রভাব যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

রাসায়নিক দিয়ে পাকানোর অভিযোগে গত কয়েকদিনে প্রায় কয়েক হাজার মণ আম নষ্ট করা হয়

মিজ.শাহীন বলেন, স্বাভাবিকভাবে পাকানো আমের যে স্বাদ বা গন্ধ বা অন্যান্য গুণাবলী থাকে, রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো ফলের গুণাবলী সেই একই মানের হবে না।

তবে ইথোফেন দিয়ে পাকানো আম শতভাগ নিরাপদ বলে নিশ্চিত করেন মিজ.শাহীন।

বাংলাদেশের আইনে ফলে কার্বাইড ব্যবহার করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইথোফেন ব্যবহার আইনানুযায়ী সিদ্ধ বলে জানান মি.হক।

মি.হক জানান, কার্বাইড দিয়ে ফল পাকালে আর্সেনিক বা ফসফরাসের অবশিষ্টাংশ ফলে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এজন্য বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ফল পাকানোর কাজে কার্বাইড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ফল পাকানোতে ইথোফেন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আইনসিদ্ধ।

পাকা আম বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

আম-কে বলা হয় ফলের রাজা। আম খেতে যেমন সুস্বাদু ও রসালো তেমনি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অতুলনীয়। পাকা আমে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন এ বা বিটা ক্যারোটিন। পাশাপাশি আম একটি উচ্চ মাত্রার চিনি, কার্বোহাইড্রেট ও গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ ফল। তাছাড়া পাকা আমে ফিনোলিকস জাতীয় উপাদান থাকার কারণে এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উত্স।

কিন্তু চিকিত্সকগণ জানিয়েছেন, পাকা আম খাওয়া ভালো তবে খুব বেশি খাওয়া ঠিক নয়। পাকা আমে চিনির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে যাদের ডায়াবেটিস আছে অথবা হবার সম্ভাবনা আছে তাদের জন্য আম খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। মাঝারি মাপের একটি পাকা আমে ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই কেউ যদি পরপর বেশ কয়েকটি আম খেয়ে ফেলেন তবে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আষাঢ় মাসের শুরু থেকেই বাজারে বিভিন্ন জতের প্রচুর আম দেখা যায়, শুধু বাজারেই না ভেন গাড়ি দিয়ে হাটে বাজারে গ্রামে আম ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে- এই বৎসর আমের ফলন যেমন বেশি তেমন আমের দামও কর, ৩০/৫০/৫০টাকা কেজিতে ভাল মানের আম বাজারে বিক্রি হচ্ছে, সকল শ্রেণীর মানুষই তাদের সাধ্যমত তাদের প্রিয় আম কিনে খাচ্ছে।

সবশেষে আম নিয়ে একটি গল্প বলছি-বাদশা আকবরের রাজসভায় বাংলার মালদহের আম নিয়ে কথা হচ্ছে,সভাসদগণ বাংলার আমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, বাদশার কাছে আমের স্বাদের বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে বর্ণনা দিচ্ছেন। বাদশা আকবরের বাংলার আমের স্বাদ নেওয়ার জন্য খুবই আগ্রহ দেখালান, উজিরকে বললেন আমাকে ৭ দিনের মধ্যে বাংলার আমের স্বাদ নেওয়ার ব্যাবস্থা নিন, বাদশার আদেশ ফেলনার নয়, তাই উজির চিন্তায় পড়ে গেলেন, সময়টা আমের মৌসুম ছিল না, ছিল শীতকাল, সাত দিনের দিন উজির নিজের দাঁড়িতে চিটাগুড় মেখে বাদশার কাছে এসে বললেন জাহাপানা আপনি আমার দাড়ি চুষুন, বাংলার আমের স্বাদ বুজতে পারবেন, বাদশা আকবর উজিরের দাঁড়ি চুসে বললেন, বুজেছি বাংলার আম সুমিষ্ট টক-মিষ্টি, বাংলার আম নিয়ে নানা ধরনের গল্প আমাদের জীবনের অংশ হয়ে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here