ফলো আপ: সোলারচরের ঘটনায় আগামী ১৬ আগস্ট দু’গ্রুপের নেতাদের সাথে এসপি’র বৈঠক

মোহাম্মদ সেলিম ও নাজির হোসেন, মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের সোলারচরে পূর্ব বিরোধের জের হিসেবে বাড়িতে বাড়িতে ব্যাপক ককটেলবাজির ঘটনা ঘটেছে গত সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে। এই ঘটনায় অনেকের বাড়িঘর ভাংগচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ককটেলের তান্ডবলীলায় সোলারচর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এখন গ্রাম ছাড়া। যাদেরকে গ্রাম ছাড়া করা হয়েছে তারা সকলেই আ’লীগের সমর্থক বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার পরপরই অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে গ্রামের পাশের একটি খাল ঝাঁপ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অনেকে আবার খাল সাঁতার দিয়ে অন্য গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকে বর্তমানে সোলারচরে নিরাপত্তায় পুলিশ টহল দিচ্ছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। এই উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দু’গ্রুপের নেতাদের বৈঠকের আহবান জানিয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার অফিসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এক পক্ষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আধার আ’লীগের সাধারণ সুরুজ মিয়া এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাকে এস আই মনির হোসেন পুলিশ সুপারের বরাত দিয়ে আগামী ১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বলেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে সোলারচর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা, আধারা ইউনিয়ন আ’লীগ এর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার সুরুজ মিয়া জানান, ঘটনার দিন আমি সকালে কয়েকটি ককটেলের শব্দ পাই। ককটেলের ব্যাপক শব্দের কারণে আমি আতংকিত হয়ে পড়ি। এরপর এখানকার ঘটনা এলাকার কেউ একজন ৯৯৯ এ জানানোর পরে এই এলাকায় প্রায় ২৫ জনের মতো পুলিশ আসে। এলাকায় পুলিশের নিরাপত্তার কারণে জীবন নিয়ে সেখান থেকে কোন রকমে মুন্সিগঞ্জে এসে আশ্রয় নেই। তবে এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন সময় আবারো সংর্ঘষের আশংকা রয়েছে।

হেফাজ উদ্দিন বেপারী জানান, তার বাড়িতে সকালের দিকে থেমে থেমে প্রায় ২৫টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনার পরে সন্ত্রাসীরা তার ঘর বাড়িতে হামলাও চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এই ঘটনায় তার বাড়ির শিশু ও নারীরা আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে বোরহান বেপারী জানান, তার বাড়িতেও অনুরূপ ককটেল ও বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি ভয়ে গ্রাম ছেড়ে মুন্সিগঞ্জ শহরে আশ্রয় নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেছেন।

এই হামলার সময় প্রায় ২ শতাধিক লোক অংশ নেয় বলে প্রতক্ষ্যদর্শীরা দাবি করেছেন। এই হামলার সময় হামলাকারীদের হাতে ককটেলসহ দেশি বিদেশী অস্ত্র ছিল বলে সেখানকার মানুষেরা দাবি করছেন। এই হামলায় ঐ এলাকার বিএনপি’র সমর্থকরা অংশ নেয়। তবে হামলাকারীদের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিলো। এতে বিষয়টি অনেকের কাছে পরিস্কার এই যে, ঘটনাটি ঘটানোর পিছনে পূর্ব পরিকল্পনা ছিলো। হামলাকারীরা ঐ এলাকার আ’লীগের সমর্থকদের বাড়ি ঘরে বেছে বেছে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই হামলায় নেতৃত্ব দেন আলী হোসেন সরকার সমর্থকরা। তার পক্ষ সমর্থন করে প্রকাশ্যে হামলা চালায় সাবেক সাহেক মেম্বার ও বর্তমান মেম্বার মজিবর গংরা।

এদিকে আলী হোসেন সরকার হচ্ছে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা মোল্লার বেয়াই। আর মোস্তাফা মোল্লার ছেলে আজহার মোল্লা হচ্ছে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আ’লীগেরে সাধারণ সম্পাদক। অনেকের অভিযোগ হচ্ছে আত্নীয়তার সুযোগে আজহার মোল্লার কাছ থেকেই এই ককটেল ও অস্ত্র আলী হোসেন সরকার পাওয়ার সুবিধায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বলে সুরুজ মিয়া দাবি করেছেন।

হামলাকারীরা চৈতারচর ও বকুলতলা গ্রামের দুই দিকের রাস্তা বেড়িক্যাট দিয়ে সেখানে হামলা চালায়। এই হামলার সময় মোস্তফা মোল্লা ও আজহার মোল্লার কংসপুরা ও রাজারচরের একাধিক সমর্থকরা এই হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই ঘটনার পর পুলিশ গ্রাম থেকে বিস্ফোরণের আলমত সংগ্রহ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here