বিস্মৃতিতে হারিয়ে যাওয়া রাজাবাড়ি মঠ

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল: সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

বিস্মৃতিতে হারিয়ে যাওয়া রাজাবাড়ি মঠবাংলার ইতিহাসে রাজারবাড়ি একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এ রাজারবাড়ি হলো বাংলার অন্যতম বারভূইয়া চাঁদরায় কেদার রায়ের রাজবাড়ি। রাজাবাড়ি ১৮৪৫ সালে মুন্সিগঞ্জ মহকুমার একটি থানা ছিল।

১৮৬৯ সালে পদ্মা মুল প্রবাহে নদী গতি পরিবর্তন করলে সেই সময়ে রাজাবাড়িটি নদীতে নিশ্চিহ্ন হয়। মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বিক্রমপুর রাজ্যের শাসক ছিলেন চাঁদরায়। তারপরে রাজা হন কেদার রায়। মুঘল সম্রাট আকবরের সাথে চাঁদরায়ের বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়। যুদ্ধগুলো বেশীর ভাগই অমীমাংশিত থাকে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মুঘল শাসনামলে রাজাবাড়ি এলাকার নাম ছিল শ্রীপুর।

আওরঙ্গ জেবের তাড়া খেয়ে শাহসুজা যখন আরকান পালিয়ে যান। তখন শ্রীপুর হয়েই নৌপথে গিয়েছিলেন। আর শ্রীপুরের রাজা শাহসুজাকে নৌযান দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। ইসলাম খান যখন ১৬০৮ সালে ঢাকা আক্রমণ করেন।

তখন বিক্রমপুরের রাজধানী শহর হিসেবে “শ্রীপুরকে” দেখতে পাই। এ শ্রীপুরের রাজাবাড়িতে ছিল রাজ প্রাসাদ, নানা রকমের অট্টালিকা, হাতীশাল, ঘোড়াশালা, সৈন্যদের দূর্গ। ছিল বিভিন্ন রকম মঠ ও মন্দির। রাজাবাড়ির মঠ মধ্যযুগের বিক্রমপুরের অন্যতম নিদর্শন।

১৫৮৬ সালে রালফফিচ শ্রীপুর ভ্রমণে এসেছিলেন। তিনি শ্রীপুর সম্পর্কে বলেন ঞযব শরহম পধষষবফ পযড়হফবৎু (চাঁদরায়). ঞযবু নব ধষষ যবৎব ধনড়ঁঃং ৎবনবষং ধমধরহংঃ ঃযবরৎ শরহম তবষধনফরহ ঊপযবনবৎ (জালাল উদ্দিন আকবর)ঃ ভড়ৎ ঃযবৎব ধৎব ংড় সধহু ৎরাবৎং ধহফ রংষধহফং ঃযধঃ ঃযবু ভষবব ভৎড়স ড়হব ঃড় ধহড়ঃযবৎ, যিবৎব নু যরং পধহহড়ঃ ঢ়ৎবাধরষব ধমধরহংঃ ঃযবস. রাজা চাঁদ রায় আফগান সৈন্য সোলায়মান খানের হাতে ১১ ফের্রুয়ারী ১৫৯৩ সালে যুদ্ধে নিহত হন। অপর দিকে রাজা কেদার রায় ১৬০৩ সালে মানসিংহের সাথে যুদ্ধে নিহত হন। যুদ্ধটি শ্রীনগর (রায়েসবর) এর নিকট সংগঠিত হয়েছিল।

এটা ইতিহাসবিদ হাবিবা খাতুনের ও শাহনাজ হুসনে জাহানের গ্রন্থে ঈসা খাঁ: সমকালীন ইতিহাসে উল্লেখ করেন। কিন্তু তাওয়ারীখে ঢাকায় তায়েশ ১৬১৬ পর্যন্ত কেদার রায়ের শাসনবসান হয় বলে মন্তব্য করেন।
চাঁদ রায় কেদার রায়ের শ্রেষ্ঠকীর্তি হলো ইতিহাস বিখ্যাত রাজাবাড়ি মঠ। মঠটি রাজাবাড়ি পুলিশ স্টেশন থেকে দুই মাইল দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। মঠটি মুঘল যুগের পাতলা ইট দিয়ে তৈরী। একটি প্লাটফর্ম হতে ৩০৪ বর্গফুট অর্থাৎ ১২০ বর্গফুট, আয়তনের প্লাটফর্ম। সেখান থেকে ৮০ ফুট উপরে গিয়ে নকশা শেষ হয়। অর্থাৎ মঠের উচ্চতা ৮০ ফুট।

জনশ্রুতি আছে চাঁদরায় ও কেদাররায় তাদের মায়ের শ্মশানে এ মঠ নির্মাণ করেছিলেন। ঢাকার ইতিহস, লেখক যতীন্দ্র মোহন রায়, বলেন, কেদার রায় এ মঠটি তার মায়ের শ্মশানে নির্মাণ করেন।

এ মঠের নির্মাণকাল সম্ভবত ১৫৮০-১৫৯০ সালের মধ্যে হবে। এটা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এলে ভাগ্যকূলের জমিদার রাজা শ্রীনাথ ১৮৯৬ খ্রিঃ মঠটি সংস্কার করেন। ১৯০০ ইং সালের দিকে মঠটি পদ্ধার ভাঙ্গনে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here