মুন্সিগঞ্জের পৌষপুরা

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল, শনিবার, ১২ জানুয়ারি ২০১৯, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

12983833_1006104452811776_3643159734836250544_o

পৌষপুরা হলো পৌষমাস পূর্ণ হওয়া। অর্থাৎ ৩০ পৌষ। পৌষ মাসের শেষ দিন মুন্সিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুড়ি উৎসব হয়।

01-1এদিনটিতে হাজার হাজার ঘুড়ি মুন্সিগঞ্জের আকাশে দেখা যায়, লাল, নীল, সবুজ, বেগুনী, হলুদ, কবুতর খোপ দুপাজ, ঠোটপোড়া, তেপাজসহ কত রঙের কত ধরনের ঘুড়ি যে এদিন আকাশে দেখা যায়। তা বলে শেষ করা যাবে না। ছোট বড় যুবক কিশোর বিভিন্ন বয়সের লোক এ ঘুড়ি উৎসবে অংশ নেয়।

এক সপ্তাহ ধরে সুতার কটিম বাজার থেকে কিনে এনে মাঞ্জা দিতে হয়্ কাঁচ জাতীয় দ্রব্য ভেঙ্গে গুড়া করে, চালতা পাতা অথবা কাজলকি পাতা অথবা এসকল গাছের ছাল দিয়ে সুতা পিচ্ছিল করা হয়। এর পর সূতা শুকানো হয়। ঘুড়ি বানাতে লাগে তা বা কাগজ। দুটি চিকন কঞ্চি দিয়ে দুরদুরীতে আটকাতে হয় সূতা। একজন ধন্নি বা ধরে দেয় ঘুড়িটিকে। সূতাতো থাকে লাটাইয়ে পোচানো।

ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে দুই ঘুড়ির মধ্যে প্যাচ খাওয়ানো হয়। প্যাচলেগে গেলে ছুরকি দিয়ে সুতা ছাড়তে হয়। ছুরকি বলতে বুঝায় ঘুড়িটিকে বিশেষ কায়দায় ঘুড়াতে হয়। ঘুড়ি উৎসবে অনেক বিশ্রী ছড়া কাটা হয়। যেমন ‘‘সূতা ছাড়ে না গুতা খায়, আগদে আগদে জীবন যায়’’ অথবা সাদা মাগী হাদা খায়। আগদে আগদে জীবন যায়।

aahar-bilas

এ ছড়া দুটি চাপাতলী, রতনপুর, ফিরিঙ্গি বাজার, কেওয়ার, বজ্রযোগিনী, চুড়াইন, সোনারং, আউটশাহী, বেতকা ও খিলপাড়ায় এখনো শোনা যায়। ঘুড়ি কেটে গেলে এক সাথে অনেকে বকাট্টা বলে ধ্বনি তোলে। তখন কিশোর যুবকরা ঘুড়ি ধরার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কেউ বাঁশ ঝাটা নিয়ে দৌড়ায় ঘুড়ির পিছু পিছু। ঘুড়ি উৎসব শুধু মুন্সিগঞ্জেরই নয় এটা বাংলার ঐতিহ্যও বটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here