গজারিয়ায় পুরান বাউশিয়া গ্রামে নৌকার বিপর্যয়ের নেপথ্যে !

সব মানুষের সৃজন প্রয়াসী অনলাইন পোর্টাল:

শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০১৯, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুরান বাউশিয়া গ্রাম থেকে নৌকা মার্কা ভোট পেয়েছে ৩৪৭৮। মাত্র তিন মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে একই গ্রামেই নৌকার বিপর্যয় হয়েছে।

এবারের প্রাপ্ত ভোট নৌকা ১২৬২ এবং কাপ পিরিচ ৭২২। হঠাৎ করে নৌকা মার্কার বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই গ্রামে নৌকার নির্বাচনী পরিচালনা কমিটিতে যারা ছিল, এবারের উপজেলা নির্বাচনী কমিটিতে এদের একজনকেও রাখা হয়নি।

তবে যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা বিভিন্ন কারনে এই গ্রামে বিতর্কিত। শুধু এই গ্রামে নয়, পুরো উপজেলা জুড়ে রয়েছে এই গ্রুপেটির বিশেষ পরিচিতি । পুরান বাউশিয়া গ্রামের সাধারন জনগন বরাবরই এই বিশেষ গ্রুপটিকে এড়িয়ে চলে,এদিকে এদেরকেই দেয়া হয়েছে নৌকার নির্বাচনী দায়িত্ব। যদিও নৌকার প্রার্থী আমিরুল ইসলাম এর মাইম্যান হিসাবে পরিচিত এই গ্রামের অনেকেই রয়েছেন।

ঐতিহ্যবাহী পুরান বাউশিয়া গ্রামে নৌকার নির্বাচনীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সমালোচিত সেই গ্রুপটিকে এলাকায় টাই গ্রুপ হিসাবে পরিচিত। কিভাবে এই গ্রুপের সদস্যেরা নৌকার নির্বাচনী দায়িত্ব পেলো কিংবা কারা এই গ্রুপের সদস্যদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সত্যিকার ভাবেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত?

টাই গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বাজেট ভাগ ভাটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি এই গ্রুপের সদস্যদের অনেকেই এবং তাদের আত্মীয় স্বজনদের অনেকেই কাপ পিরিচের জন্য ভোট চেয়েছেন। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন এই গ্রুপের অনেকেই কাপ পিরিচের জন্য প্রকাশ্যে ভোট চেয়েছেন,

যেটা চোখে পড়ার মতো। এদিকে দুই পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মামার বাড়ী এই গ্রামে, তবে ঠিক নির্বাচনের আগের দিন টাই গ্রুপের সদস্যেরা এই দুই প্রার্থীর প্রতিপক্ষ এক প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় নেমেছেন,

পাশাপাশি এক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষেও নির্বাচনের আগের দিন মোটা অংকের টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে টাই গ্রুপের বিরুদ্বে। যারা ফলে পুরুষ দুই ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা,প্রার্থীর সমর্থকেরা নৌকার বিপক্ষে অবস্থান করেছেন।

ফলাফলে দেখা গেছে যেই দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্বে টাই গ্রুপের অবস্থান সেই দুই প্রার্থীই এই গ্রাম থেকে প্রথম এবং দ্বিতীয় হয়েছে। এদিকে পুরান বাউশিয়া গ্রামের নির্বাচনী কমিটিতে রাখা হয়েছে টাই গ্রুপের অন্যতম সদস্য আউয়াল মিজিকে, আর এই আউয়াল মিজিই নিজেই কাপ পিরিচ মার্কার বাউশিয়া ইউনিয়নের সমন্বয়কের দায়ত্ব পালন করেছেন।

নির্বাচন শুরু হয়েছে সকাল আটটায়, তবে এই গ্রুপের অনেকেরই কেন্দ্রে দেখা মিলেছে সকাল এগারটার পর। মজার বিষয় হলো দুই নাম্বার ওয়ার্ডের মহিলা ভোট কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট পর্যন্ত দেয়া হয়নি।

দুপুর বারোটায় নৌকার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আশরাফুল ইসলাম জয় কেন্দ্র পর্যবেক্ষনে আসার,পর তার স্বাক্ষরে সেই বুথে নতুন এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

একমাত্র বিতর্কিত টাই গ্রুপকে নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়ার কারনেই পুরান বাউশিয়া গ্রামের জনগন ফুসে উঠেছে নৌকার বিরুদ্বে। এরফলে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়নি । তারপরেও দলীয় নেতা-কর্মীদের অনেকের অক্যালান্তে পরিশ্রমে অবশেষে নৌকা এই গ্রাম থেকে জয়ী হয়েছে।

নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  আমিরুল ইসলাম এর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ পুরান বাউশিয়া গ্রামের জনগণকে।

তথ্য সূত্র জুয়েল দেওয়ান এর ফেসবুক থেকে নেয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here