সিরাজদিখানে চাঞ্চল্যকর আসিফ হত্যা মামলায় ২ বছরেও চার্জগঠন হয়নি

সব মানুষের সৃজন প্রয়াসী অনলাইন পোর্টাল:

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

Mun-Sirajdikhan

মুন্সিগঞ্জ জেলার চাঞ্চল্যকর ছাত্রলীগ নেতা আসিফ হাসান হাওলাদার হত্যা মামলার চার্জগঠন হয়নি চার্জশিট দেওয়ার দুই বছর পরও। ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। চার্জশীট ভুক্ত আসামিরা জামিনে এসে মামলা প্রত্যাহারে বাদীপক্ষকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে আসিফ হত্যার ঘটনার বুধবার ৩ বছরপূর্ণ হবে। এ নিয়ে মামলার বাদীপক্ষ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বহুল আলোচিত এ মামলাটি দ্রুত বিচার শেষ করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনারও দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার পিপি আবদুল মতিন বলেন, মামলার আসামি পক্ষ অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন একই সাথে মামলা থেকে অব্যহৃতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

মামলার বাদী নিহত আসিফের বাবা হাবিবুর রহমান জানান, সিআইডি চার্জশিট দাখিলের পর ১৩টি তারিখে আদালতে উপস্থিত হলেও প্রয়োজনী কাগজপত্র নেই বলে বার বার মুলতবি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মামলাটি জেলা দায়রা জজ আদালতে বিচারক হোসনে আরা বেগমের আদালতে আছে। আদালতে চার্জ গঠন হতে দেরি হওয়ায় চার্জশিট ভুক্ত আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা প্রত্যাহারে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করছে। মামলার চার্জশিটভুক্ত ৮ নাম্বার আসামি মাসুদ রানা জামিনে এসে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিল। মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়া ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। আসিফ হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণও করেছেন আসিফের বাবা।

আসিফের বড় বোন তনিমা বলেন, আসিফ হত্যার পর থেকে অভিযুক্তরা নানাভাবে আমাদের হুমকি দিয়ে আসছে। এ অবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল রাতে কোলা ডাকঘরের পাশে আসিফকে পিটিয়ে গুরতর জখম করা হয়। সিরাজদিখান থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়ারদৌস গুরুতর অসুস্থ আসিফের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা না নিয়েই কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

পাচঁদিন পরে ১৭ এপ্রিল ভোর ৫টার দিকে সন্ত্রাসী হামলায় মাথায় আঘাতজনিত কারণে আরো অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ৬টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর সকাল ৭টার দিকে মারা যান। এঘটনার প্রতিবাদে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ও মহাসড়ক অবরোধ করে এই হত্যার বিচার দাবি করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এদিকে মামলাটি সিআইডি দীর্ঘ এক বছর ঘটনার অনুসন্ধান করে ১১ জনকে এই হত্যার সঙ্গে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। এরপর থেকেই আদালতের পক্ষ থেকে চার্জ গঠনের জন্য বার বার তারিখ পরিবর্তন করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here