গজারিয়ায় সরকারি খাল দখল করে রেস্তরাঁর ব্যবসা

সব মানুষের সৃজন প্রয়াসী অনলাইন পোর্টাল:

বুধবার, ১লা মে ২০১৯, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

406731_129

গজারিয়া থানার সামনে হাইওয়ে ভবেরচর সরকারি খাল দখল করে রেস্তরাঁ ব্যবসায় করছেন দর্জি মহিউদ্দিন। মেঘনা ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে দাউদকান্দি গোমতি নদীতে মিলে যাওয়া খালটিকে ভরাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ব্যক্তিমালিকানায় ও কোম্পানি দখল করে নিয়েছে এই খালের জায়গাগুলো। পুরান বাউশিয়া, মধ্যবাউশিয়া, এপিআই শিল্পপার্কের বর্জ্য সরানোর সব ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের সামনে কিভাবে সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে স্থানীয়দের।

জানা গেছে, ৫০-৬০-এর দশকেও পানি থইথই করত এই খালটিতে। সারা বছর চলত ছোট-বড় নৌকা। ব্যস্ত নৌপথ ছিল এটি। এখন ভরাট করে গড়ে উঠছে রেস্টুরেন্ট। বালু ফেলে দখল করে একের পর এক রেস্টুরেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। ময়লা আবর্জনাও ফেলা হচ্ছে। খালটি মেঘনার মোহনা থেকে শুরু হয়ে জামালদি, ভবেরচর হয়ে গোমতি নদীর শাখা নদীতে গিয়ে মিশেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নৌপথ ও পয়োনিষ্কাশনের একমাত্র খাল এটি। খালটিতে সব সময় নৌকা চলাচল করত এবং ছোটবেলা থেকে আমরা দেখেছি খালটিতে মাছ ধরে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করত।

সরেজমিন দেখা গেছে, নদী ভরাট করে দু’টি বড় রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। বালু পাথর দিয়ে কয়েকটি বেড়িবাঁধ দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে ভবেরচর এসে। ভবেরচর ব্রিজটির ওপর দাঁড়িয়েই খালটির চওড়া প্রস্থ বুঝা যাবে। ব্রিজটির ওপর থেকে দক্ষিণ দিকে তাকালেই আপনার চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে। খালটির চিহ্নই বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে।

ভবেরচর থেকে এভাবে বিশাল আকারের বাঁধ তৈরি করায় বুঝাই যাচ্ছে না, এখান থেকে কোনোকালে বড় একটি খাল ছিল। এখন খালটির দুই পাড়ের গ্রামের চাষাবাদ করার ফসলি জমি ও বাড়ির পানি সরানোর কোনো জায়গাই আর নেই।

এ ছাড়াও অন্য দিকে খালটিতে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি খাল দখল করে কিভাবে রেস্টুরেন্ট বানিয়ে ব্যবসায় চালানো হচ্ছে। প্রশাসন কি দেখেও না দেখার ভান করছে। খালটির পাশে দখল আর দূষণে দুর্গন্ধ বাড়ছে। বাড়ছে মশা-মাছিরও উৎপাত। স্থানীয়দের অভিযোগ গ্রামবাসীদের প্রয়োজনীয় খালটি রক্ষার উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ এই দুই বছরের মধ্যেই খালটি ভরাটের মাধ্যমে দখল করা হয়েছে। অভিযুক্ত মহিউদ্দিন বলেন, সরকারি জায়গা ভরাট করেছি। আমি ছাড়াও আরো প্রশাসন থেকেও ভরাট করা হয়েছে তাদেরও জিজ্ঞাসা করেন।

রেস্তরাঁয় পার্কিং করে রাখা গাড়ির ড্রাইভার জানান, খাল খেকো মহিউদ্দিন লাইসেন্স বিহীন ও ফিটনেস বিহীন মাইক্রো থেকে মাসে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। শুনেছি এই টাকা থেকে ফাঁড়িতে ৫০ হাজার, থানায় ৫০ হাজার বাকি ৮০ হাজার যায় মহিউদ্দিনের পকেটে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মনির হোসেন বলেন, মহিউদ্দিনকে নোটিশ করা হয়েছে। আজকে আমি যাব, আরো একটা নোটিশ করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here