মুন্সিগঞ্জে দখল-দূষণে বিলুপ্তির পথে রজতরেখা নদী

সব মানুষের সৃজন প্রয়াসী অনলাইন পোর্টাল:

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

411983_169

মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নদী রজতরেখা ঘিরে কত কবি-লেখক তার লেখায় ও কবিতায় মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মুন্সিগঞ্জের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য রজতরেখা নামে একটি বাস প্রদান করে। কিন্তু নামকরা রজতরেখা নদীটি দখল ও দূষণে মরে যেতে বসলেও এমন বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সব সময় উদাসীন।

জানা যায়, ইসমাইল মেম্বার শিলই ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম লিটনের ছোট ভাই। শিলই ইউনিয়ের জনগণ তাকে ভূমিদস্যু নামেই চিনে।

শিলই ইউনিয়নবাসীর কাছে আতঙ্ক ইসমাইল মেম্বার। মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় তার বিরুদ্ধে র্যাবের দায়ের করা অস্ত্র মামলাসহ সাত-আটটি মামলা রয়েছে। তিনি রজতরেখা নদী অবৈধভাবে দখল করে ২২টি দোকান নির্মাণ করেছেন। বর্ষা মওসুমে পদ্মা চরের কৃষকের ফসলি জমি কেঁটে মাটি বিক্রয়সহ রজতরেখা নদীর প্রবেশ মুখ বন্ধ করে পকেট বানিয়ে রমরমা বালু ব্যবসা করে চলেছেন।

খাতাকলমে রজতরেখা জ্যোতি ছড়ালেও বাস্তবে দখল ও দূষণের কারণে বিলুপ্তির পথে মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম এই নদীটি। পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে এঁকে বেঁকে ১২-১৪ কিলোমিটার অতিক্রম করে ধলেশ্বরী নদীর সাথে মিশেছে। বর্তমানে রজতরেখা নদীর উৎপত্তি স্থান থেকে শুরু করে সর্বত্রই চলছে দখলবাজদের আগ্রাসী থাবা।

শুধু নদীর দুইপাড় দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি দখলবাজরা, তারা নদীর ওপর বানিয়েছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং পকেট বানিয়ে করে চলছে রমরমা বালুর ব্যবসা। ক্রমাগত বেদখলে ৪৮০ ফুট প্রস্থের নদীটি বর্তমানে ৩০-৪০ ফুট এসে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় নদীটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নদীটির উৎপত্তিস্থল টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় এলাকায় পলি জমে নদীমুখ অনেকটা বন্ধ হয়ে আসছে। তার ওপর পদ্মা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে রজতরেখার উৎপত্তিস্থলের কয়েক ফুট দূরে চলছে প্রভাবশালীদের অবৈধ ভরাটকাজ। প্রভাবশালীরা নদীর পাশে পকেট তৈরি করে রমরমা বালুর ব্যবসা করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

উৎপত্তিস্থল হতে প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গাজুড়ে এক শ্রেণীর স্বার্থলোভী প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীটি ভরাট করাচ্ছে বলেও স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে পরিবেশবাদী শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন জানান, প্রভাবশালীরা আর লুকিয়ে নয়, বরং প্রকাশ্যেই এ বেআইনি কাজ করে চলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঢিলেভাবের কারণেই দখলদারদের সাহস বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দিন দিন সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে খাল ও নদীর মতো জলাশয়ের জমি, বাড়ছে দূষণ।

টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার জানান, নদীর উৎপত্তিস্থানে অবৈধভাবে ভরাট কাজ চলছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here