ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শিমুলিয়া ঘাটে প্রশাসনের নানা উদ্যোগ

সব মানুষের সৃজন প্রয়াসী অনলাইন পোর্টাল:

মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০১৯, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

Shimulia-ghat

সংগ্রহিত ফাইল ছবি:

আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া ঘাটে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে জেল-জরিমানা,

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা, স্পীডবোটের লাইফ জ্যাকেট, লঞ্চের প্রয়োজনীয় বয়া এবং অন্যান্য সরঞ্জমাদি ব্যবহারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঈদের সময় ঘাটের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।

এছাড়া দূরপাল্লার যানবাহন বিশেষ করে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরাসহ আশেপাশের এলাকার অভিমুখী যাত্রীবাহী বাসগুলোকে ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়ক পরিহার করে আরিচা দিয়ে চলাচলের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের উন্নয়নমূলক কাজ চলছে বিধায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে প্রশাসন।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খান জানান, ঈদের তিনদিন আগে ও পরে মোট ৬ দিন ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। ঈদ উপলক্ষে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ঢাকার বাস ভাড়া ১০০ টাকা এবং শিমুলিয়া ঘাট থেকে কাঁঠালবাড়ি ঘাট পর্যন্ত স্পীডবোট ভাড়া ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

লঞ্চে যাত্রী প্রতি ৩০ টাকা ভাড়া আদায় করতে বলা হয়েছে। নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চ, ১৮টি ফেরি ও দুই ঘাট মিলিয়ে ৫৪০টি স্পীডবোট চলাচল করবে। সন্ধ্যার পর স্পীডবোট ছাড়া হবেনা।

লাইফ জ্যাকেট ও ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী নিয়ে স্পীডবোট ঘাট ছাড়বে। ৪ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঘাট এলাকায় থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আসন্ন ঈদে শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগের কোনো আশঙ্কা নেই। এছাড়া ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য শিমুলিয়া ঘাটে ভ্রাম্যমাণ ১০টি টয়লেট, ঈদের দিনে বিশেষ জামাতের ব্যবস্থা করা হবে।

ইউএনও আরও জানান, উত্তাল পদ্মায় যাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করতে না পারে তা প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঈদের ৩দিন আগে ও পরে মোট ৬দিন বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম (বার) জানান, ঈদে নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ও শিমুলিয়া ঘাট মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার, কন্ট্রোল রুম, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করার কাজ চলছে।

মূলত: সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে পুরো ঘাট এলাকা। যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রন করার লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করবে। তাছাড়া সাদা পোষাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারী করবে।

বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) সিফাত রহমান জানান, ঈদে নির্বিঘ্নে পদ্মা পাড়ি দিতে নৌরুটে ইতোমধ্যে এনায়েতপুরী নামে একটি রো-রো ফেরি সংযুক্ত হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যে একটি ডাম্প ফেরি ও একটি কে-টাইপ ফেরি সংযুক্ত হতে যাচ্ছে। এতে চলাচলতরত ১৬ টি ফেরির সঙ্গে নতুন করে তিনটি ফেরি সংযুক্ত হয়ে ঈদে সর্বমোট ১৯টি ফেরি যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত থাকবে।

সোনালীনিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here