রাজশাহীতে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে চাঁদাবাজি,জনতার হাতে আটক মাইক্রোবাস চালকসহও তিনজন কথিত সাংবাদিক

সব মানুষের সৃজন প্রয়াসী অনলাইন পোর্টাল:

মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০১৯, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী :

Rajshahi A-Shamim Pic (9) 08.07.2019রাজশাহীর মোহনগঞ্জে ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে সুমি নামের একটি বেকারীতে চাঁদাবাজি করার সময় সাধারণ জনতা ৩জন কথিত সাংবাদিককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে বাগমারা থানাধিন মহনগঞ্জ বাজারে সুমি বেকারীতে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাতৃজগত পত্রিকার স্টিকার সম্মেলিত স্টিকার লাগালো একটি সিলভার কালারের মাইক্রোবাসও জব্দ করে পুলিশ। বর্তমানে মাইক্রোবাসটি বাগমারা থানা হেফাজতে রয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধিন এলাকার বাসিন্দা (৩৪), পিতা: মৃত: জয়নাল, সায়ের গাছা এলাকার মৃত ফজর শেখের ছেলে মোঃ আব্দুল জাব্বার, চন্দ্রিমা থানাধিন ছোট বনগ্রাম ১২ রাস্তার মোড় এলাকার মৃত সোহরাব উদ্দিনের ছেলে লিয়াকত হেসেন (৩৮)।

এছাড়া আটক মাইক্রোবাস চালক নগরীর মতিহার থানাধিন বিনোদপুর এলাকার মজিবরের ছেলে তোতা।

matrijogotজিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতদের মধ্যে দু’জন জানায়, মোঃ নাসির উদ্দিন ওরফে রাসেল নিজেকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাতৃজগত পত্রিকার সাংবাদিক ও লিয়াকত হেসেন দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিনের সাংবাদিক দাবি করেন।

সুমি বেকারীর মালিক আব্দুর রবের ছেলে সুমন জানায়, ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে তারা ৫ হাজার টাকা দাবি করে। আমরা ভয় পেয়ে প্রথমে ১ হাজার টাকা দেই তাদের। তারা নিতে রাজি না হলে পরে আরো ১ হাজার টাকা দেই।

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতাউর রহমান জানান, মোহনগঞ্জ বাজারের একটি বেকারীতে ক্যামেরা হাতে তিনজন ব্যক্তি বেকারীর লোকজনকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করেন এবং তারা কাগজে লিখালিখি করেন।

এ সময় বেকারীর লোকজন ম্যাজিস্ট্রেট ভেবে তাদেকে ১ হাজার টাকা দেয়। তাদের মধ্যে একজন বলেন গাড়ীতে স্যার আছে ১ হাজার টাকায় হবেনা। তখন বেকারীর মালিক আরো ১হাজার টাকা দেয় তাদের। ঘটনার সময় বেকারীর সামনে অনেক লোকজন জড়ো হয়।

কাকতালীয় ভাবে গাড়ি নিয়ে সেখান দিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেট যাচ্ছিলেন। মানুষের ভিড় দেখে সেখানে তিনি গাড়ি থামিয়ে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেন কি হয়েছে ? এত মানুষের ভিড় কেন ? তখন স্থানীয়রা জানায় বেকারীতে ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্ট্রেট এসেছে ? ম্যাজিস্ট্রেট বলেন তাদের গাড়ী আটকাও।

এ সময় স্থানীয়রা চাঁদাবাজদের গাড়ী আটকায়। ম্যাজিস্ট্রেট তাদের প্রশ্ন করেন, আপনাদের পরিচয় কি ? তখন তারা কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকে। এ সময় জনতা উত্তেজিত হয়ে তাদের মারমুখি হয়। কৌশলে ম্যাজিস্ট্রেট বাগমারা থানায় দেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বাগমারা থানার ওসি ও সঙ্গীয় ফোর্স। ওসি আরো বলেন, তাদের উদ্ধার না করলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা তাদের পেটাতো এবং পরিস্থিতি খারাপ হতো।

ওসি আরো বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে সুমি বেকারীর মালিক আব্দুর রবের ছেলে সুমন বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। বাগমারা থানার মামলা নং-৩, তারিখ: ০৮-০৭-২০১৯, ধারা: ১৭০/৪১৯/৪২০/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ দঃবিঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here