লৌহজংয়ে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ: ধর্ষিত শিক্ষার্থীকে স্কুলে আসায় নিষেধাজ্ঞা

সব মানুষের সৃজন প্রয়াসী অনলাইন পোর্টাল:

সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

লৌহজংয়ে ধর্ষিত শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ায় উত্তর যশলদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা আক্তারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার লৌহজংয়ের ইউএনওর কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইউএনওর উপস্থিতিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এক আদেশে প্রধান শিক্ষককে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে নির্যাতিত শিক্ষার্থীকে কেন স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে ব্যর্থ হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের মিয়া জানান, উপজেলার উত্তর যশলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা আক্তারকে শনিবার ইউএনওর কার্যালয়ে তলব করা হয়।

রোববার প্রধান শিক্ষক ইউএনওর কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার পর বিধান অনুযায়ী তিন কার্য দিবসের মধ্যে ‘কেন পঞ্চম শ্রেণির ধর্ষিত শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে’ তার কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লৌহজংয়ের ইউএনও মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খান জানান, আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া সংশ্নিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

লৌহজং থানার ওসি মো. আলমগীর হোসাইন জানান, গত শুক্রবার বিকেলে শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষক আলাউদ্দিন হাওলাদার, মাতব্বর খলিলুর রহমান ও করিম ছৈয়ালকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। এরপর ওই দিন রাতেই ধর্ষক ও এক মাতব্বরকে গ্রেফতারের পর শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের মুন্সীগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়।

গত ২৪ জুন নিজ বাড়ি থেকে প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার সময় আলাউদ্দিন হাওলাদার নামের এক লম্পট পঞ্চম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে কৃষিজমিতে নিয়ে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও মাতব্বর খলিলুর রহমান ও করিম ছৈয়াল সময় ক্ষেপণ করে উল্টো ধর্ষণের আলামত বিনষ্ট করে ঘটনাটি পুলিশকে জানাতে নিষেধ করেছিল। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর উত্তর যশলদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা আক্তার গত ৮ জুলাই নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করেন। এর পরই লৌহজংয়ের ইউএনও মো. কাবিরুল ইসলাম খান সংশ্নিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে তার দপ্তরে তলব করেন।

সমকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here