স্থাপত্যের মুন্সীগঞ্জ

১লা আগষ্ট ২০১৯, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

স্থাপত্যের মুন্সীগঞ্জ

সামসুল হুদা হিটু

67569445_374966646411122_3968982228876132352_nজনপথ মুন্সীগঞ্জ বুকে লালন
করেছে গৌরব গাঁথা স্থাপত্যরাজী।
যেগুলো হয়ে আছে ইতিহাস
কালের সাক্ষী সেই তখন থেকে আজি।
এক.
পাল শাসন আমলে
হয়েছিল তৈরী প্রথম মন্দির
সে তো বজ্রযোগিনী গাঁয়ে।
কত হিন্দু নারী-পুরুষ
সেথায় করে পুজা
তাদের শ্রদ্ধার প্রসাদ মিষ্টান্ন লয়ে।
অতিশ দিপঙ্কর স্বরণে
ফরহাদ মাষ্টার তৈরী করেন
বজ্রযোগিনীতে দিপঙ্কর স্তম্ভ
যা আজি বিশ্বালয়ে হয়ে আছে
বৌদ্ধদের মহা এক দম্ভ।
ফেগুনসা শিব মন্দির
সিরাজদিখানে নির্মিত হয়
রাজা বল্লাল সেনের কালে
আজিকার লোকজন সে কথাটি
আজও মুখান্তরে বলে।
ভারতীয় উপ-মহাদেশের
সৌন্দর্য মন্ডিত প্রাসাদ-একুশরতœ।
হয়ে ছিল নির্মিত রাজা
রাজ বল্লভের হাতে নবাবী আমলে।
যা দেখার তরে
আগমন করে ছিল
না না দর্শনার্থী দলে-দলে।
রাজবাড়ি মঠ তৈরী করেন
চাঁদ রায়, কেদার রায় মোঘল আমলে
তাদের মায়ের শ্মশানে।
প্রভুত হিন্দু জন-জনার
তা আরাধ্য বিষয় ছিল
দিবা-নিশি মনে-প্রাণে।
শম্ভুনাথ মজুমদারের হাতে তৈরী হয়
ভারতীয় উপ-মহাদেশের শ্রেষ্ঠ মঠ
শ্রীনগরের স্যামশিদ্ধি গ্রামে।
পরিচিতি পায় যাহা সদা
সে যে স্যামশিদ্ধি মঠ নামে।
দেওয়ান নন্দন কুমার স্থাপন করেন
দ্বি-পাড়া মঠ সিরাজদিখানের
দ্বি-পাড়া ও মালখা নগর সীমায়।
ভুমিকম্পে চূড়া ভেঙ্গে গিয়েও আজি
তা আছে দাঁড়িয়ে কালের সাক্ষী রূপে
ঐ দুই গাঁয়।
কালের আরেক সাক্ষী মহাকালী মঠ
নির্মান করেন চৌধুরী বাড়ির জামাতা গুণধর।
পুজোয়-পুজোয় ভরে উঠে তা’
হয়ে উঠেন সে জামাতা ইতিহাসে প্রবর।
যোগিনী ঘাটের নামকরণ হয়
পাল বংশীয় রাজকন্যার নামে আর মানে
হেতু ব্রহ্মপুত্রও মেঘনার সঙ্গম স্থলে
তদীয় হররোজ ¯œানে।
সতিদাহ মন্দির গড়ে তুলেন
রাজা রাজবল্লভ লৌহজংএর বেজগাঁও।
হে দর্শনার্থী, দেখতে পাবে তোমরা তা’
যদি কনে সেথায় যাও।
ভারতীয় উপ-মহাদেশের টংগীবাড়ি সোনারংএর
একমাত্র জোড়ামঠ তৈরী করেন রূপচন্দ্র
তাঁরই বাবা মা’র স্বরণে।
তা’ দর্শীবার তরে সেই গাঁয়েতে
নিত্যদিন জমায়েত হয় এখনও জনে-জনে।
দুই.
মুঘল স¤্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে
ইদ্রাকপুর কেল্লাটি তৈরী হয়
সুবেদার মীর জুমলার হাতে।
আজও তাহা মাথা উঁচু করে আছে দাঁড়িয়ে
এই মুন্সীগঞ্জে দিবা-রাতে।
ধর্ম প্রচারে ইসলামের প্রথম যুগে
বারজন আউলিয়া আসেন কেওয়ার’।
তাদের ওফাত পরে তাদের লয়ে
তৈরী হয় সেথায় বারো আউলিয়া মাজার।
শেখদার হোসাইনি বখ্লী (রহঃ)
মাজার নির্মিত হয় এই মুন্সীগঞ্জের কেওয়ারে।
বৌদ্ধ যুগে যার আগমন ঘটে আফগানিস্থান থেকে
এদেশে ইসলাম প্রচারিবারে।
বাংলার রাজধানী বিক্রমপুরে ইসলাম প্রচার করতে আসেন
বাবা আদম (রহঃ) বৌদ্ধও হিন্দু যুগে আরবের তায়েফ নগরী হতে।
রাজা বল্লাল সেনের সনে এক ভয়ানক সমরে
শহীদ হয়ে তিনি সমাধিস্ত হন দরগা বাড়িতে।
ছয় গম্বুজওয়ালা মসজিদ নির্মিত
হয় সেই দরগা বাড়িতে
তা’ ও সুলতান জালাল উদ্দিন শাহের
পুত্র কাফুর শাহের হাতে।
সৈয়দ শাহ্ মুর (রহঃ) এর মাজার স্থাপিত হয়
সিরাজদিখানের হিন্দু জনবহুল সৈয়দপুরে
আছে কত জনশ্রুতি সেথায় আজো তাঁরে ঘিরে।
সুলতানি আমলে সুলতানরাই স্থাপন করেন তিন গম্বুজ মসজিদ
আল্পনায় আর কল্পনায় তায় জুড়ে দিয়েছিল
কত নক্সা তখনকার চারুবিদ।
কাজি কসবা বলতে বুঝায় বিচারের ছোট শহর
কাজিরা সেথায় করতেন বিচার অত না ভেবে আপন পর।
টেংগর শাহি মসজিদ নির্মান করেন
বাংলার সুলতান তাঁজ খানের ভাই সোলেমান খান কররাণি।
হয়তো আমরা অনেকে সে কথা
ইতিহাসের পাতা থেকে বিশদ ন-জানি।
প্রাক বৃটিশ আমলে ইসলাম প্রচারে
এথায় আসেন বাবা মীর সাহেব সুদূর আরব হতে
তদীয় নামে তাঁর ওফাত পরে তৈরী হয়Ñ
মীরাপাড়া মীর সাহেব মসজিদ ও মাজার জনগণ মতে।
সিরাজদিখানের পাথর ঘাটায় তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি
তৈরী করেন মোঘল স¤্রাট আওরঙ্গজেবের সভাসদ আনোয়ার।
মুসলিম স্থাপত্যে মসজিদটি আজও দাঁড়িয়েÑ
সংশিত তা’ অগণিত দর্শনার্থী জনতার।
কেওয়ার মিয়া বাড়ি মসজিদটি
এ জেলার অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন।
বৃটিশ আমলে তৈরী তা’
আছে সুরক্ষিত, পাচ্ছে সুযতন।
শ্রীনগরে কামার গাঁও মসজিদ
তৈরী করেন বৃটিশ আমলে
নবাব স্যার সলিমুল্লার প্রতিনিধি-জমিদার আব্দুল গণি খান।
ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাইদের তরে
সেই মসজিদটি ইবাদত পালনে
আজও এক অসামান্য দান।
বৃটিশ আমলে মুন্সীগঞ্জ শহরে এক গম্বুজ বিশিষ্ট
মসজিদ নির্মাণ করেন
জমিদার মহসিন আলীর আত্মিয়া আকরামুন্নেসা
কালের বিবর্তনে সময়ের প্রয়োজনে
সেই মসজিদটি পায় আজিকার নবদশা।
গজারিয়ায় তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ তৈরী হয়
প্রায় দেড়শত বছর আগে নিজকাজিপুড়ায়
মেঘনার করাল ভাঙ্গনে তা’
কালের গহ্বরে হারায়।
উত্তর কাজী কসবা এক গম্বুজ বিশিষ্ট
মসজিদ তৈরী করেন
শফিউদ্দিন কাজী স¤্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে
সেই মসজিদটি আধুনিকায়ন রূপ লাভ করে
ফের উত্তর কাজী কসবায় হালে।
মোঘল আমলে পানামের পুল ঘাটা পুল Ñ
গড়া হয় ইটের সুরকি আর চুনে
সেই পুলের রূপকারÑ
সুবেদার মীর জুমলা আছে সবের মনে।

কবিতাটি উৎসর্গ- আমার শিক্ষা গুরু, কবি, ভাষা গবেষক সিম্বলিক ডিজিটাল গ্রামারের জনক, ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মিজান পারভেজ ঝাঁতোষ স্যারকে।
(কবিতার সুত্র আমার ওস্তাদ প্রতœ গবেষক, ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক, গোলাম আশরাফ খান উজ্জল ভাইএর জনপ্রিয় ও সুপরিচিত “ইতিহাস ঐতিহ্যে বিক্রমপুর” গ্রন্থ হতে) ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here