তৃণমুল পয্যায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল, তেমন উৎসাহ নেই, নেই তেমন চাপ

২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ, সম্পাদক, চেতনায় একাত্তর:

al_manifestoবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ  নিদ্ধারিত সময় সম্মেলন ২০১৯ করার  অক্টোবর  এর  ঘোষিত তারিখ  পরিবর্তন করে আগামী ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে করার  সিদ্ধান্ত নিয়েছে । ইতিপূর্বে  বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের  মেয়াদ উত্তীর্ণ  তৃণমূল পয্যায় ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা কাউন্সিল  শেষ করার দলের শীর্ষ  পয্যায় থেকে একাধিকবার  নির্দেশনা প্রদান করা হয় ।

যখনই চাপ আসে তখন কিছুটা তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও পরবর্তীতে থেমে যায় । দেশের অধিকাংশ জেলায় এখনো সদস্যপদ নবায়ন কার্যক্রম  শেষ করা হয় নাই । কিছু কিছু জেলায় ওয়ার্ড পয্যায় কাউন্সিল করা গেলেও তাহা নিয়েও নানা ধরনের অভিযোগ আছে ।

যথাযথভাবে  গঠনতন্ত্র মতে কাউন্সিল না করা , প্রভাবশালী  নেতৃবৃন্দ  নিজ বাসায় বসেই  পছন্দনীয় লোকদের  নিয়ে কমিটি গঠন করছে  বলে অভিযোগ করা হচ্ছে ।  নিজ দলীয়  গ্রুপিং দন্ধের  পাশাপাশি  বর্তমানে যোগ হয়েছে বিগত ইউনিয়ন  পরিষদ, পৌরসভা, সংসদ,

উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিদ্রোহী  প্রার্থীর  সমর্থকদের কমিটি গঠনে অবস্থান ও কমিটিতে নেওয়ার  বিষয়, এই বিষয় তৃণমূল নেতৃবৃন্দ অনেকাংশে দায়ী করছেন,  আওয়ামী লীগের  কেন্দ্রীয় পয্যায়ের নেতাদের সিদ্ধান্তহীনতা, সঠিক সিদ্ধান্ত না দিয়ে একেক সময় একেক নেতার একেক রকম বক্তব্য প্রদানের, এতে করে তৃণমূল নেতাদের বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হচ্ছে ।

জেলে/ উপজেলা পয্যায় নেতৃবৃন্দ মনে করে  সদস্য পদ নবায়ন, নতুন সদস্য নেওয়া আর  কমিটি গঠনে বিদ্রোহী প্রার্থী আর সমর্থকদের কমিটিতে রাখা না রাখা  নিয়ে এবং বিদ্রোহীদের  কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় কি অবস্থান থাকবে সেই বিষয়ও শীর্ষ পয্যায়

থেকে চূড়ান্ত নির্দেশনা  আসা দরকার বলে  তৃণমূলের প্রবীণ নেতৃবৃন্দ মনে করেন । আর দলীয় এই নির্দেশ অমান্যকারিদের বিষয়ও সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেওয়ার  নির্দেশনা থাকা দরকার বলে মনে করেন ।

bangladesh-awamilegue-daily-sunনতুন কমিটিতে জায়গা নেওয়া নিয়ে বর্তমানে আওয়ামী লিগের বড় সমস্যা হল, ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগে যোগদান করা  বিভিন্ন দল থেকে আগত বিশেষ করে  বিএনপি- জামাতের  নিতি আদর্শ লালন করা অসংখ্য নেতা  কর্মী সমর্থক , যাদের বলা হয় অতিথি পাখী, হাইব্রিট, কাউয়্যা, অচেনা অতিথি, ইত্যাদি নামে ।

এই অতিথি পাখিরা  প্রভাবশালি , অর্থশালী, সম্পদশালী।  তাদের  লক্ষ্য আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে মাল পানি কামিয়ে নেওয়া,  সরকার , জনপ্রতিনিধি, দলীয়সহ বিভিন্ন পদ বাগিয়ে নেওয়া, এতে  তারা সমমনাদের নিয়ে  আওয়ামী লীগে নিজেদের বলয় তৈরি করছে,  আওয়ামী লীগের সম্মানহানি ক্ষতি হলে তাতে তাদের কিছু  যায় আসে না  কতিপয় প্রভাবশালী নেতার  ছত্র ছায়ায় থেকে তারা কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে,

মালপানি কামিয়ে নিচ্ছে, দুই নাম্বারি কাজ করতে গিয়ে কাজের মান খারাপ হচ্ছে, বদনাম হচ্ছে আওয়ামী লীগ আর সরকারের, এতে ত্যাগী নেতা কর্মীদের হাটে বাজারে জনগন দ্বারা নাজেহাল হতে হচ্ছে,  হাইব্রিট কোন মাথা ব্যাথা নেই   কারন তাদের গ্রুপের যে সর্দার মানে কতিপয় নেতা ,  তাদেরও ভাগের মালপানি দিয়ে খুশি রাখছে,  তারাও খুশি, তারা যানে ত্যাগি নেতা কর্মীদের কাজ দিলে কিছু পাওয়া যাবে না,

তাই পুরাণদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখে । এই হাইব্রিটদের  সাথে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা কর্মী সমর্থকদের আদর্শগত মতপার্থক্য  প্রচণ্ডভাবে  প্রকাশ  পাচ্ছে, পুরাণদের সাইজ করার একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে  কমিটি পুনর্গঠনের মধ্যদিয়ে, এবং  অচেনা  অতিথিদের লক্ষ্য চলমান কাউন্সিল ,

এই লক্ষ্য পুরনে সাজানো নাটক বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পুরাণত্যাগীদের সাথে মতবিরোধ, সংঘাত হচ্ছে,  তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মালপানি আর  ক্ষমতার জোরে  অচেনা অতিথিরাই  জয়ি হচ্ছে আর ত্যাগি পুড়ানরা লেবেন চুস চুষতে চুষতে বাড়ি ফিরছে ।

এই ক্ষেত্রে পুরান ত্যাগী নেতাকর্মীদের একমাত্র  ভরসারস্থল হল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা , একমাত্র তিনিই পারেন পুরান ত্যাগী নেতাকর্মীদের  যোগ্যতানুযায়ী নিজ নিজ স্তরের কমিটিতে সম্মানজনক  পদে অধিষ্ঠিত করতে । নচেৎ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির ধারাবাহিকতার দেশকে এগিয়ে নিতে,

আগামি নির্বাচন, আন্দোলন, সংগ্রামে এবং দলীয় নীতি আদর্শ ,ঐতিয্য লালন পালনে  সততা আর  নিষ্ঠার সাথে কাজ করার জন্য দলীয় ত্যাগী নেতা  কর্মীদের  মাঠে অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাবে না ।

আর এখন যেই সমস্ত অতিথি পাখীরা  আওয়ামী লীগকে ঠুকরে ঠুকরে  খাচ্ছে তাদের টিকিরও দেখা পাওয়া যাবে না , সুযোগ বুজে তারা সটকে পড়বে, নিজ বাসায় ফিরে যাবে । যারা  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন , বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অন্তরে ধারণ করেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা  শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাবান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, আপনারা সতর্ক হন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here