শ্রীনগর উপজেলার শীর্ষ ২৫ কৃতী সন্তান (প্রথম পর্ব)

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

70344483_10206394616621125_2613647548493070336_n০১। আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল বীরবিক্রম, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরবিক্রম খেতাব প্রদান করে।

জন্ম ১৮/০১/১৯৫০ তারিখে দক্ষিণ পাইকসা গ্রামে। পাকিস্তানি সেনারা তাকে আটক করে, ১৯৭১ সালের ৩১ আগস্ট হত্যা করে। তাঁর পিতার নাম আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরী এবং মায়ের নাম ফিরোজা বেগম চৌধুরী। যুদ্ধের আগে তিনি মোহামেডান ক্লাবের ও পূর্বপাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট খেলোয়াড় ছিলেন।

০২। স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী। বেতার তরঙ্গ ও বৈদ্যুতিক চুম্বক তরঙ্গের উপর মৌলিক আবিস্কার। উদ্ভিদের জীবন ও অনুভূতির আবিস্কারক। কবি ও লেখক। জন্ম ৩০.১১.১৮৫৮ পৈত্রিক বাড়ি রাঢ়ীখাল, মৃত্যু ২৩.০১.১৯৩৭ গিরিডি। পিতা ভগবান চন্দ্র বসু ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট।

69736966_10206394619861206_4603627736362123264_n০৩। ড. হুমায়ুন আজাদ, ভাষাবিজ্ঞানী, কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, রাজনৈতিক ভাষ্যকার, প্রথাবিরোধি লেখক, প্রকাশিত বই ৭০টির বেশি।

বিভাগীয় প্রধান বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জন্ম ২৮.০৪.১৯৪৭ ভাগ্যকুল ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে। পৈত্রিক বাড়ি রাঢ়ীখাল। মৃত্যু ১১.০৮.২০০৪ জার্মানি। পিতা আব্দুল রাশেদ আকন্দ, মাতা জোবেদা খাতুন।

69690227_10206394620781229_5630100816749658112_n০৪। ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। জন্ম ১৯৩৬ বাড়ৈখালি, পিতা হাফিজ উদ্দিন চৌধুরী।

০৫। এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি, সংসদে সরকারি ও বিরোধি দলের উপনেতা, মন্ত্রী ও লেখক। জন্ম ০১.১১.১৯৩২, পৈত্রিক বাড়ি মজিদপুর দয়হাটা, বীরতারা। পিতা কফিল উদ্দিন চৌধুরী মন্ত্রী ছিলেন।
০৬। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপপ্রধান মন্ত্রী, মন্ত্রী, চীফ হুইপ। পিতা আহমেদ আলী। জন্ম ১০.০১.১৯৩৯ দোগাছি, কোলাপাড়া।

০৭। স্যার চন্দ্র মাধব ঘোষ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও নাইট উপাধি প্রাপ্ত। জন্ম ২৬.০২.১৮৩৮ ষোলঘর, মৃত্যু ১৯.০১.১৯১৮ কলকাতা। পিতা: রায় দুর্গাপ্রসাদ ঘোষ বাহাদুর ছিলেন ডেপুটি কালেক্টর। মাতার নাম চন্দ্রবালা।
০৮। রায় বাহাদুর হরেন্দ্রলাল রায়, প্রতিষ্ঠাতা ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয়, হরেন্দ্রলাল পাবলিক লাইব্রেরি-মুন্সীগঞ্জ, ভাগ্যকুল চ্যারিটেবল হাসপাতাল, মুন্সীগঞ্জ কলেজ (বিলুপ্ত), দানবীর, জমিদার, ব্যাংকার, রায়বাহাদুর খেতাবপ্রাপ্ত। জন্ম ৪

ফাল্গুন ১২৬৬ ভাগ্যকুল, মৃত্যু ১৩ আশ্বিন ১৩৪৪ কলকাতা। পিতা হরপ্রসাদ রায়, মাতা মণিক্যময়ী রায় চৌধুরাণী। প্রকৃতপক্ষে হরেন্দ্রলার রায় দত্তক পুত্র এবং মাণিক্যময়ীর কণিষ্ঠ ভ্রাতা।

০৯। রাজা শ্রীনাথ রায়, ভাগ্যকুলের জমিদার, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জের অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট, দানবীর, প্রতিষ্ঠাতা শ্রীনাথ হাসপাতাল ও মুন্সীগঞ্জ শ্রীনাথ ক্লাব, বৃটিশ সরকার কর্তৃক রাজা উপাধিপ্রাপ্ত। জন্ম ১২৪৮ বঙ্গাব্দ ভাগ্যকুল, মৃত্যু ২১ জৈষ্ঠ ১৩৩১ ভাগ্যকুল। পিতা প্রেমচাঁদ রায়, মাতা সুভদ্রামণি।

১০। সিদ্ধার্থ শংকর রায়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, ওয়াশিংটনে ভারতের রাষ্ট্রদূত, ভারতের পাঞ্চাব প্রদেশের রাজ্যপাল, ভারতের প্রাক্তণ শিক্ষামন্ত্রী ও ব্যারিস্টার ছিলেন। জন্ম ১৯২০ সালে হাসাড়ায়, পিতা- ব্যারিস্টার সুধীর রায়। তিনি ৬ নভেম্বর ২০১০ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।

১১। লালা কীর্ত্তিনারায়ন বসু, শ্রীনগরের জমিদার, নবাব মীর কাশিমের শাসনামলে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশের গভর্ণর, ওয়ারিশক্রমে লালা উপাধি প্রাপ্ত। জন্ম ১৭৩৫ শ্রীনগর (রাইসবর), মৃত্যু ১৭৮৫। পিতা কংস নারায়ন।
১২। কফিল উদ্দিন চৌধুরী, যুক্তফ্রন্টের বিচার বিভাগীয় মন্ত্রী, প্রাদেশিক কোয়ালিশন সরকারের গণপূর্ত, সেচ ও বন দপ্তরের মন্ত্রী, প্রতিষ্ঠাতা- মজিদপুর দয়হাটা কেসি মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউশন। জন্ম ১৮৯৯ মজিদপুর দয়হাটা, বীরতারা, মৃত্যু ১২.০৫.১৯৭২, ঢাকা। পিতার নাম আলতাফ উদ্দিন চৌধুরী।

১৩। হরিআনন্দ বাড়রী, সর্বাধ্যক্ষ ইন্টলিজেন্স বুরো অব ইন্ডিয়া, রাজ্যপাল- ভারতের হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশ। জন্ম ০১.০৪.১৯২৯, শ্যামসিদ্ধি পিতা- হরিদাস বাড়রী। তাঁর আলোচিত গ্রন’ ‘আমার বিক্রমপুর’।
১৪। ব্যারিস্টার কে এস নবী, এটর্নী জেনারেল ও রাজনৈতিক। জন্ম ষোলঘর, পিতা কে ডব্লিউ নবী।
১৫। আবু নাযম হামিদুল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্ণর। হাইকমিশনার কেনিয়া ও জাম্বিয়া। জন্ম সমষপুর, কোলাপাড়া। পিতা মুন্সী হাবিব উল্লাহ।

১৬। ফয়েজ আহমেদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সম্পাদক, রাজনৈতিক, সংগঠক, ছড়াকার, প্রধান সম্পাদক-বাসস, প্রকাশিত গ্রন্থ শতাধীক। জন্ম ০২.০৫.১৯৩২ বাসাইল ভোগ, পিতা গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। তিনি শিশু সাহিত্যে বাংলা একাডেমি ও সাংবাদিকতায় একুশে পদক লাভ করেন। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

১৭। ড. মো: আবু নাসের, উপাচার্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। জন্ম ০৩.০৪.১৯২১, দামলা, রাঢ়ীখাল, মৃত্যু ১২.০৫.২০০৪, পিতা মো: ইসমাইল আলী খান মাতার নাম আবিদা বেগম। তিনি একুশে পদক লাভ করেন।

১৮। কামরুদ্দিন আহমদ, বার্মায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, কলকাতায় পাকিস্তানের ডেপুটি হাই কমিশনার, সভাপতি এশিয়াটিক সোসাইটি, রাজনৈতিক। জন্ম ০৮.০৯.১৯১২ ষোলঘর, মৃত্যু ০৬.০২.১৯৮২ ঢাকা।
১৯। রাবেয়া খাতুন, ঔপন্যাসিক, রত্নগর্ভা মাতা, একুশে ও বাংলা একাডেমি পদক প্রাপ্ত। পিতা- মৌলবি মোহাম্মদ মুলুক চাঁদ, মাতা- হামিদা খাতুন। জন্ম ২৭.১২.১৯৩৫, ষোলঘর।

২০। প্রতিভা বসু (রাণু সোম), ঔপন্যাসিক, বিখ্যাত গায়িকা। জন্ম ১৯১৫ হাসাড়া, পিতা- আশুতোষ সোম, স্বামী কবি বুদ্ধদেব বসু।

২১। জ্ঞান চক্রবর্তী, বিপ্লবী, লেখক। জন্ম ১৯০৫ দোগাছি, কোলাপাড়া, মৃত্যু ১১.০৮.১৯৭৭।
২২। পঙ্কজ রায়, ভাগ্যকুল জমিদার পরিবারের সন্তান বিখ্যাত ক্রিকেটার। ভারতীয় দলের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে উদ্বোধনী জুটিতে রেকর্ড রান করেছিলেন ভানু মানকড়ের সাথে।

২৩। শিমুল ইউসুফ, নাট্যশিল্পী ও কণ্ঠশিল্পী। জন্ম ২১.০৩.১৯৫৭, সমষপুর স্বামী- নাট্যকার নাসির উদ্দিন ইউসুফ।
২৪। ফেরদৌস ওয়াহিদ, জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী। তিনি শিল্পী হাবিব ওয়াহিদের পিতা। জন্ম ১৯৫২, দক্ষিণ পাইকসা, কোলাপাড়া।

২৫। প্রতাপশঙ্কর হাজরা, জাতীয় দলের ফুটবলার ও ক্রিকেটার, জন্ম ১৯৩৬ দোগাছি, কোলাপাড়া। জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন, স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের অন্যতম খেলোয়াড় ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here