সিরাজদিখানে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের খিলাপাড়া গ্রামে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী আরিফ শেখের বিরুদ্ধে। নির্যাতনে স্ত্রীর বাম পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের কারণে তাকে সিরাজদিখান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকাল ৮টায় আরিফ শেখ তার সিরাজদিখান কাঠপট্টির ভাড়াবাড়িতে নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটায়।

এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ রাঙ্গামালিয়া ধামালিয়া গ্রামের আনোয়ার শেখের ছেলে আরিফ শেখের সঙ্গে চার বছর আগে একই ইউনিয়নের তাজুল ইসলামের বড় মেয়ে এ্যানী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুক নিয়ে নানা সময়ে আরিফ ও তার মা পারভীন বেগম এ্যানী আক্তারকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আসছে।

রোববার সকালে নির্যাতিত এ্যানীর বাবা তাজুল ইসলাম ও মা আসমা বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, যৌতুকের জন্য মেয়ের জামাই নানা সময়ে নির্যাতন করেছে। তাই মেয়ের শান্তির কথা চিন্তা করে যৌতুকলোভী মাদকসেবী জামাই আরিফ শেখের বিরুদ্ধে কয়েকবার বিচার সালিশ হওয়ার পরেও মেয়ের জামাইকে বিভিন্ন সময়ে অনেক বুঝিয়েছি।

এরপরও নির্যাতন থেমে থাকেনি। ঘটনার দিন আরিফ শেখ ও তার মা পারভীন বেগম তিন লাখ টাকার যৌতুকের বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে এ্যানী আক্তারকে অকথ্য নির্যাতন চালায়। তারা এ্যানীর বাম হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বটি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

খবর পেয়ে তাজুল ইসলাম আশপাশ এলাকার লোকদের সহায়তায় মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।

এ ঘটনায় তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে আরিফ শেখসহ দুইজনকে অভিযুক্ত করে শুক্রবার রাতে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। যৌতুকের বিষয়টি অস্বীকার করে আরিফ বলেন, ‘আমি বিদেশ যাওয়ার জন্য কিছু টাকা সংগ্রহ করে রাখি। ওই টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটির সময়ে পারিবারিক ঝগড়াঝাটি হয়েছে। এ সময়ে এ্যানী রাগান্বিত হয়ে আমাকে মারতে চাইলে আমি বাধা দেই। তবে তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদউদ্দিন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

যুগান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here