নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: দেশে ওয়ান ইলেভেন আর আসবে না

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

ANA PICনিউইয়র্ক থেকে এনা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে আর কখনো ওয়ান ইলেভেন আসবে না।

সেই জন্য আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ধরনের পরিস্থিতি যাতে না আসে সেজন্যই এই দুর্নীতি বিরোধী অভিযান। এই অভিযানে অনেকেই অখুশী হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাতে সরকারের কিছু করার নেই। এই অভিযান চলবেই। দুর্নীতি করে কেউ ছাড় পাবে না।

অন্য দিকে আমেরিকায় বসবাসরত জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীকে ফেরত দেয়ার জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছি। গত ২৯ সেপ্টেম্বও রোববার (নিউইয়র্ক সময়) বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেয়া চিঠি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। যারা মানতাবিরোধী অপরাধ করেছে, জাতির জনককে খুন করেছে তারা কোন দেশের জন্য নিরাপদ নয়।

তাই বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়েছি। খুনিদের একজন কানাডায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুনিদের যারা আশ্রয় দিচ্ছে সেটা তাদের জন্যও তো মঙ্গলজনক নয়। তাই খুনিদের ফেরত দেয়ার জন্যে সংশ্লিষ্ট সব দেশকেই আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক শ্রেণীর মানুষ হঠাৎ করে আগুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। দামী দামী গাড়ি চড়ছে।

ANA PIC-1

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি- এনা।

এরা দামী গাড়ি কেনার পর কেউ সে গাড়ি স্পর্শ করলে মারতে আসে। মসজিদে যায় বডিগার্ড নিয়ে। তাদের ভাবসাব দেখলে মনে হবে তারা যেন রাজা বনে গিয়েছে। ব্যবসা করলে মানুষ সম্পদশালী হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা শো অফ করে সমাজকে প্রশ্নের সম্মুখীন কেনো করবে? যদি সৎভাবে আয় করতো, তাহলে এমন হতো না। আর যারা সততার সাথে জীবনযাপন করছে তাদের সন্তানদের উপর এর প্রভাব পড়ছে। সমাজে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে।

দেশের চলমান উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আর এজন্যই অভিযান শুরু করেছি। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, আমার বাবা একবার আমেরিকায় এসে আমার জন্য এবং শেখ কামালের জন্য দুটো ঘড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। পরদিন স্কুলে আমি সেই ঘড়ি পরে যাই। আমার শিক্ষক প্রশ্ন করলেন, তুমি যে ঘড়ি পড়েছো তা সবাই দেখছে, তাদের মনে প্রশ্ন জাগছে। এটা কী তোমার করা উচিত। এরপর আমি সেই ঘড়ি পরে আর স্কুলে যাইনি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচার করতে গেলে প্রথমে নিজের ঘর থেকেই বিচার শুরু করতে হয়। দুর্নীতিবাজ যেই হোক না কেনো কেউ পার পাবে না।

তিনি বলেন, নিজের দলের লোকদের আগে ধরছি, মিডিয়া এটা একটু বড় করে দেখাবে এটাই স্বাভাবিক। ঘুষ-দুর্নীতি করবেন, আবার হালাল মাংস খুঁজবেন এটা কেমন করে হয়? দেশের এই অবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন একটি আঘাত প্রয়োজন ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, হঠাৎ করে কেউ যদি অনেক সম্পদের মালিক হয়ে যায়, তাহলে ‘মুই কী হনুরে’ ভাব চলে আসে। অসৎ উপায়ে উপার্জন করে সম্পদের শো অফ করবে এটা হতে পারে না।শেখ হাসিনা বলেন, আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্যে, জনগণের সঙ্গে আমাদের মিশে চলতে হবে।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কুপ্রভাব যাতে দল বা সমাজে না পড়ে সেটা আমাকে দেখতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং চলবে। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে কমিটির সভা করে সিদ্ধান্ত দিয়ে এসেছি। কখন কোথায় অভিযান চলবে। আমরা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটি করেছি। আমি নিউইয়র্কে বসেও সব দিক নির্দেশনা দিচ্ছি। তিনি বলেন, সবার জীবনমান উন্নত হোক এটা আমি চাই কিন্তু অবৈধ পথে কাউকে সম্পদশালী হতে দেয়া যাবে না।

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারী এবং ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঋণ খেলাপীর প্রচলন জিয়ার আমল থেকেই শুরু হয়েছিলো। এটার প্রচলন এখনো আছে। আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আর শেয়ার বাজার নিয়ে কিছু কিছু লোক খেলা করছে। তবে আমি বলবো যারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে তাদের বুঝেশুনে বিনিয়োগ করা উচিত। রোহিঙ্গা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার যতোই বিতর্ক করুক রোহিঙ্গা তাদের নাগরিক। এই সমস্যা তাদের সৃষ্টি। সমাধানের পদক্ষেপও তাদেরকেই নিতে হবে।

তাদের নাগরিক অন্যদেশে রিফিউজি হয়ে আছে এটা তো তাদের লজ্জা। জাতিগত সংঘাত তারাই তৈরি করেছে এজন্য সমাধান তাদেরই করতে হবে। বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা যাতে দেশে ফেরত যেতে পারে সে অবস্থা মিয়ানমারকেই তৈরি করতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাসপোর্ট ভেরিফেশন নিয়ে পুলিশের ঘুষ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘুষ যে নেয় এবং যে দেয় দুই জনই অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, স্পোর্টসকে প্রমোট করার জন্য আমরা নানা সুযোগসুবিধা দিয়েছি। কিন্তু এসব সুবিধা ব্যবহার করে এরা যে ক্যাসিনো নিয়ে আসবে ভাবতেও পারিনি। এসব অবৈধ কর্মকান্ড গ্রহণযোগ্য নয়। তাই পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে আসছে। আরো কী বের হয় দেখুন। অপেক্ষা করুন একবার যখন ধরেছি তখন অভিযান অব্যাহত থাকবে। কারা মার মাধ্যমে বা কোন কোম্পানী মাধ্যমে এসেছে তা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। তবে আমি এবার ভালভাবেই ধরেছি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ারে কনসার্ট করা যায় কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা এমন উদ্যোগ নিলে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করবো।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি আছে। আমি নিজে এই কমিটি দেই। তবে সম্মেলন হওয়া জরুরী। ইতিমধ্যে কেউ কেউ সভাপতি, সেক্রেটারি হয়ে গেছেন। আমি সবাইকে চিনি এবং সময় মতই সব করবো।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তার ৮ দিনের সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, সালমান এফ রহমান এমপি, ফারুক খান উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী প্রেস সেক্রেটারি এহসানুল করিম ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নুর এলাহী মিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here