মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় শিক্ষক জাহাঙ্গীরের স্ত্রী’র মৃত্যুর অভিযোগ সিভিল সার্জন অফিসে!

৩রা অক্টোম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

69310831_1404943396327214_7599043868255846400_nমুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার শৈবাল বসাকের অবহেলায় শিক্ষক জাহাঙ্গীরের স্ত্রী’র মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের সিভিল সার্জন অফিসে। সেই অভিযোগ শিক্ষক জাহাঙ্গীর তাঁর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তা হুবহুব তুলে ধরা হলো। এ বিষয়ে ফলোআপ নিউজ পরের খবরে জানানো হবে।
বরাবর
সিভিল সার্জন অফিসার
মুন্সীগঞ্জ সদর, মুন্সীগঞ্জ।

বিষয়: মৃত্যুর কারণে প্রসঙ্গে।

জনাব,
আপনার অবগতির জন্য যানানো যাচ্ছে যে, আমি নি¤œ স্বাক্ষরকারী গত ২৪ শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ রোজ মঙ্গলবার রাত ৯.২০ টার সময় আমার স্ত্রী মাফিয়া রহমানকে নিয়ে সদর হাসপাতাল জরুরী বিভাগে গিয়ে দেখি কোন ডাক্তার নেই। পরে সহকারী আরিফকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে যে, স্যার ১০৯ (বিশ্রাম কক্ষ) নং কক্ষে আছে সেখানে নিয়ে যান। আমরা সেখানে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত ডাক্তার শৈবাল বোসাক জিজ্ঞেস করলেন যে, কি হয়েছে তার(রোগীর) তখন আমি তাকে বললাম যে,

শিক্ষক জাহাঙ্গীরের স্ত্রী আর নেইস্যার (ডাক্তার শৈবাল বোসাক) আমার স্ত্রীর ১৯ শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ এ ঢাকার হলি ফ্যামিলির হাসপাতাল সিজারে একটি কন্যা সন্তানের জ¤œ দেন। ২৩ সেপ্টেম্বর সুস্থ দেখে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেন আমরা মুন্সীগঞ্জ চলে আসি।

আমার স্ত্রী ডাক্তারকে বললেন ২৪ শে সেপ্টেম্বর বিকাল থেকে প্রচন্ড মাথাব্যাথা, ঘাড়ব্যাথা ও ঘাড় শক্ত হয়ে আসছে, পিঠের দাড়াব্যাথা করছে ও চোখে ঘুম নেই যা এখন এই ব্যাথা কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। শরীর প্রচন্ড খারাপ লাগছে।

এই ব্যাথা নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছি না। তখন ভালোভাবে চেকআপ না করে বলে ওঠে যে, সিজারের সময় অজ্ঞান করার জন্য যে ইনজেকশন দেয় এটা তারই কারণে হয়েছে। ভয়ের কোন কারণ নেই জরুরী বিভাগে গিয়ে আরিফকে বলেন একটা ব্যাথার ইনজেকশন দিয়ে দিতে তাহলেই ব্যাথ্যা কমে যাবে।

71085661_1399892356832318_7892105631643992064_nতখন আমি (রোগীর স্বামী) বললাম স্যার ব্যাথার ইনজেকশনের নাম কি? ডক্তার বলল যে, ব্যাথার ইনজেকশন হাসপাতালে একটাই আছে লেখা লাগবেনা। আপনারা সামনে গিয়ে আরিফকে বললেই ইনজেকশন দিয়ে দিবে। এরপর জরুরী বিভোগে গিয়ে আরিফ কে বললাম ইনজেকশনের কথা সে ইনজেকশন দিয়ে দিল। এরপর আরিফ বলল যে ৫/১০মিনিট পরে কমে যাবে একটু বসেন।

ইনজেকশন দেয়ার দুই মিনিট পরে পরপর দুইবার বুমি করে আরিফের সামনে। সে বলে বাসায় নিয়ে একটু ঘুমানোর ব্যবস্থা করলে ব্যাথা কমে যাবে। আমরা আনুমানিক রাত ১০.৫ মিনিটের সময় হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে গনকপাড়ার বাসায় চলে যাই।
এরপর বাসায় গিয়ে ৫/৭ বার বুমি করে অচেতন হয়ে যায়। আমরা অচেতন অবস্থায় আবার রাত ২.৪৫ মিনিটের সময়

হাসপাতাল নিয়ে আসি। এরপর সে সময়ও আরিফ একটা ইনজেকশনের নাম লেখে দেয় আমি বাহিরের দোকান থেকে ইনজেকশনটি কিনে এনে দিলে আরিফ তা শরীরে পুশ করে দেয়। যখন দেখল চোখ মেলে না সে তখন বলে ঢাকা নিয়ে যেতে।

কিন্তু তখন তো সময় শেষ। এরপর ঢাকা নিয়ে যাই। ঢাকায় গিয়ে সিটি স্ক্যান করে জানতে পারি যে রোগীর মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। যার কারণে মৃত্যুবরণ করে।

যা করা উচিত ছিল-রোগীর কথা শুনে রোগ নির্ণয় করা, পেসার মাপা, বুমি করার পর রোগ সম্পর্কে ধারনা দেয়া, প্রয়োজনে মাথাব্যাথার জন্য কোনো পরীক্ষা করতে দেওয়া ইত্যাদি।

এভাবে রোগীদের দেখে শেষ করে ডাক্তার ও হাসপাতালের অদক্ষ কর্মচারীরা অনেক লোকে জীবন শেষ করেছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরের ২৯ তারিখে মুন্সীগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদ স্যারের সাথে এমনটাই করেছিল হাসপাতালের অদক্ষ

ডাক্তার ও কর্মচারীরা। যা দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে। সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে।

অতএব, আমি মনেকরি হাসপাতালের অদক্ষ ডাক্তার ও কর্মচারীদের এমন ব্যবস্থাপনার জন্য আমার স্ত্রী অকালে জীবন দিতে হয়েছে। এর সুস্থ বিচার চাই যেন আর কারও জীবন এভাবে অকালে জরে না পড়ে।

অভিযোগকারী

(মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন)
সাংবাদিক ও শিক্ষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here