লৌহজংয়ে গোয়ালিমান্দ্রায় বিজয়স্মম্ভ!

৩রা অক্টোম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

61351070_10206020407506131_5938180955490484224_nগোয়ালিমান্দ্রা গ্রামটি বিক্রমপুরের শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলার সীমান্ত এলাকা। একাত্তরে এখানেই সংঘটিত হয় মুন্সিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় সন্মুখ যুদ্ধ। স্থানটি লৌহজং উপজেলায় হলেও পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধ শুরু করে শ্রীনগরের মুক্তিযুদ্ধারা।

পরে যোগ দেয় লৌহজং এর মুক্তিযোদ্ধারা। পাকসেনাদের বহনকারী দুটি লঞ্চ এখানেই ডুবিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেয়। পাকবাহিনী সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয় এবং বহু হতাহত হয়।
একারণেই এখানে স্থাপন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বিজয়স্মম্ভ।

মূল ইতিহাসটা এমন:
কিছু ঘটনার পেক্ষিতে মুন্সিগঞ্জ থেকে শতাধিক পাকসেনা দুটি লঞ্চে করে গোয়ালিমান্দ্রার দিকে আসতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধারা এ খবর পায়। ২৬ অক্টোবর ১৯৭১ খ্রি: সকাল ৭টার দিকে।
কমান্ডার সুলায়মান তাঁর বাহিনী নিয়ে গোয়ালিমান্দ্রা হাটের দক্ষিণ পাশে পজিশন নেন। আঃ শহীদ ভূইয়ার গ্রুপ অবস্থান নেন হাটের পশ্চিম দিকের খালের পাড়ে বেদেপল্লীতে। আর কমান্ডার আতিকুল্লাহ খান মাসুদ হাটের পশ্চিম-উত্তর দিকে অবস্থান নেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই লঞ্চ দুটি হাটের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের ১০০ গজের মধ্যে চলে আসে। লঞ্চ দুটির ছাদে একটি করে এলএমজি হাটের দিকে তাক করা ছিল। সিদ্ধান্ত হয় প্রথমেই এলএমজিম্যানকে আঘাত করা হবে। কমান্ডার মাসুদ তার গ্রুপের মুক্তিযোদ্ধা সেলিম, জাহাঙ্গীর, ইদ্রিস, আলী হোসেনসহ অন্যদের হাটের পশ্চিম পাশ থেকে আক্রমণের নির্দেশ দেন এবং আঃ শহীদ ভূইয়া, কুতুবদ্দিন খান ঝিলু, আউয়ালসহ অন্যদের নিয়ে হাটের দক্ষিণ পাশে রাইস মিলের মধ্যে খৈলের বস্তা ও আটা ভাঙার পাথর দিয়ে ব্যাংকার তৈরি করে আক্রমণের জন্য পজিশন নিতে বলেন।

সুলামায়নের দল প্রথম লঞ্চের উপর গুলি করলেও এলএমজিম্যানকে ফেলতে পারেননি। শহীদ ভূইয়ার দল দ্বিতীয় লঞ্চে গুলি করে এলএমজিম্যানকে ফেলে দেন। প্রথম লঞ্চের এলএমজিম্যান মুক্তিযোদ্ধাদের উপর অনবরত ব্রাশ ফায়ার চালাতে থাকেন।

মুক্তিযোদ্ধারাও চাইনিজ রাইফেল, এসএলআর, এসএমজি চালাতে থাকে। পাকবাহিনী লঞ্চ দুটিকেই পাড়ে ভিড়ায়। কমান্ডার মাসুদের নির্দেশে সেলিম, জাহাঙ্গীর, দুলাল, কাশেম, নান্নু, রতনসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা এবং ভাগ্যকুল ইউনিটের বাহারুল ইসলাম, হাবিলদার বাহাউদ্দিন,

বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাই আঃ হামিদ, মোহর খসরু, নুরুল ইসলাম, মন্টু, আরশাদ, বাদশাসহ মুক্তিযোদ্ধারা অবিরাম গুলি বর্ষণ করতে থাকে যাতে একজন পাকসেনাও নিচে নামতে না পারে।

এক সময় লঞ্চ দুটি থেকে গুলি আসা বন্ধ হয়ে যায়। এ সুযোগে গ্রেনেড মেরে লঞ্চের ছাদ ধ্বংস করা হয়। লঞ্চের নিচ থেকে আবার গুলি শুরু করে পাকবাহিনী এবং প্রথম লঞ্চটিকে খালের দক্ষিণ পাড়ে নিয়ে যায় এবং তার নিচে নেমে পজিশন নিয়ে ব্রাশ ফায়ার করতে থাকে।

যুদ্ধের খবর পেয়ে হলদিয়া থেকে ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন ও সিমুলিয়া থেকে ইকবাল হোসেন তাদের বাহিনী নিয়ে যুদ্ধে যোগ দেন।

যুদ্ধে পাকিবাহিনী সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়। যুদ্ধের সময় বহু নিহত হয়। ৫০-৬০ জনকে জীবিত ধরা হয়। এদের রাতে হত্যা করা হয়।

সূত্র: মুজিব রহমানের ফেসবুক নেয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here