ফলো আপ: শাখারী বাজারের রাস্তার বেহাল দশা

1বছরের পর বছর ধরে বেহাল দশা বিরাজ করছে শাখারী বাজার গ্রামের এই রাস্তাটির। এই রাস্তাটি হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের শাখারী বাজার গ্রামের রাস্তা। রাস্তাটির সাড়ে তিন কিলোমিটার মধ্যে এমন কোন জায়গা নেই যেখান রাস্তার ভালো অংশ খুঁজে পাওয়া যাবে। সবটুকু রাস্তাই বর্তমানে খানা খন্দে ভরা। খানা খন্দে ভরা এ রাস্তাটিতে বৃষ্টির সময় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তাতে এ পথে চলাচলে অনেক অসুবিধা দেখা দেয় গ্রামবাসীর।

এদিকে এই রাস্তায় যদি কোন ব্যক্তি ভুল বশত এসে পড়ে, সেই ব্যক্তি থুক্কু থুক্কু বলে আর আসবে না বলে পরিশেষে তওবা করে এখান থেকে ফেরত যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার ভাঙ্গা ভাঙ্গা অংশ তাই এখানে প্রমান করে এ পথে যেন আর না আসা হয়। এদিকে বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি পুন: সংস্কার না করায় রাস্তার বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে বর্তমানে রাস্তাটিতে এখন বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

বছরের প্রথম দিকে এ রাস্তাটি পুন: সংস্কার করা এই রাস্তাটির এমন দশা হতো না বলে এখানকার এলাকাবাসী মনে করেন। সেই সময়ে রাস্তা পুন: সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হলে অর্থও কম লাগতো। এখন এ রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে নির্মাণ করা হলে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে বলে গ্রামবাসী মনে করছেন। এদিকে রাস্তার বেহাল দশার কারণে এ রাস্তা দিয়ে বর্তমানে পায়ে হেটে চলাচল করা বর্তমানে দু:স্কর হয়ে উঠেছে।

যদি কোনভাবে কোন ব্যাক্তি ভুলেও এ পথে এসে পড়ে, তবে রাস্তার বেহাল দশার চিত্র দেখে পুনরায় এ পথ পরিহারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া এ পথে এখন কোন রিক্সা বা গাড়ি নিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না রাস্তার বেহাল দশার কারণে। এমনই অভিযোগ তুলে ধরেছেন এলাকাবাসীরা।

যেসব ব্যাক্তিরা এ পথের দু’পাশে বাড়িঘর তৈরি করেছেন, তারা শুধু বাধ্য হয়েই এ পথে এখন চলাচল করছেন। এখানে বসবাসকারীদের অন্যত্র কোথাও চলে যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তারা বর্তমানে বাধ্য হয়েই এখানে বসবাসের সূত্র ধরে এ পথেই চলাচল করছেন বলে গ্রামবাসারী জানিয়েছেন।

রামপালের সুজানগর গ্রামের উত্তর দিক দিয়ে হচ্ছে শাখারী বাজার গ্রাম। এখান থেকে রাস্তাটি শুরু হয়ে পূর্ব ও পশ্চিম হয়ে স্থানীয় কবরস্থানের দক্ষিণে গিয়ে মিশেছে লিংক রোড়ের সাথে। শাখারী বাজার গ্রামে শর্টকার্টে যাওয়ার জন্য এ রাস্তাটি হচ্ছে সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা। তা নহলে সিপাহীপাড়ার দরগা বাড়ি হয়ে তবেই এ গ্রামে যেতে হবে। এছাড়া আরো ঘুরপথ দিয়ে সময়ের অপচয় করে এ গ্রামে যাওয়া যাবে।

এর ফলে যাতায়াতে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করতে হবে। কবরস্থানের লিংক রোডের অংশের কাছাকাছিতে এখানেই জন্ম গ্রহণ করে ছিলেন প্রয়াত সাবেক সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা জুলহাস মিয়া। তিনি হচ্ছেন জেলা আ’লীগের বর্তমান সভাপতি মো: মহিউদ্দিনের ছোট বোনের জামাই। তার গ্রামের রাস্তার এ বেহাল দশায় এ গ্রামের মানুষকে হতবাক করে তুলেছে। আরো হতবাক করে তুলেছে নতুন আগত পথচারীদেরকে।

এখানে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এ রাস্তাটি এখন প্রায় ভাঙ্গাচুরা অবস্থায় চিত্র পথচারীদের যাতায়াতের সময় মনে করিয়ে দেয়। এ রাস্তার দু’পাশে গড়ে উঠেছে শতাধিক মিনি গার্মেন্সের মতো অনেক অনেক প্রতিষ্টান। এসব প্রতিষ্টান থেকে রামপাল ইউনিয়ন পরিষদ ট্রেড লাইন্সের নামে ট্যাক্স আদায় করে থাকেন প্রতি বছর।

কিন্তু এখানকার লোকজন যেভাবে পরিষদকে ট্যাক্স প্রদান করছেন, সেইভাবে এখানে বসবাসকারীরা খানা খন্দ ভরা রাস্তাটি সুষম সেবা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এক সময় এখানে প্রচুর পরিমাণে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের জন্য শাখা তৈরি হতো। এ কারণে এ গ্রামটি শাখারী বাজার গ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করে। এখানকার তৈরি শাখা ঢাকার শাখারী বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে এ গ্রামে।

ইতিহাসের অংশ হিসেবে এই শাখারী বাজার গ্রামের গুরুত্ব রয়েছে উপজেলার সর্বত্র। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে সেই অবস্থার প্রাচীন ইতিহাস বর্তমানে ম্লান হয়ে যাচ্ছে সবকিছু। এ গ্রামটি এ পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডে পড়েছে। এ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল করিম এ প্রতিবেদককে জানান, এ রাস্তাটি খুব শীঘ্রই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here