মাদক সম্রাজ্ঞী কলি’র মাদকের ব্যবসা রমরমা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহী মহানগীতে কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী কলির মাদকের ব্যবসা রমরমা। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধিন পাচানিমাঠ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এই কলি। দির্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে

পলি তার স্বামী সঞ্জু ,ভাই ডলার ও রাসেলসহ মাদক ব্যবসার সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত তার বাবা ও মা। মাদকের ব্যবসাটা তাদের পারিবারিক বল্লে ভুল হবেনা।

সূত্র মতে তাদের সকলের মিলে প্রায় ২০টি’র মতো মাদকের মামলা রয়েছে। তারপরও তারা দাপটের সাথে মাদকের ব্যবসা অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। মরননেশা হেরোইন, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, প্যাথেডিন হাত বাড়ালেই মেলে তাদের কাছে।

দেশেজুড়ে করোনা মহামারির মধ্যে মানুষ যখন তপ্ত রোদে মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ চাউল, আটা, তৈলসহ অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করছে। অভাব অনাটনের মধ্যে আতংক নিয়ে জিবিকার তাগিয়ে বাড়ি থেকে রাস্তায় নামছে মানুষ।

আর সেই সময় পুলিশের ব্যস্ততাকে কাজে লাগিয়ে একপ্রকার খোলামেলা ভাবেই চুটিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মাদকের উপর প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স ঘোষনা থাকলেও এ সকল নিলজ্য মাদক ব্যবসায়ীদের সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা করেই অপরাধ জগতে থেকে টাকা কামাতে ব্যস্ত।

বর্তমানে সমাজের মাদকের ভয়াবহ চিত্র লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সি কিশোর, যুবকরা এসকল নেশার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। দিন দিন তাদের সংখ্যাও বাড়ছে। লন্ড ভন্ড বিকৃতি মানুষিকতা নিয়ে বেড়ে উঠছে তারা। সমাজে শ্রদ্ধা সম্মান উঠে যাচ্ছে।

মাদকাশক্ত কিশোর যুবকরা মা-বাবা বড় ভাই বোন শ্রদ্ধেয় প্রতিবেশিদের সাথে খারাপ আচারন তাদের নতুন কালচারে পরিনত হতে চলেছে। অন্যদিকে ডিজাইন করে কাটিং চুলের মাদকাশক্ত কিশোর যুবকরা ভংকর অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। চুরি, ছিনতাই ও হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটাতেও দ্বিধা করছেনা তারা।

এসকল যুবকরা নিজ নিজ পরিবারের মা-বাবা’র সাথে জুলুম নির্যাতন করে দামি দামি মোটরসাইকেল কেনাতে বাধ্য করছে। ছেলে ফ্যানের সাথে ঝুলে যাবে ভেবে তাদের মোটর সাইকেল কিনে দিচ্ছেনও তারা। কিন্তু পরবর্তিতে ওই সকল যুবকরা মাদকের টাকা যোগাড় করতে ব্যস্ততম সড়কে রিক্সা যাত্রী, পথচারিদের হাতে

থেকে দামি দামি মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে মোটর সাইকেলের গতি বাড়িয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এই রকম অসংখ্য উদাহরণ আমাদের জনা। অপরাধের টাকা দিয়ে চাল, ডাল বা খাদ্য সামগ্রী কিনছে এমটিও না।

একমাত্র মাদকের টাকা যোগান দিতেই তারা এই সকল জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করছে। অনেক মাদকাশক্ত ছেলেরা আবার মাদকের টাকা যোগাড় করতে মা-বাবাকে আঘাত করতে দ্বিধা করছে না।

হতাশা-উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যে দিয়েই মাদকাশক্ত পরিবারের অভিভাবকদের দিন কাটছে। শুধুই অন্ধকার আশার আলোর চিহৃ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। বড়বড় মাদকের গড ফাদাররা দাপটের সাথে চালাচ্ছে মাদকের ব্যবসা। আর আটক হচ্ছে মাদকাশক্ত ও খুদ্র মাদকাশক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকার স্থানীয়রা জানায়, যারা ধরবে তাদের সাথেই কলিদের মতো মাদক সম্রাজ্ঞীদের সখ্য।

এদিকে একাধিক পুলিশের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনা মহামারী মধ্যে তারা মাদকের বড় কোন চালানের তথ্য পেলে অভিযান করবেন। না হলে কাউকে ধরতে অনিহা প্রকাশ করছেন। সবমিলে মাদক ব্যবসায়ীরা প্রায় উম্মুক্ত।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কলি’র প্রায় ১২টির মতো লেবার আছে যারা মোবাইল হাতে পুরো এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাহারাদেয়। এছাড়া ই প্রশাসনের কেউ এলাকায় প্রবেশ করলেই আপা সরে জান মুঠো ফোনে বার্ত দেয়। আর কৌশলি কলি মাদক সরিয়ে ফেলে। সাথে নিজেও নিরাপদে থাকে। এছাড়া কলি’র ডিজিটাল

ব্যবসা হলো ফেসবুক ইমু ও ম্যসেনঞ্জারে মাদকের ওর্ডার নিয়ে তার লেবার দিয়ে হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকে। কলি’র মাদক সিন্ডিকেট শহরজুড়েই। কলি’র হাত ও অনেক লম্বা। সকল শ্রেণীর লোকজনের সাথে রয়েছে তার

গভির সখ্যতা। পুলিশ চাইলেই যে কোন সময় কলি কেন পুরো মহানগরী থেকে মাদক নিমূল সম্ভব বলেও জানান স্থানীয়রা।

শিক্ষা নগরী রাজশাহী মহানগরীতে মাদক ব্যবসা দেখতে চায়না সাধারন মানুষ। রাজশাহী মহানগরী থেকে মাদক নিমূলের দাবি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের। আর এই অভিযান পাচানি মাঠ, পঞ্চবটি, খরবোনা, কেদুড় মোড়, হাদিরমোড় নদীর পাড় শহীদ মিনার এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী কমেলা আটকের মধ্য দিয়ে মাদকমুক্ত করার দাবিও জানান স্থানীয়রা ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here