অভিনেতা নারায়ণ চক্রবর্তীর বাড়িটি জরাজীর্ণ

3সিরাজদিখান থেকে ফিরে মোহাম্মদ সেলিম ও তুষার আহাম্মেদ:

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের জননন্দিত অভিনেতা নারায়ণ চক্রবর্তী। মৃত্যুর আগে ও পরে তিনি জাতীয় পর্যায়ে কোন পুরস্কার পাননি। রাশভারি এ অভিনেতা বাংলা সিনেমায় জমিদার, রাজা, চাকরসহ নানা রকমের অভিনয় করেছেন।

1পঞ্চাশের দশকে তিনি অভিনয় জগতে আসেন। তিনি একাধিক উর্দু ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার প্রথম বাংলা ছবি হচ্ছে মুখ ও মুখোশ। এটি বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম বাংলা ছায়া ছবি। এ অভিনেতার জন্মস্থান হচ্ছে সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের মধ্য কোলা গ্রামে। নারায়ণ চক্রবর্তী ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জানুয়ারিতে জন্ম গ্রহণ করেন।

2নারায়ণ চক্রবর্তীর পিতা জিতেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তার স্ত্রী মায়া চক্রবর্তীর নামে এখানে মায়া কুটির নামে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন। বর্তমানে এ ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নারায়ণ চক্রবর্তী কলিকাতার মোহামেডান ক্লাবে সেই সময়ে খেলতেন। তিনি সেখানে মঞ্চে ও থিয়েটারে নিয়মিত অভিনয় করতেন।

4

(নারায়ণ চক্রবর্তীর  বড় ছেলে দীলিপ চক্রবর্তী)

নারায়ণ চক্রবর্তীর পিতা জিতেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী কলিকাতার টালিগঞ্জে কোলা ভিলা নামে আরেকটি ভবন নির্মাণ করেন। বাংলার মাতৃভূমির টানে কোলা গ্রামের নাম অনুসারেই সেখানে কোলা ভিলা নির্মাণ করা হয়। নারায়ণ চক্রবর্তীর পিতা জিতেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী কলিকাতায় টেলিফোন বিভাগে কাজ করতেন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশভাগের সময় নারায়ণ চক্রবর্তীর পিতা ওপার বাংলায় থেকে যান।

5

(নারায়ণ চক্রবর্তীর  সমাধি)

কিন্তু নারায়ণ চক্রবর্তীর সেই সময় দেশ মাতৃকার টানে এ বাংলায় চলে আসেন। এখানে তিনি টিএন্ডটি চাকরি নেন। আর সবাইকে নিয়ে তিনি ঢাকার টিএন্ডটি কলোনিতে উঠেন। অভিনয়ের নেশায় তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তার ঘর আলো করে ৭টি সন্তান আসে। তারমধ্যে ৪টি ছেলে সন্তান ও ৩টি মেয়ে সন্তান।

6এরমধ্যে তিন মেয়ের মধ্যে একজন মারা গেছেন। তার এক মেয়ে শ্রীনগরের মাইজপাড়ায় বিয়ে হয়েছে। অন্য মেয়ে কলিকাতার টালিগঞ্জে বসবাস করছেন। তার বড় ছেলে দীলিপ চক্রবর্তী বর্তমানে নারায়াণ চক্রবর্তীর বাড়িতে বসবাস করছেন। তার আরেক ছেলে সোনালী ব্যাংক থেকে ইতোমধ্যে অবসর নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন।

7তার অপর ছেলে পিতার সূত্রে টিএন্ডটির চাকরির মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রীর গণভবনে টেলিফোন বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। তার অপর ছেলে প্রধান মন্ত্রীর বাসভবনে টেলিফোন বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। নারয়াণ চক্রবর্তীর টিএন্ডটি কলোনিতে নিয়মিত আড্ডায় শাবানা ও কবরীসহ অনেক নামকরা অভিনেতারা সেখানে আসতেন।

বর্তমানেও এফডিসি থেকে তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নেন। নারায়ণ চক্রবর্তীর বড় পুত্র দীলিপ চক্রবর্তী অভিনয়ের জন্য কয়েকবার অডিশন দেন। কিন্তু বাবা অভিনয় করতে পুত্রকে বাঁধা দেন। বাবার বাঁধার মুখে দীলিপ অভিনয় করতে পারেননি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নারায়ণ চক্রবর্তীসহ ১১ জনকে কোলা থেকে পাক বাহিনী ধরে হরগঙ্গা কলেজের ক্যাম্পে নিয়ে আসেন। তিনি উর্দু ছবিতে অভিনয়ের সূত্রে সেদিন এখান থেকে মুক্তি পান। উর্দু ছবি তালাশ এ নারী অভিনেতার স্বামী মেজর হরগঙ্গা কলেজ ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন। আর এ কারণে তিনি সেদিন এখান থেকে মুক্তিপান।

সাত ভাই ও বোনদের মধ্যে দীলিপ চক্রবর্তী হচ্ছে তৃতীয়। নারায়ণ চক্রবর্তীও অপর সন্তানরা হচ্ছেন প্রদীপ চক্রবর্তী (প্রধান মন্ত্রীর বাসভবন ও সংসদ ভবন কর্মরত রয়েছেন), সন্দীপ চক্রবর্তী (গণভবনে কর্মরত রয়েছেন), আরতি রানী রায় (মারা যায়), দীপ্তি ব্যানার্জী বড়

বোন ( কলিকাতায় বসবাস) তৃপ্তি ব্যানাজী ( ছোট বোন মাইজপাড়ায় বসবাস করছেন)। নারায়ণ চক্রবর্তী বসতিতে জায়গার পরিমাণ হচ্ছে ১৪ পয়েন্ট ৫ কানি।

এখানে একাধিক পুকুরে মাছ চাষ ও জমিতে চাষাবাদ করে দীলিপ চক্রবর্তী জীবিকা নির্ভাহ করেন। নারায়ণ চক্রবর্তী বাধক্যজনিত কারণে ৮২ বছর বয়সে ঢাকার একটি হাসপাতালে ১৯৯৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নারায়ণ চক্রবর্তীকে তাঁর নিজ বাড়িতে সমাহিত করা হয়েছে। তাঁর পাশে তাঁর স্ত্রীকেও।

নারায়ণ চক্রবর্তী প্রায় ১৮০ টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে, মুখ ও মুখোশ, এদেশ তোমার আমার, তিতাস একটি নদীর নাম, পদ্মা নদীর মাঝি, লাঠিয়াল, হারানো দিন, আলোর মিছিল, ক খ গ ঘ ঙ, কাগজের নৌকা, মতিমহল, দীপ নিভে নাই, কাঁচের দেয়াল, প্রীত না জানে রীত, শহীদ তিতুমীর, ডুমুরের ফুল, মাটির পুতুল, নীল আকাশের নীচে, অবাঞ্চিত ও বেদের মেয়ে।

এ নিউজের তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করেন নারায়ণ চক্রবর্তীর বড় ছেলে দীলিপ চক্রবর্তী ও সিরাজদিখানের সাংবাদিক নাসির উদ্দিন এবং লিংকন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here