মুন্সীগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটে ১৮ হাজার গ্রাহকের ভোগান্তি

মোহাম্মদ সেলিম ও তোফাজ্জ্বল হোসেন:

মুন্সীগঞ্জে আবাসিক এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে আবাসিক এলাকায় রান্না বান্নায় মারাত্নক অসুবিধায় রয়েছে এখানকার সাধারণ মানুষেরা। গ্যাস চলে যাওয়া ও আসার লুকোচুরিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের নিয়মিত আবাসিক এলাকার গ্যাসের ব্যবহারকারী গ্রাহকরা। এখানে সকালের দিকে গ্যাসের

জ্বালানি প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও সন্ধ্যার দিকে এর গ্যাসের প্রবাহ আবার ফিরে আসে। আবার অনেকের বাসা বাড়িতে দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টার দিকে গ্যাসের প্রবাহ ফিরে পান বলে শোনা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বাসা বাড়িতে এর ব্যবহারের গ্যাসের গ্রাহকরা ফজরের নামাজের পরপরই নিত্য দিনের রান্না বান্না করে রাখেন অনেকেই। আর তা দিয়েই এ পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে এখানকার গ্যাসের গ্রাহকরা। অনেকেই আবার এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন এর পাশাপাশি। এর ফলে এক দিকে যেমন গ্রাহকরা গ্যাস না পেয়েও গ্যাসের বিল পরিশোধ করছেন মাসে মাসে।

অন্যদিকে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করার কারণে তাদের দৈনদিন জীবনযাত্রায় ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। বছরের পর বছর এখানে এই অবস্থা বিরাজমান থাকলেও কোনভাবেই এখানকার মানুষ এ যাত্রা থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্যাস প্রতিদিনই নিয়ম অনুযায়ি চলে যাওয়া ও ফিরে আসা চলছে বছরের পর বছর একই নিয়মে।

কিন্তু এর স্থায়ীয় সমাধানে কোন বিজ্ঞানভিত্তিক উপায় নিয়ে কোন ধরণের কাজ করতে দেখা যায়নি এর সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের। ফলে বিষয়টি তিমিরেই রয়ে গেছে বছরের পর বছর ধরে। আগে শীতের দিনেই মুন্সীগঞ্জে গ্যাস থাকতো না বলে শোনা গেছে।

তবে সেই সময়ে গ্রীস্মকালে এখানে গ্যাস পাওয়া যেতো বলে অনেকেই দাবি করছেন। কিন্তু এখন বারো মাসই এখানে গ্যাস প্রবাহ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সেই সময়টা এখানকার গ্যাস কতৃপক্ষের দাবি ছিল যে,

শীতে গ্যাসের প্রবাহে ঠান্ডার কারণে এখানে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এখন শীত ও গ্রীম্মেও কোন বালাই নেই গ্যাস চলে যাওয়ার পিছনে। এখানে মজার বিষয় হচ্ছে যে, নারায়নগঞ্জের সৈয়দপুর এলাকার ধলেশ্বরী নদীর তলদেশ দিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের ফিরিঙ্গিবাজারের স্টীমারঘাট দিয়ে মুন্সীগঞ্জে গ্যাসের লাইন আনা হয়েছে।

এ পথ দিয়ে এখানে গ্যাসের লাইন আনা হয়েছে সেখানে কোন ভাবেই গ্যাস কমে যাচ্ছে না বলে খবর পাওয়া গেছে। তারা ঠিক মতোই গ্যাস পাচ্ছে বলে জানা গেছে। কিন্তু সকল বিপত্তি ঘটছে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা এলাকাতেই। মুন্সীগঞ্জ সমগ্র পৌর এলাকায়তেই এ গ্যাস প্রবাহ থাকছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর সঠিক সমাধানে তিতাস গ্যাস কতৃপক্ষ এখনো এগিয়ে আসেনি বলে শোনা যাচ্ছে। কোন এক সময় এখানকার তিতাস গ্যাস কতৃপক্ষকে বলতে শোনা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে যে গ্যাস পাইপ লাইন মুন্সীগঞ্জে এসেছে তার পাইপ অনেকটা সরু। আর যখন এই পাইপ লাইন মুন্সীগঞ্জে এসেছে তখন এটি আবাসিক এলাকায় ব্যবহার করার জন্য যতটুকু পাইপের প্রয়োজন ছিল তাই এখানে এসেছে।

এরপর এখানে আরো মোটা পাইপ দিয়ে গ্যাসের লাইন সংস্কার করা হয়। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হচ্ছে না বর্তমানেও। নারায়নগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পূর্বপাড়ে অসংখ্য শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ভারি শিল্পকারখানাও রয়েছে। এইসব শিল্প কারখানায় এই পাইপ লাইন থেকেই গ্যাসের লাইন দেয়া হয়েছে। সেখানে একাধিক সিমেন্টে কারখানা রয়েছে।

এসব সিমেন্টে কারখানায় পরিবহন খাতের বেশিরভাগ যানবাহনেই গ্যাসদ্বারাই চালিত হয়। এছাড়া মুক্তারপুরের পশ্চিমপাড়ে বিসিকসহ একাধিক শিল্প প্রতিষ্টান গড়ে উঠেছে। সেখানেও গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব শিল্প প্রতিষ্টানে গ্যাস প্রবাহ অব্যহত থাকলে কেন আবাসিক এলাকায় গ্যাস থাকছে না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে?

এই দুটির মাঝেই রয়েছে আসল রহস্য। রহস্যের বেড়াজালে মুন্সীগঞ্জের ১৮ হাজার আবাসিক গ্যাসের গ্রাহক এখন জিম্মি হয়ে পড়েছে।

মুন্সীগঞ্জের তিতাস গ্যাস অফিস সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জে বর্তমানে আবাসিক এলাকায় ১৮ হাজার গ্যাস ব্যবহারকারী গ্রাহক রয়েছে। এদিকে ৩ হাজার ২শ’টি বাণিজ্যিক গ্রাহকের মাঝে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৩৮টি শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের মুন্সীগঞ্জ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো: মেজবাহ উদ্দিন জানান, মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকার আবসিক গ্যাস গ্রাহকরা গ্যাস পাইপ লাইনের শেষ অংশে অবস্থান করছে। এরপরে আর কোন গ্যাস লাইন দেয়া হয়নি।

গ্যাসের পাইপ লাইনে গ্যাসের প্রবাহ শেষ অংশের দিকে কমে যায়। এ কারণে কোথাও কোথাও আবাসিক এলাকাতে গ্রাহকরা গ্যাস পায় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here