টঙ্গীবাড়ির বারো আউলিয়াতলা

IMG_6620গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল

ইতিহাস ঐতিহ্যেও লীলা ভূমি মুন্সীগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রতিটি উপজেলা, গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইতিহাস, প্রত্ন ও ঐতিহ্য। মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম দশত্তর।

এই দশত্তর গ্রামের সামান্য দক্ষিণ পাশ দিয়ে প্রবাহিত প্রমত্তা পদ্মা। দশত্তর গ্রামের দশত্তর মৌজায় একটি বিশেষ স্থানের নাম হলো “বারো আউলিয়াতলা।” শত শত কিংবা হাজার বছরের প্রাচীন এই বারো আউলিয়াতলা। বারো আউলিয়াতলা কীভাবে এই নাম হলো, তা কেউ বলতে পাওে না।

তবে পাঁচ শতক বা শতাংশ জমিতে অসংখ্য পরিমান হিজল, কড়ই, বউন্যা ও পিটি খরাগাছ রয়েছে। ৫ মার্চ শুক্রবার বিকেল ৪ টার সময় বারো আউলিয়াতলার হিজল গাছ দেখতে আসি। প্রায় ঘন্টা খানেক অবস্থান করি।

হিজলগাছ গুলো গুনি। আমাদের ছোট বেলায় বড়দেও কাছে শুনেছি, এখানে যে হিজল গাছ আছে, তা কেউ গুনতে পাওে না। অনেকে গুনেছেন কিন্তু এখানে কত গাছ রয়েছে, তা সঠিক ভাবে বলতে বা গুনতে পারেনি। আশ্চর্য্যওে বিষয় ৫ মার্চ ২০২১ শুক্রবার, আমি এবং স্থানীয় চিত্রকরা গ্রামের মোসলেম কবিরাজ (৭৫) হিজল গাছসহ অন্যান্য গাছ গুলো গুণলাম। এখানে ২৯ টি হিজল গাছ,

৫টি মৃত হিজলগাছ, ১টি বড় কড়ই গাছ, ৪ টিবউন্যা গাছ ও ১টি পিটখিরা গাছ রয়েছে। এখানে উত্তর ও পুর্বপাশে বেত ঝাড় রয়েছে। মোসলেম কবিরাজ জানালেন, এই জমির মালিক সুধীর বেপারী ও মনমোহন বেপারী। এখানে হিন্দুরা প্রতিটি হিজল গাছে তেলসিদুর মেখে রাখে।

গাছ গুলোর পূজা করে। মুসলমানরা মানত করে। টঙ্গীবাড়ি উপজেলা থেকে পাঁচগাঁও বাজার ৭ কিলো মিটার। পাঁচগাঁও বাজার থেকে সোজা ১ কিলো মিটার পশ্চিমে এই কিংবদন্তীর বারো আউলিয়াতলা। খুব সম্ভবত হাজার বছর আগে মুন্সীগঞ্জ সদরের কেওয়ার গ্রামের শয়িত বারো আউলিয়াগণ এখানে এসে ছিলেন।

সেই থেকে এই এলাকাটি বারো আউলিয়াতলা হয়েছে। পাঁচগাঁও গ্রামে যে সাতুল্লা দীঘি রয়েছে তাও আউলিয়াদেও নামের সাথে জড়িত। সাত আউলিয়া থেকে শব্দটির উৎপত্তি সাতুল্লা। বারো আউলিয়াতলার যেতে টঙ্গীবাড়ি শহর থেকে অটো বা মিশুকে পাঁচগাঁও, সেখান থেকে পশ্চিমে বারো আউলিয়াতলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here