মোল্লাকান্দিতে জালাল হত্যাকান্ডের কেউ গ্রেফতার হয়নি?

FB_IMG_1615631421829গোলাম আশরাফ উজ্জ্বল ও মো. নাজির হোসেন

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের নতুন আমঘাটা গ্রামে জালাল বেপারীর হত্যাকান্ডের চার দিন অতিবাহিত হলেও কোন আসামী এখনো গ্রেফতার বা আটক হয়নি।

ককটেলের গোডাউন হিসেবে পরিচিত মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের নতুন আমঘাটা গ্রাম থেকে পুলিশ ইতোমধ্যে দুই দফা অভিযানে ১৫টি তাজা ককলেট উদ্ধার করলেও ককটেল হোতারা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

গত ১৩ মার্চ শনিবার দুপুর ১টার দিকে আলুর টলি বিষয়ে নতুন আমঘাটা গ্রামের মৃত গনি বেপারীর ছেলে জালাল বেপারী (৪৫) এর দিকে তার চাচাতো ভাই ককটেল ছুড়ে মারে। আর সেই ককটেলেই জালালের মাথায় লাগলে সেটির বিস্ফোরণ ঘটে। তাতেই জালালের মৃত্যু হয়। এ সময় আরও ৫ জন আহত হয়।

এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় ২৪ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর পরপরই মুন্সীগঞ্জ পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৫টি ককটেল উদ্ধার করে।

মামলার আর্জি হতে জানা যায়, মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার সেন্টু বেপারী, মো. রাসেল মিজি, মো. রায়হান মিজি, দেলোয়ার মিজি, খালেক শেখ, শিপন মোল্লা, স্বপন মোল্লাসহ ২৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। হত্যাকান্ড মামলার বাদী হয়েছে নিহত জালাল বেপারীর স্ত্রী রোজিনা বেগম।

গতকাল সোমবার দুপুরে নতুন আমঘাটা গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, নিহত জালালের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। নিহতের স্ত্রী স্বামী হত্যার চার দিন অতিবাহিত হলেও কোন আসামী আটক না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দ্রুত বিচার আইনে স্বামী হত্যার বিচার চান। তিনি আরও জানান, তার চোখের সামনেই তার স্বামীকে ককটেল মেরে হত্যা করে। প্রথম ককটেলটি সেন্টু মেম্বারের নির্দেশে রাসেল নিক্ষেপ করে, দ্বিতীয়টা নিক্ষেপ করে খালেক। এরপর মেঘের মতো ককটেল পরতে থাকে আমার স্বামীর শরীরে।

মামলার বাদী ও আসামীদের বাড়িতে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। মোট ১০ জন পুলিশ নতুন আমঘাটায় অবস্থান নিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বর্তমান মেম্বার সেন্টু বেপারী নিহত জালাল বেপারীর ভাই ফারেজ বেপারী আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী। ফলে সেন্টু বেপারী ফারেজ বেপারী ও তার ভাইকে প্রতিপক্ষ ভাবতে থাকে। ফারেজকে দুর্বল করতেই সেন্টু জালালকে হত্যা করে। আর প্রতিবছর আলু উত্তোলনের সময় স্থানীয় নেতাদের অর্থনৈতিক আধিপত্য কোন্দল সৃষ্টি হয়।

জালাল বেপারী হত্যাকান্ডের বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. মাহফুজ আফজাল বলেন, আমরা এখনো সফল হয়নি, এখন পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারিনি, হত্যাকান্ডের পর থেকেই আমি মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের নতুন আমঘাটায় অবস্থান নেই। আমার নেতৃত্বে গত ১৪ মার্চ বিকেল ৪ টার দিকে নতুন আমঘাটার দেলোয়ার দেলু মিজি ও দিলা মোল্লার বাড়ি হতে ককটেল উদ্ধার করি। বর্তমানে এ এলকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সোমবার বিকালে শতাধিক পুলিশ নিয়ে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ককটেল, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান নেতৃত্ব দিচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here