সেনের দীঘির খোঁজে বজ্রযোগিনীতে

সেনের দীঘির খোঁজে বজ্রযোগিনীতেগোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল:

মুন্সীগঞ্জ শহর থেকে ৭ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে বজ্রযোগিনী গ্রাম। এই গ্রামটি বৌদ্ধদের নিকট অতি পবিত্র একটি গ্রাম। এই গ্রামে ৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর জন্ম গ্রহণ করেন। এখানে রয়েছে একটি স্মৃতি মন্দির।

এই মন্দির হতে আধা কিলোমিটার পূর্বে রয়েছে হাজার বছরের পুরনো একটি দীঘি। এই দীঘিটির নাম সেনের দীঘি। এটি রামশিং বাঁশতলার পশ্চিমে, বজ্রযোগিনী – হাতিমারা সড়কের পূর্বপাশে, নাহাপাড়া গ্রামের উত্তর পাশে এই সুবিখ্যাত সেনের দীঘির অবস্থান।

সেন শাসনামলের কোন শাসক এই দীঘি খনন কওে ছিলেন, তা ইতিহাসে উল্লেখ নেই। তবে বল্লাল সেনের বাড়ি হিসিবে চিহ্নিত রামপালের সিপাহীপাড়ায় ‘বল্লালবাড়ি’রয়েছে। সে হিসেবে এ দীঘিটি বিজয় সেন মহা রাজাধিরাজের সময়ের হতে পারে।

সেন রাজারা দক্ষিণাত্য থেকে পশ্চিম বঙ্গের রাঢ় দেশে সেখান হতে বাংলাদেশের বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলায় যা প্রাচীন বিক্রমপুরের রামপাল আসেন। আমার মনে হয়েছে, চন্দ্র এবং বম রাজাদের রাজধানী শহর বজ্রযোগিনী আক্রমণ করে বিজয়ী হয়ে রামপাল নগরীর পওন করেন।

হয় তো সে আক্রমণেই বজ্রযোগিনী মন্দির ধ্বংস হয়। মুন্সীগঞ্জের এই বজ্রযোগিনী মন্দিরই বর্তমানে নেপালের সাঙ্কুর (ঝধহশঁ) বজ্রযোগিনী মন্দির। গত শুক্রবার ১৯ মার্চ ২০২১ বিকেলে সেনের দীঘির খোঁজে বের হলাম

শাহিন মীরকে সাথে নিয়ে। পেয়েও গেলাম সেনের দীঘি। হাসান মিয়া (৫০), রাজ্জাক (৭০) ও ষষ্ঠ শ্রেণির সামিয়া জানালো এটাই সেনের দীঘি।

তবে কোন সেন রাজা দীঘিটি খনন করেছেন তা অজানা। কেউ বলতে পারেনি। লেখাও হয়নি কোন পুস্তকে। সরেজমিন দেখা গেল সেনের দীঘি। দীঘিটির বর্তমানে আয়তন হলো উত্তর-দক্ষিণে ৩শ ৫০ ফুট। আর পূর্ব-পশ্চিমে ১শ ৭৫ ফুট। দীঘির উত্তর পাড়ে একটি পাকা ঘাটলা আছে।

সেখানে বেশ কয়েক জন নারী পুরুষ গোসল করছেন। বিশুদ্ধ টলমলে পানি। দীঘির গভীরতা প্রায় ১৫ ফুট। সেনের দীঘিতে মাছ চাষ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here