শ্রীনগরে ছ্যাঁকা রুটি

1মোহাম্মদ সেলিম:

শ্রীনগর বাজারে ছ্যাঁকা রুটি খাওয়ার জন্য দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে লোকজন। বংশ পরাক্রমায় কয়েক পুরুষ ধরে এখানে কয়েকজন ব্যাক্তি এ ছ্যাঁকা রুটির ব্যবসা করছেন। এক সময়ে এ বাজারে খাদ্য তালিকায় এ ছ্যাঁকা রুটি এক নম্বর তালিকায় ছিল। বর্তমানে আধুনিক খাবার দাবার আসার কারণে মানুষের খাবারের তালিকায়

কিছুটা পরিবর্তন আসায় ছ্যাঁকা রুটি অল্প একটু পিছনে পড়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তবে আনুপাতিক হারে জন সংখ্যা বৃদ্ধিতে সেই ধারাবাহিকতায় এর পরিপূরক হিসেবে এখানো সমালতালে চলছে শ্রীনগর বাজারে ছ্যাঁকা রুটি ।

শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের মানুষ ছাড়াও এর আশপাশের উপজেলার মানুষেরা প্রতিদিন সুস্বাদু ছ্যাঁকা রুটি খেতে এখানে ছুটে আসে। এখানে ছ্যাঁকা রুটি বেশ কদর রয়েছে সবার কাছে।

আগের তুলনায় ছ্যাকা রুটির দোকানের সংখ্যা এখানে কম হলেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ছ্যাঁকা রুটির। বর্তমানে শ্রীনগর বাজারে তিনটি ছ্যাঁকা রুটির দোকান রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে ছ্যকা রুটির দোকান। শুক্রবার দিন জুম্মার নামাজের আগে এখানকার ছ্যাঁকা রুটির দোকান বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যান্য সাধারণ রুটির চাইতে এখানকার এ ছ্যাঁকা রুটিটি অনেকটা বড় আকারে হয়ে থাকে। ময়দা, তেল, পানি ও লবণ দিয়ে তৈরি হয় ছ্যাঁকা রুটি। প্রতিটি ছ্যাঁকা রুটি প্রায় ১৬০ গ্রামের মতো ওজন হয়ে থাকে বলে এখাকার দোকানদার অভিমত প্রকাশ করেছেন।

এখানকার প্রতিটি ছ্যাঁকা রুটি ১০ টাকা করে বিক্রি হয়ে থাকে। আর কেজি হিসেবে ১ কেজির দাম নেয়া হয় ৬০ টাকা। ১ কেজিতে ৫ থেকে ৬টি রুটি পাওয়া যায়। এখানকার বেশিরভাগ লোক এই ছ্যাঁকা রুটি বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, সন্দেশ ও চা দিয়ে খেতে ভালবাসেন বলে জানা গেছে।

এছাড়াও আবার কেউ কেউ এই ছ্যাঁকা রুটি ডাল কিংবা বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে খেয়ে থাকেন। সকাল থেকে ৩ টার মধ্যে যে কোন সময় রুটি পাওয়া যায়।
এক সময় উপজেলার শ্রীনগর বাজারে পাশের খাল দিয়ে চলত ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে লঞ্চ, স্টিমার,

নৌকাসহ নানা ধরনের পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করতো। আর এসব পরিবহনে ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের পণ্য সামগ্রী নিয়ে আসতেন শ্রীনগর বাজারে। তখন ঢাকা যেতে সময় লাগত প্রায় ৬/৭ ঘন্টা। পণ্য সামাগ্রী ক্রয় করতে যাওয়ার পথে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ অধিকংশ সময়ই সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন ছ্যাঁকা রুটি ও মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য।

শ্রীনগর বাজারে ছ্যাঁকা রুটির দোকানদার সুনিল (৪৮), বিজয় (৬০) ও সানি (৩০) এর কাছে ছ্যাঁকা রুটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানায়, তাদের পূর্ব পুরুষেরা ছ্যাঁকা রুটির ব্যবসা করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় তারা এখন এ বাজারে ছ্যাঁকা রুটির ব্যবসা করছেন। পূর্ব পুরুষের ব্যবসা তারা কোনভাবেই ছাড়তে পারছেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here