টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল্লাপুরে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ

164887006_1192516251205733_8691773046997697771_nনিজস্ব প্রতিবেদক:

টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল্লাহপুর এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈত্রিক বসতভিটা ও মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর খোদ আব্দুল্লাপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নিলকৃষ্ণ ঘোষের বিরুদ্ধে হচ্ছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাপুর এলাকার নিতাই চন্দ্র দাসের পৈত্রিক বসতবাড়ি ও মন্দির দখলের চেষ্টা চালায় নিলকৃষ্ণ ঘোষ ও স্থানীয় ইসকনের লোকজনরা।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত নিতাই চন্দ্র দাস বাবাজীর সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নীলকৃষ্ণ ঘোষ, চন্দন কুন্ডু, রাম ঘোষ, রতন ঘোষ, উত্তম ঘোষ ও নিখিল ঘোষ গ্রুপের মধ্যে বসতভিটা ও মন্দিরের জমি নিয়ে মামলা চলছে বলে শোনা যাচ্ছে।

পরে মামলা চলাকালিন সময় সুপ্রিম কোর্ট এ জমির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। কিন্তু বুধবার সকালে নীলকৃষ্ণ পক্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইসকনের লোকজন দিয়ে এ জমি দখলের চেষ্টা চালায়।

এছাড়া আদালতের নিষেধাজ্ঞা করা সাইনবোর্ড কালি দিয়ে মুছে দেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে নিতাই চন্দ্র বলেন, আব্দুল্লাপুর মৌজার সি.এস ও এস.এ ১২৭নং এবং আর.এস ১৩১ নম্বর দাগের ৪৬ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর যাবত মামলা চলছে। মুন্সীগঞ্জ দায়রা জজ আদালতে আমার পক্ষে মামলার রায় হলেও হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেয়।

পরে সুপ্রিম কোর্টে আমি আপিল করলে আপিল বিভাগ এ জমিতে সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ নীল কৃষ্ণ ঘোষ নারায়ণগঞ্জ থেকে ইসকনের লোকজন দিয়ে এ জমি ও আমাদের পারিবারিক মন্দির দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে আমার ও আমার পরিবারের প্রাণনাশের হুমকি-দমকি প্রদান করছে। বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্টে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতাধিক অবৈধ অস্ত্রধারি লোকজন নিয়ে জমির ওপর ইট-বালু দেয়াল ও টয়লেট তৈরির চেষ্টা চালায়।

অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে আব্দুল্লাপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নীল কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, নিতাই দীর্ঘ বছর ধরে মন্দিরের জমি ভোগ দখল করছে। এখন সে মন্দিরের জমি পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে দাবি করছেন।

মন্দির কমিটি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলে হাইকোর্ট কমিটির পক্ষে রায় দেয়। পরবর্তীতে সে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ সুযোগে নিতাই মন্দিরের পূজা আর্চনা বন্ধের পায়তারা করছে।

আব্দুল্লাপুর ইসকনের দায়িত্বে থাকা দিনেশ্বর গৌর দাস বলেন, মন্দির কমিটি এখানে পূজা আর্চনা করার জন্য আমাদের দিয়েছেন। আমরা অনেক দিন যাবত এখানে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বুধবার সকালে এসে দেখি মন্দিরে তালা দেওয়া।

পরে মন্দির কমিটি ও স্থানীয় লোকজন তালা ভেঙে আমাদের জন্য উন্মক্ত করে দেন। আমাদের কাজ মানুষের সেবা ও পূজা আর্চনা করা, মন্দির দখল করা না।

টঙ্গীবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ হারুন অর রশীদ বলেন, অনেকদিন আগে নিতাই চন্দ্র দাশ আদালতের একটি নিষেধাজ্ঞার কাগজ দিয়ে ছিলো। পরে সে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। এ নিয়ে সকালে ঝাঁমেলা হয়েছে কী না আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here